শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিতে দলের একাংশের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে অবস্থান করা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভারতের কলকাতার নিউ টাউনে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনের বাসায় এক বৈঠকে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যেই এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেখানে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন নাসিম ও মাহমুদুল হাসান রিপনসহ ৮-১০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে তো তিনি (শেখ সেলিম) নষ্ট করেছেন। দলের বিভিন্ন স্তরে তার জন্য বিতর্কিত লোকজন প্রবেশ করেছে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি কোনো সময় ভালো ব্যবহার করেছেন—এটা তো কেউ দেখেনি। গত পনেরো বছরে তদবির ছাড়া কোনো দলীয় কাজে তাকে পাওয়া যায়নি।’
আরেকজন নেতা জানান, শেখ হেলালের বাসায় এই জমায়েত মূলত জাহাঙ্গীর কবির নানককে ‘বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে তুলে ধরার জন্য। ওই নেতা বলেন, ‘পার্টিতে শেখ সেলিমকে নেতাকর্মীরা দেখেনি। আর নানক ভাই তো এই পার্টিকে ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। এটাই আমরা উনার কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি, নেত্রী যেন বিষয়টায় গুরুত্ব দেয়।’
শেখ হেলাল সবার বক্তব্য শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরার ও সমাধানের চেষ্টা করার আশ্বাস দেন বলে সূত্র জানিয়েছে। শেখ ফজলুল করিম সেলিম শেখ হাসিনার আপন ফুফাতো ভাই। আর শেখ হেলাল উদ্দিন বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসেরের ছেলে, অর্থাৎ শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই।
আত্মীয়তার কারণে শেখ সেলিমের ব্যাপারে দলের একটি অংশের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস রয়েছে। তার বড় ছেলে শেখ ফজলে ফাহিমের বিয়ে হয়েছে আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের মেয়ে ন্যান্সি জাহারার সঙ্গে, যার ভাই ববি হাজ্জাজ বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। ছোট ছেলে শেখ ফজলে নাঈমের বিয়ে হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মেয়ের সঙ্গে।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তে দলের আরেকটি অংশ খুশি। তারা শেখ সেলিমের বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। তবে শেখ হাসিনার উত্তরসূরি নিয়ে এই বিভাজন এড়াতে দলীয় গঠনতন্ত্রই বলে দিচ্ছে সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্ব করার কথা—মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। সূত্র: বিডিনিউজ।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিতে দলের একাংশের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে অবস্থান করা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভারতের কলকাতার নিউ টাউনে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনের বাসায় এক বৈঠকে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যেই এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেখানে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন নাসিম ও মাহমুদুল হাসান রিপনসহ ৮-১০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে তো তিনি (শেখ সেলিম) নষ্ট করেছেন। দলের বিভিন্ন স্তরে তার জন্য বিতর্কিত লোকজন প্রবেশ করেছে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি কোনো সময় ভালো ব্যবহার করেছেন—এটা তো কেউ দেখেনি। গত পনেরো বছরে তদবির ছাড়া কোনো দলীয় কাজে তাকে পাওয়া যায়নি।’
আরেকজন নেতা জানান, শেখ হেলালের বাসায় এই জমায়েত মূলত জাহাঙ্গীর কবির নানককে ‘বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে তুলে ধরার জন্য। ওই নেতা বলেন, ‘পার্টিতে শেখ সেলিমকে নেতাকর্মীরা দেখেনি। আর নানক ভাই তো এই পার্টিকে ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। এটাই আমরা উনার কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি, নেত্রী যেন বিষয়টায় গুরুত্ব দেয়।’
শেখ হেলাল সবার বক্তব্য শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরার ও সমাধানের চেষ্টা করার আশ্বাস দেন বলে সূত্র জানিয়েছে। শেখ ফজলুল করিম সেলিম শেখ হাসিনার আপন ফুফাতো ভাই। আর শেখ হেলাল উদ্দিন বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসেরের ছেলে, অর্থাৎ শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই।
আত্মীয়তার কারণে শেখ সেলিমের ব্যাপারে দলের একটি অংশের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস রয়েছে। তার বড় ছেলে শেখ ফজলে ফাহিমের বিয়ে হয়েছে আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের মেয়ে ন্যান্সি জাহারার সঙ্গে, যার ভাই ববি হাজ্জাজ বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। ছোট ছেলে শেখ ফজলে নাঈমের বিয়ে হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মেয়ের সঙ্গে।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তে দলের আরেকটি অংশ খুশি। তারা শেখ সেলিমের বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। তবে শেখ হাসিনার উত্তরসূরি নিয়ে এই বিভাজন এড়াতে দলীয় গঠনতন্ত্রই বলে দিচ্ছে সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্ব করার কথা—মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। সূত্র: বিডিনিউজ।

আপনার মতামত লিখুন