সংবাদ

ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়াল দেশের খেলাপি ঋণ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ এএম

ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়াল দেশের খেলাপি ঋণ

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড় যেন কোনোভাবেই কমছে না, বরং দিন দিন তা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ভেঙে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ দেশের পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মার্চ মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এক লাফে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ত্রৈমাসিক ব্যবধানেই নয়, দীর্ঘমেয়াদি চিত্রেও পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি লক্ষ করা গেছে। বিগত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি বছরের মাত্র প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। এছাড়া, গত বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা, যার ফলে এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে খেলাপি ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ১২৭ কোটি টাকা।

বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের এখন প্রায় ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। অথচ গত মার্চ মাস শেষে এই হার ছিল সামান্য কম, অর্থাৎ ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতের এই ভঙ্গুর দশা ও ঋণের মান নিয়ে অর্থনীতিবিদরা শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। বড় অঙ্কের ঋণ নিয়মবহির্ভূতভাবে অনাদায়ী থাকা এবং বারবার ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের নীতিগত সুযোগ দেওয়ার পরও খেলাপি ঋণ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কঠোর সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার কথা বললেও মাঠপর্যায়ে এখনো তার কোনো দৃশ্যমান ও ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত সুশাসন ও কঠোর নজরদারির অভাবের কারণে ব্যাংকিং খাতের এই ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়াল দেশের খেলাপি ঋণ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড় যেন কোনোভাবেই কমছে না, বরং দিন দিন তা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ভেঙে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ দেশের পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মার্চ মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এক লাফে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ত্রৈমাসিক ব্যবধানেই নয়, দীর্ঘমেয়াদি চিত্রেও পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি লক্ষ করা গেছে। বিগত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি বছরের মাত্র প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। এছাড়া, গত বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা, যার ফলে এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে খেলাপি ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ১২৭ কোটি টাকা।

বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের এখন প্রায় ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। অথচ গত মার্চ মাস শেষে এই হার ছিল সামান্য কম, অর্থাৎ ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতের এই ভঙ্গুর দশা ও ঋণের মান নিয়ে অর্থনীতিবিদরা শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। বড় অঙ্কের ঋণ নিয়মবহির্ভূতভাবে অনাদায়ী থাকা এবং বারবার ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের নীতিগত সুযোগ দেওয়ার পরও খেলাপি ঋণ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কঠোর সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার কথা বললেও মাঠপর্যায়ে এখনো তার কোনো দৃশ্যমান ও ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত সুশাসন ও কঠোর নজরদারির অভাবের কারণে ব্যাংকিং খাতের এই ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত