পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা দ্রুত জাতীয় সংসদকে জানানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
একই সঙ্গে অভিযুক্ত সাবেক এই কর্মকর্তা কীভাবে দুবাইয়ে জামিন পেলেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের ১৪৭ বিধিতে আনা একটি সাধারণ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্পিকার এই নির্দেশ দেন।
সংসদে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দেওয়া হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনে তা গৃহীত হয়। প্রস্তাব পাসের পর সিদ্ধান্ত জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "আমার মনে হয় হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে, হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। অতএব এই প্রস্তাবটি গৃহীত হলো। সংসদের অভিমত এই যে, বহু ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ কীভাবে দুবাইতে জামিন পেলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই জাতীয় সংসদকে অবহিত করবেন।"
স্পিকার আরও বলেন, "এই ঘৃণ্য অপরাধীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সে সম্পর্কে সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে এবং প্রতিটি সংসদ সদস্যকে যথাসময়ে, শিগগিরই অবহিত করবেন। অর্থাৎ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যত শিগগির সম্ভব বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, এটি অল্প সময়ের মধ্যে এই সংসদকে অবহিত করবেন।"
এর আগে সাধারণ প্রস্তাবটি উত্থাপন করে সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম সাবেক এই পলাতক পুলিশ প্রধানকে দ্রুত দেশে এনে বিচারে সোপর্দ করার জোর দাবি জানান। প্রস্তাবটির ওপর আলোচনার অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন, বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার বিন্দুমাত্র শিথিলতা দেখাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "তার বর্তমান অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, কথিত একাধিক পাসপোর্টের অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ শনাক্ত ও আইনানুগভাবে জব্দ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সরকার আইনের শাসন, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যাচাইহীন তথ্যের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সম্ভাব্য সব আইনগত, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পুলিশি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা হয়েছে।"
একই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অবহিত করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে দুবাই সফর করেন এবং সেখানে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেনজীরকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনগত প্রক্রিয়া বজায় রেখে প্রত্যর্পণে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা দ্রুত জাতীয় সংসদকে জানানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
একই সঙ্গে অভিযুক্ত সাবেক এই কর্মকর্তা কীভাবে দুবাইয়ে জামিন পেলেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের ১৪৭ বিধিতে আনা একটি সাধারণ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্পিকার এই নির্দেশ দেন।
সংসদে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দেওয়া হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনে তা গৃহীত হয়। প্রস্তাব পাসের পর সিদ্ধান্ত জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "আমার মনে হয় হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে, হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। অতএব এই প্রস্তাবটি গৃহীত হলো। সংসদের অভিমত এই যে, বহু ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ কীভাবে দুবাইতে জামিন পেলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই জাতীয় সংসদকে অবহিত করবেন।"
স্পিকার আরও বলেন, "এই ঘৃণ্য অপরাধীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সে সম্পর্কে সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে এবং প্রতিটি সংসদ সদস্যকে যথাসময়ে, শিগগিরই অবহিত করবেন। অর্থাৎ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যত শিগগির সম্ভব বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, এটি অল্প সময়ের মধ্যে এই সংসদকে অবহিত করবেন।"
এর আগে সাধারণ প্রস্তাবটি উত্থাপন করে সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম সাবেক এই পলাতক পুলিশ প্রধানকে দ্রুত দেশে এনে বিচারে সোপর্দ করার জোর দাবি জানান। প্রস্তাবটির ওপর আলোচনার অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন, বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার বিন্দুমাত্র শিথিলতা দেখাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "তার বর্তমান অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, কথিত একাধিক পাসপোর্টের অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ শনাক্ত ও আইনানুগভাবে জব্দ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সরকার আইনের শাসন, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যাচাইহীন তথ্যের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সম্ভাব্য সব আইনগত, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পুলিশি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা হয়েছে।"
একই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অবহিত করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে দুবাই সফর করেন এবং সেখানে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেনজীরকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনগত প্রক্রিয়া বজায় রেখে প্রত্যর্পণে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন