রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দখল ও দূষণ রোধ করে স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং হারানো নদী পুনরুদ্ধারে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘কেন্দ্রীয় সেল’ গঠন করেছে সরকার। ৩৭ সদস্যবিশিষ্ট এই সেলের আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সেল গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদীসহ সংশ্লিষ্ট খাল ও নালাগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং দখলমুক্ত করাই এই সেলের মূল লক্ষ্য।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় এই সেলের উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। সেলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
এই উচ্চপর্যায়ের সেলে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার প্রতিনিধি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজউক, বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধানরা।
এ ছাড়া ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, তিন জেলার জেলা প্রশাসক এবং বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও ট্যানারি মালিক সমিতির সভাপতিরাও এই সেলের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।
কেন্দ্রীয় সেলের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে তিনটি পৃথক সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেগুলোর কাজের পরিধিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাব-কমিটি-১ শিল্পবর্জ্যসহ সব ধরনের বর্জ্যের উৎসমুখ নিয়ন্ত্রণ করবে।
সাব-কমিটি-২ খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, নদী পুনরুদ্ধার ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখার দায়িত্ব পালন করবে। সাব-কমিটি-৩ নদীর তলদেশে জমে থাকা দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী বর্জ্য অপসারণ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সেল প্রতি মাসে তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে এবং তা নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবে। এ ছাড়া বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজও পর্যালোচনা ও সমন্বয় করবে এই সেল।
পরিবেশবাদীরা সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে তারা আশা করছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার যেন এই সেল নদীগুলোকে প্রকৃতপক্ষেই দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দখল ও দূষণ রোধ করে স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং হারানো নদী পুনরুদ্ধারে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘কেন্দ্রীয় সেল’ গঠন করেছে সরকার। ৩৭ সদস্যবিশিষ্ট এই সেলের আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সেল গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদীসহ সংশ্লিষ্ট খাল ও নালাগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং দখলমুক্ত করাই এই সেলের মূল লক্ষ্য।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় এই সেলের উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। সেলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
এই উচ্চপর্যায়ের সেলে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার প্রতিনিধি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজউক, বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধানরা।
এ ছাড়া ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, তিন জেলার জেলা প্রশাসক এবং বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও ট্যানারি মালিক সমিতির সভাপতিরাও এই সেলের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।
কেন্দ্রীয় সেলের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে তিনটি পৃথক সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেগুলোর কাজের পরিধিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাব-কমিটি-১ শিল্পবর্জ্যসহ সব ধরনের বর্জ্যের উৎসমুখ নিয়ন্ত্রণ করবে।
সাব-কমিটি-২ খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, নদী পুনরুদ্ধার ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখার দায়িত্ব পালন করবে। সাব-কমিটি-৩ নদীর তলদেশে জমে থাকা দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী বর্জ্য অপসারণ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সেল প্রতি মাসে তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে এবং তা নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবে। এ ছাড়া বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজও পর্যালোচনা ও সমন্বয় করবে এই সেল।
পরিবেশবাদীরা সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে তারা আশা করছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার যেন এই সেল নদীগুলোকে প্রকৃতপক্ষেই দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন