সংবাদ

ফুলছড়ির চরে আসছে আধুনিক নাগরিক সুবিধা


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

ফুলছড়ির চরে আসছে আধুনিক নাগরিক সুবিধা
ছবি : সংবাদ

নদীভাঙন ও বন্যায় বিপর্যস্ত গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। সরকারের ‘আমার গ্রাম–আমার শহর’ ধারণার আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) যৌথ উদ্যোগে নেওয়া পাইলট গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পে ফুলছড়ি ইউনিয়নকে চরাঞ্চল ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১৫টি গ্রামে এ পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণে প্রায় ১৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। নদীভাঙনপ্রবণ মানুষের আবাসনে ১১০ কোটি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ৬২ কোটি এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে ৪৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাটবাজার, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সৌরবিদ্যুৎ ও সড়কবাতির ব্যবস্থাও থাকছে।

ফুলছড়ির চরাঞ্চলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আধুনিক ঘাট ও জেটি এবং চলাচলের জন্য সাবমার্সিবল সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। মরিচ, ভুট্টা ও বাদাম সংরক্ষণে শেড ও কালেকশন সেন্টার, কমিউনিটি ক্লিনিকের উন্নয়ন এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

ফুলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘সড়ক পাকাকরণ ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি চরাঞ্চলের জন্য সময়োপযোগী উদ্যোগ। চরের মানুষকে নাগরিক সুবিধার জন্য আর দূরে যেতে হবে না।’ উন্নয়ন গবেষক এম আবদুস সালাম বলেন, ‘যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রকল্পটি চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রামকে নগরে পরিণত করা নয়, বরং গ্রামের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে শহরের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। এটি সফল হলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি শহরমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফুলছড়ির চরে আসছে আধুনিক নাগরিক সুবিধা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নদীভাঙন ও বন্যায় বিপর্যস্ত গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। সরকারের ‘আমার গ্রাম–আমার শহর’ ধারণার আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) যৌথ উদ্যোগে নেওয়া পাইলট গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পে ফুলছড়ি ইউনিয়নকে চরাঞ্চল ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১৫টি গ্রামে এ পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণে প্রায় ১৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। নদীভাঙনপ্রবণ মানুষের আবাসনে ১১০ কোটি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ৬২ কোটি এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে ৪৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাটবাজার, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সৌরবিদ্যুৎ ও সড়কবাতির ব্যবস্থাও থাকছে।

ফুলছড়ির চরাঞ্চলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আধুনিক ঘাট ও জেটি এবং চলাচলের জন্য সাবমার্সিবল সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। মরিচ, ভুট্টা ও বাদাম সংরক্ষণে শেড ও কালেকশন সেন্টার, কমিউনিটি ক্লিনিকের উন্নয়ন এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

ফুলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘সড়ক পাকাকরণ ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি চরাঞ্চলের জন্য সময়োপযোগী উদ্যোগ। চরের মানুষকে নাগরিক সুবিধার জন্য আর দূরে যেতে হবে না।’ উন্নয়ন গবেষক এম আবদুস সালাম বলেন, ‘যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রকল্পটি চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রামকে নগরে পরিণত করা নয়, বরং গ্রামের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে শহরের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। এটি সফল হলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি শহরমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত