সংসদ অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের নীতিগত নানা মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ’ প্রতিরোধে সবাইকে এক কাতারে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের ১৪৭ বিধিতে উপস্থাপিত এক সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ আরিফ সরকারকে গত ৬ মে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মোবারক মণ্ডলকে ২৭ মে কাতার থেকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লার আলোচিত তনু হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহিন আলমের অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করার বিষয়টিও তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ প্রমাণ করে পলাতক আসামিদের বিষয়ে সরকার ইন্টারপোল, বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে আত্মগোপনে থাকা যেকোনো অপরাধীকে আইনি আওতায় আনতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দুবাই থেকে বেনজীরকে ফেরানোর প্রসঙ্গে মীর আহমাদ বিন কাসেমের মন্তব্যের জবাবে তিনি জানান, শুধু এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়ে কাউকে হুট করে ফিরিয়ে আনা যায় না, এর জন্য নির্দিষ্ট আইনি ও পারস্পরিক আইনি সহায়তা (এমএলএ) প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "সরকার-টু-সরকার কথা বলে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-টু-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কথা বলে। সব বিষয়ে দুবাই ছুটে গেলে হয় না, লিগ্যাল প্রসিডিউর আছে।"
এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি জাতিসংঘে যাওয়ার আগে দুবাই সফর করে সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইউএই কর্তৃপক্ষও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের আশ্বাস দিয়েছে।
অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমরা কাউকে ধরে-বেঁধে ফাঁসি দিতে পারি না। একজন অপরাধী যত বড় অপরাধীই হোক, তাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিতে হবে এবং আদালতের রায় অনুসারে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। এই বিচারিক প্রক্রিয়া একটু লম্বা হয়। আইনের হাত যেমন লম্বা, বিচারিক প্রক্রিয়াটাও অনেক লম্বা। সুতরাং আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে।"
সংসদে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইন নিয়ে বিরোধীদলের আপত্তির জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বর্তমান আইনে ভুক্তভোগীদের সরাসরি আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে 'এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স' বা গুম শব্দটি চিরতরে মুছে ফেলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি সরকারের বড় প্রতিশ্রুতি ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনার শেষভাগে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রাজপথে বিরোধীদের প্রতিবাদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সংসদে মতপার্থক্য থাকলেও স্বৈরাচারী মনোভাব প্রতিরোধের জায়গায় পুরো জাতিকে এক থাকতে হবে। তিনি বলেন, "সরকারিদল, বিরোধীদল সবাই মিলে আমাদের একটাই অঙ্গীকার হবে, প্রতিশ্রুতি হবে। আমরা এখানেই বিতর্ক করবো, তর্ক করবো, দ্বিমত হবো, বহুমত হবো। কিন্তু ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের প্রশ্ন যেখানেই আসবে, তা প্রতিরোধের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।"
পরিশেষে তিনি জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশের গণতন্ত্রের পতাকাকে সবসময় সমুন্নত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংসদ অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের নীতিগত নানা মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ’ প্রতিরোধে সবাইকে এক কাতারে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের ১৪৭ বিধিতে উপস্থাপিত এক সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ আরিফ সরকারকে গত ৬ মে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মোবারক মণ্ডলকে ২৭ মে কাতার থেকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লার আলোচিত তনু হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহিন আলমের অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করার বিষয়টিও তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ প্রমাণ করে পলাতক আসামিদের বিষয়ে সরকার ইন্টারপোল, বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে আত্মগোপনে থাকা যেকোনো অপরাধীকে আইনি আওতায় আনতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দুবাই থেকে বেনজীরকে ফেরানোর প্রসঙ্গে মীর আহমাদ বিন কাসেমের মন্তব্যের জবাবে তিনি জানান, শুধু এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়ে কাউকে হুট করে ফিরিয়ে আনা যায় না, এর জন্য নির্দিষ্ট আইনি ও পারস্পরিক আইনি সহায়তা (এমএলএ) প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "সরকার-টু-সরকার কথা বলে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-টু-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কথা বলে। সব বিষয়ে দুবাই ছুটে গেলে হয় না, লিগ্যাল প্রসিডিউর আছে।"
এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি জাতিসংঘে যাওয়ার আগে দুবাই সফর করে সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইউএই কর্তৃপক্ষও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের আশ্বাস দিয়েছে।
অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমরা কাউকে ধরে-বেঁধে ফাঁসি দিতে পারি না। একজন অপরাধী যত বড় অপরাধীই হোক, তাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিতে হবে এবং আদালতের রায় অনুসারে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। এই বিচারিক প্রক্রিয়া একটু লম্বা হয়। আইনের হাত যেমন লম্বা, বিচারিক প্রক্রিয়াটাও অনেক লম্বা। সুতরাং আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে।"
সংসদে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইন নিয়ে বিরোধীদলের আপত্তির জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বর্তমান আইনে ভুক্তভোগীদের সরাসরি আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে 'এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স' বা গুম শব্দটি চিরতরে মুছে ফেলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি সরকারের বড় প্রতিশ্রুতি ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনার শেষভাগে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রাজপথে বিরোধীদের প্রতিবাদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সংসদে মতপার্থক্য থাকলেও স্বৈরাচারী মনোভাব প্রতিরোধের জায়গায় পুরো জাতিকে এক থাকতে হবে। তিনি বলেন, "সরকারিদল, বিরোধীদল সবাই মিলে আমাদের একটাই অঙ্গীকার হবে, প্রতিশ্রুতি হবে। আমরা এখানেই বিতর্ক করবো, তর্ক করবো, দ্বিমত হবো, বহুমত হবো। কিন্তু ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের প্রশ্ন যেখানেই আসবে, তা প্রতিরোধের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।"
পরিশেষে তিনি জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশের গণতন্ত্রের পতাকাকে সবসময় সমুন্নত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন