সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় তেলনির্ভর উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে সরকার


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ এএম

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় তেলনির্ভর উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে  সরকার
ছবি : সংগৃহীত

গ্যাস ও কয়লার ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে, আর এই পরিস্থিতিতে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার তুলনামূলক ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। এ লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের কেন্দ্রগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

এই লক্ষ্য পূরণে ৫৩টি কেন্দ্রের জন্য মাসিক প্রায় দুই লাখ চার হাজার টন ফার্নেস অয়েলের চাহিদা জানিয়েছে পিডিবি। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর বিপরীতে এক লাখ ছত্রিশ হাজার টন সরবরাহের প্রস্তুতি নিয়েছে, যা ধীরে ধীরে ছাড় করা হবে।

জ্বালানি কেনার খরচ মেটাতে অর্থ বিভাগ গত সপ্তাহে পিডিবিকে ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার ছয়শ নিরানব্বই কোটি টাকা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কেন্দ্রে বিতরণ করা হয়েছে, বাকি এক হাজার তিনশ এক কোটি টাকা জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

কিছু বেসরকারি কেন্দ্র নিজেরাই ফার্নেস অয়েল আমদানির উদ্যোগ নিলেও এসব চালান পৌঁছাতে দশ থেকে পনেরো দিন সময় লাগবে বলে জানা গেছে, ফলে তাৎক্ষণিক সংকট নিরসনে এগুলোর প্রভাব সীমিত থাকবে।

৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাতে থাকা সরবরাহযোগ্য তেলের মজুত ছিল মাত্র চৌদ্দ হাজার সাতশ একান্ন টন। বাকি মাসে আরও এক লাখ টন আমদানি ও পঁচিশ হাজার টন স্থানীয় উৎস থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা থাকলেও, চাহিদার তুলনায় পঁয়ষট্টি থেকে সত্তর হাজার টনের ঘাটতি থেকে যেতে পারে। একই সময়ে শিল্প খাতের চাহিদাও বিপিসিকে সামলাতে হচ্ছে।

সংকট মোকাবিলার আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে আগে বন্ধ থাকা পাঁচটি তেলভিত্তিক কেন্দ্র পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যেখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের বিনিময়ে পরবর্তীতে অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।

গ্যাস বা কয়লার তুলনায় ফার্নেস অয়েলে উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় এই নির্ভরতা বাড়লে পিডিবির ক্রয়ব্যয় এবং সরকারের ভর্তুকির বোঝা দুটোই বাড়বে। ইতিমধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকায়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি ছিল এক হাজার সাতশ তিয়াত্তর থেকে দুই হাজার আটশ চুয়াল্লিশ মেগাওয়াট পর্যন্ত, আর সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা দেয় বেলা তিনটার দিকে - তখন ষোলো হাজার আঠারো মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল তেরো হাজার একশ চুয়াত্তর মেগাওয়াট। 

পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেশজুড়ে দুই হাজার তিনশ ঊনত্রিশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও তা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর চাহিদা মেটাতে পারেনি। বিকেল চারটার হিসাবে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে চার হাজার পাঁচশ আঠাশ মেগাওয়াট, তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে এক হাজার আটশ একষট্টি মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে চার হাজার সাতশ চব্বিশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, আর ভারত থেকে এসেছে দুই হাজার একশ একান্ন মেগাওয়াট।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় তেলনির্ভর উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গ্যাস ও কয়লার ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে, আর এই পরিস্থিতিতে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার তুলনামূলক ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। এ লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের কেন্দ্রগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

এই লক্ষ্য পূরণে ৫৩টি কেন্দ্রের জন্য মাসিক প্রায় দুই লাখ চার হাজার টন ফার্নেস অয়েলের চাহিদা জানিয়েছে পিডিবি। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর বিপরীতে এক লাখ ছত্রিশ হাজার টন সরবরাহের প্রস্তুতি নিয়েছে, যা ধীরে ধীরে ছাড় করা হবে।

জ্বালানি কেনার খরচ মেটাতে অর্থ বিভাগ গত সপ্তাহে পিডিবিকে ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার ছয়শ নিরানব্বই কোটি টাকা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কেন্দ্রে বিতরণ করা হয়েছে, বাকি এক হাজার তিনশ এক কোটি টাকা জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

কিছু বেসরকারি কেন্দ্র নিজেরাই ফার্নেস অয়েল আমদানির উদ্যোগ নিলেও এসব চালান পৌঁছাতে দশ থেকে পনেরো দিন সময় লাগবে বলে জানা গেছে, ফলে তাৎক্ষণিক সংকট নিরসনে এগুলোর প্রভাব সীমিত থাকবে।

৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাতে থাকা সরবরাহযোগ্য তেলের মজুত ছিল মাত্র চৌদ্দ হাজার সাতশ একান্ন টন। বাকি মাসে আরও এক লাখ টন আমদানি ও পঁচিশ হাজার টন স্থানীয় উৎস থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা থাকলেও, চাহিদার তুলনায় পঁয়ষট্টি থেকে সত্তর হাজার টনের ঘাটতি থেকে যেতে পারে। একই সময়ে শিল্প খাতের চাহিদাও বিপিসিকে সামলাতে হচ্ছে।

সংকট মোকাবিলার আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে আগে বন্ধ থাকা পাঁচটি তেলভিত্তিক কেন্দ্র পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যেখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের বিনিময়ে পরবর্তীতে অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।

গ্যাস বা কয়লার তুলনায় ফার্নেস অয়েলে উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় এই নির্ভরতা বাড়লে পিডিবির ক্রয়ব্যয় এবং সরকারের ভর্তুকির বোঝা দুটোই বাড়বে। ইতিমধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকায়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি ছিল এক হাজার সাতশ তিয়াত্তর থেকে দুই হাজার আটশ চুয়াল্লিশ মেগাওয়াট পর্যন্ত, আর সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা দেয় বেলা তিনটার দিকে - তখন ষোলো হাজার আঠারো মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল তেরো হাজার একশ চুয়াত্তর মেগাওয়াট। 

পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেশজুড়ে দুই হাজার তিনশ ঊনত্রিশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও তা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর চাহিদা মেটাতে পারেনি। বিকেল চারটার হিসাবে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে চার হাজার পাঁচশ আঠাশ মেগাওয়াট, তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে এক হাজার আটশ একষট্টি মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে চার হাজার সাতশ চব্বিশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, আর ভারত থেকে এসেছে দুই হাজার একশ একান্ন মেগাওয়াট।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত