সংবাদ

পঙক্তিমালা

এ সপ্তাহের কবিতা


প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

এ সপ্তাহের কবিতা
ছবিসূত্র : ইন্টারনেট

বিভাজক 
গোলাম কিবরিয়া পিনু

বিভাজনে জনে জনে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছি!

         দ্বিপ্রহরে কার প্রহরী হচ্ছি?

প্রজননেও আমরা এক হতে চাইছিনে!

কী মাতাল হাওয়া এলো!

      মাতাল হয়ে পড়ছি একেকজন!

দিগভ্রমে দিগদর্শন হারিয়ে ফেলছি!

একই সঙ্গে একই সড়কে হাঁটতে পারছিনে!

একেকজন আলাদা আলাদা পিঁড়িতে বসে

        কুয়ার পাড়ে গোসল করছি!

চাইছি— পাহাড়ও খণ্ড খণ্ড হয়ে যাক

প্রশস্ত সড়কগুলো অন্ধগলি হয়ে যাক

               নদীও পুষ্করিণী হয়ে যাক!

সামাজিক ঐকবোধ যেন না থাকে

       কেউ যেন কারো হাত না ধরি!

ভেদ ও বিভেদে—

      নিজেরা কাটাকাটি করি— খণ্ডিত হই!

একে অপরকে ধসিয়ে ফেলি

               থেঁতো ও গুঁড়ো করি!

নিজেদের গৌরবের ইতিহাসও—

ছিঁড়ে ফেলি— টুকরো টুকরো করি!

নিজেরা নিজেদের বিভাজক হয়ে উঠি

ডুবো ডুবো হয়ে ডুবতে থাকি— তলিয়ে যাই!


স্বগতোক্তি: আট

সুশান্ত মজুমদার

করতালি শুনে জেগে উঠি আমি

বিশাল গাছের নিচে মজবুত মঞ্চ থেকে

নামের ডাক পেয়ে হেঁটে যাই আমি। 

মুখর তালির শব্দে জব্দ হয়ে ঝরে পড়ে পাতা

                             বাতাস পীড়িত হয়

সামিয়ানার কাপড় বেয়ে খর রোদ নামে

পশ্চিমে পুরোনো কাঠের সিঁড়ির

উঁচু সাদা ভবনের কার্নিশে বসে

ইতিহাস মহাজন বিরল পৃষ্ঠা উল্টে যায়

নিজের ভেতরের প্রেরণার বাঁশি তাই চুপ হয়ে থাকে

মনে হয় প্রতিটি কদম নিশ্চল খুব।

জানি, পরমায়ু ব্যয় করে ঘিলুর তৈরি যা কিছু ফসল

কালের প্রহার সহে যদি না থাকে তাজা সাময়িক সব

ধীরে ধীরে হারাবে পুরনো গন্ধ ধরা ছাউনির নিচে

সারাক্ষণ বর্তমান বড়ই কঠিন

সহজ সাধ্য না মহিমার কাজল আদায়

তাই যেতে যেতে মঞ্চের দিকে মন্থর হতে থাকে পা।

হে বহমান কাল, তোমার ষ্পর্শ স্বায়ী না-হলে

এই করতালি, ওই মঞ্চ, অপেক্ষমাণ গুরুজন

          টেবিলের মনোহর ক্রেস্ট

এই যে বর্তমান স্বাগতম ছবি 

                    হারাবে লোক-চোখ থেকে

ঘোলা গ্রাসের ভেতর যাবে সব বিস্মৃতির নির্মোহ টানে।



শরৎ

জিন্নাহ চৌধুরী

শরৎ নেমেছে

কাশের ভিতর সাদা এক নীরবতা,

দূরের নদী যেন নিজের কাছেই

কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেছে।

জানালার পাশে এক নারী

চুলে সন্ধ্যার ছায়া,

চোখের ভিতর ভাঙা কোনো ঋতু;

সে জানে, কিছু অপেক্ষা

কখনো মানুষের কাছে ফিরে আসে না।

আকাশ আজ অকারণে নীল,

কাশফুলগুলো অকারণে দোলে

শুধু তার বুকের ভিতর

একটি দরজা সারারাত খোলা।

শেষরাতে সে জানালা বন্ধ করে দিল

বাইরে শরৎ রয়ে গেল,

ভেতরে তার বর্ষা।  



তৃষ্ণা

জাকির জাফরান

কলসিতে নুড়ি ফেলছে তৃষ্ণার্ত কাক।

আলস্যের আড়মোড়া ভেঙে, ধীরে

উঠে আসছে জল;

আর কাক,

হাহাকারের অধিক সেই কাক

নুড়ি ফেলে চেয়ে আছে—

উপরে উঠছে জল, ধীরে, ধীরে;

আনন্দে ভরে উঠছে

তৃষিতের হৃদ,

অথচ কলসির মুখে

জিভ পেতে বসে আছে ধূর্ত ইয়াজিদ। 



জয়ন্তী নদী

নাজমুস সামস

জল দামে আটকা পড়েছো তুমি

তোমার সবুজ পায়ের হলুদ নূপুর

পাহাড়কে চিন্নক করে রেখেছো

আলবাট্রস পাখির গায়

আমাদের এই পাখিটি জয়ন্তী নদীর

মতো মৃতপ্রয়। দুজনেই প্রেসক্রিপশন

দেখাতে দেখাতে ক্লান্ত

এদের জন্য আমরা কী করতে পারি???

বড়জোর বীচে প্লাস্টিকের বোতলের

আনাগোনা বন্ধ করতে পারি

তাহলে কিছুটা হলেও পাখিটি বিপন্ন দশা

থেকে রক্ষা পাবে আর হেসে উঠবে

জয়ন্তী নদী 



ফিরে এসো না

রহমান মুজিব

এখানে আর ফিরে এসো না

বিকল কম্পাসের ঠিকানা শুধুই বধ্যভূমি

যার প্রতিটি পৃষ্ঠায় দীর্ঘশ্বাসের সীলমোহর

পিচঢালা পথের রোদে পুড়ছে জেব্রাক্রসিং 

চারপাশে তার গতিরোধক ব্রাকেট ভেঙে ফেল 

কিছু কিছু দেখার কেনো সাক্ষী রাখতে নেই

করপোরেট টাওয়ারের ওয়াচপয়েন্ট হতে 

দেখা যায় পোড়ামুখী শহর, মানুষের চোখে 

আগুনের অবাকচিহ্ন

হাঁটতে থাক, পাশেই পাথরের বন 

ঠোকাঠুকির কলরবে ফুটেছে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ 

পাখির সন্ধ্যায় লাল হয়ে গেছে চেতনার গলি

কীভাবে ফিরবে...  



অসহ্য নীলিমা

লিপন মুস্তাফিজ

গৈরিক পোশাক, লঘুস্বর।

রঙিন আঁচল, সুখঘর।

ঘন চুম্বন, সংরক্ত রাত্রি।

জলভাংগা মেঘ, স্বপ্নাতুর যাত্রী।

নৈঃশব্দ্যের তালে, শামিত কাম।

অনাবৃত স্তন, মৃদুমন্দ ঘাম।

নীরব মাধুর্য, হারে ধৈর্য্য।

সর্বস্ব উজাড়, অসহ্য অসহ্য।

ভেজা চুল, ঝুল বারান্দায়।

কেউ হয় খুন, ডুবন্ত নীলিমায়। 



তুই

নাহিদ পারভেজ

তুই রোদ

তুই বৃষ্টি

তুই মহাপ্লাবন,

তুই আমার

সর্বনাশ

বুকের অন্তর্দহন।

তুই দিন

তুই রাত

তুই আমার

নীল বিষাদ,

নিঃশব্দ রাতের

অমোঘ উন্মাদ।

তুই নদী

তুই ঢেউ

তুই ভাঙনের সুর,

তুই আমার

হারিয়ে যাওয়া

রোদেলা মধ্য দুপুর। 



শোকের কোনো সহচর নেই

অসীম বিভাকর

শোকের কোনো সহচর নেই।

শোকের কোনো সহচর ছিলো কি কোনোদিন?

ধূসর গোধূলিলগ্নের মতো

শোক একা একা হাঁটে;

তার চোখ থাকে নিঃসঙ্গ বিন্দুর দিকে।

যদিওবা কেউ দাঁড়ায় পাশে এসে

সে পাশে দাঁড়িয়েই থাকে;

শোকের ছায়া ঘিরে গড়ে ওঠে

অনাত্মীয় দূরত্বের রেখা।

জন্মের পর শোক

একাই উঠেছে বেড়ে আত্মীয় পরিজনহীন;

আসলে শোক জন্ম থেকেই একা। 



বিসর্জন

সাজ্জাদুর রহমান

আমার শহর পুরোপুরি ডুবে যেতে

মাত্র কয়েক ইঞ্চি বাকি

ঘুম ভাঙতে প্রথমে দেখলাম

আকাশের মতো একটি বিশাল প্লেটে

কার যেনো হৃদয় কাটছে ছুরিটা

ও কি আমার, নাকি অপরিচিত?

অশ্রুপ্লাবিত চোখের ভেতর চকচকে ধার

এক নিষ্ঠুরতম দাবানল যেনো

পুড়ে যেতে যেতে আমি দেখলাম

শুকনো নদীচোখ থেকে একফোঁটা অশ্রু

পড়তে গিয়ে শূন্যের মাঝে থেমে গেলো

নিচে তখন বাঁক নিতে শুরু করেছে নতুন ঢেউ

আর কিছুক্ষণ পরে হয়তো

নীল পাপড়িগুলো ডুবে যাবে। 


ইশারা

চঞ্চল শাহরিয়ার

আলোর ঠিকানা খুঁজে পেতে বার বার পথে নামি। পথ শুধু শেফালী বৌদির মতো ইশারায় ডাকে। আর হেসে কুটিকুটি হয়।

আমি জানি, এইসব ভালো না, ভালো না। তবু এই ভালো না, ভালো না পথ ধরে এগিয়েই দেখি অপার মুগ্ধতা।

প্রাপ্তির ঝাঁপিটা খুলে বসে থাকে লাজুক কিশোরী।   



আগুন ফাগুনে

কুমকুম দত্ত

গোলাপ তৃষ্ণা পুড়ে যায় মন বসন্তে বেহুলা

আকাঙ্ক্ষা দূর্নিবার রং চোখের চাতক;

ঘাই হরিণী দূরের বন পৃথক প্রেম উপাখ্যান

ঝরাপাতা আকুল অনুভবে হৃদয় দুয়ার খোলে

বাতাসে অস্থির কান পেতে শুনি ছায়া ইন্দ্রজাল

অনড় বৃক্ষ পাখিদের গান আগুন ফাগুনে;

নদীর জল নিঃসঙ্গ গড়িয়ে যায় পথ কঠিন ব্রাত্য

প্রেম ইতিহাস পুড়ে যায় তৃষ্ণা মহাকাল ভূগোল



শরতসময়

হাসিদা মুন

গুছিয়ে নিয়েছে মন। নীরবতা এসেছে বাতাসে

একটি শরীর স্থির, শুয়ে আছে বধির বিকেলে

সময় এখন মুখ ফিরিয়েছে স্পর্শগন্ধ থেকে

আলোর উষ্ণতা আর অনুগ্রহে তাকে পূর্ণ করো

স্মৃতির দরোজা খুলে আসে শরতসময়। তবু

মুখোশে আবৃত মুখ, প্রতিশ্রুতি খেলাফের খেলা

অভিনয়ে পারদর্শী, দূরে যায় নিকট-মানুষ

বিরহ জমতে থাকে— বিস্মরণে মন ভেঙে যায়

সরে গেলে ভ্রান্তিভার, শরতের পাতার মতোন

হেসে নেচে ভালোবাসা মৃদুমন্দ বাতাস ঝরায় 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এ সপ্তাহের কবিতা

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিভাজক 
গোলাম কিবরিয়া পিনু

বিভাজনে জনে জনে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছি!

         দ্বিপ্রহরে কার প্রহরী হচ্ছি?

প্রজননেও আমরা এক হতে চাইছিনে!


কী মাতাল হাওয়া এলো!

      মাতাল হয়ে পড়ছি একেকজন!

দিগভ্রমে দিগদর্শন হারিয়ে ফেলছি!

একই সঙ্গে একই সড়কে হাঁটতে পারছিনে!


একেকজন আলাদা আলাদা পিঁড়িতে বসে

        কুয়ার পাড়ে গোসল করছি!

চাইছি— পাহাড়ও খণ্ড খণ্ড হয়ে যাক

প্রশস্ত সড়কগুলো অন্ধগলি হয়ে যাক

               নদীও পুষ্করিণী হয়ে যাক!

সামাজিক ঐকবোধ যেন না থাকে

       কেউ যেন কারো হাত না ধরি!


ভেদ ও বিভেদে—

      নিজেরা কাটাকাটি করি— খণ্ডিত হই!

একে অপরকে ধসিয়ে ফেলি

               থেঁতো ও গুঁড়ো করি!

নিজেদের গৌরবের ইতিহাসও—

ছিঁড়ে ফেলি— টুকরো টুকরো করি!

নিজেরা নিজেদের বিভাজক হয়ে উঠি

ডুবো ডুবো হয়ে ডুবতে থাকি— তলিয়ে যাই!


স্বগতোক্তি: আট

সুশান্ত মজুমদার

করতালি শুনে জেগে উঠি আমি

বিশাল গাছের নিচে মজবুত মঞ্চ থেকে

নামের ডাক পেয়ে হেঁটে যাই আমি। 

মুখর তালির শব্দে জব্দ হয়ে ঝরে পড়ে পাতা

                             বাতাস পীড়িত হয়

সামিয়ানার কাপড় বেয়ে খর রোদ নামে

পশ্চিমে পুরোনো কাঠের সিঁড়ির

উঁচু সাদা ভবনের কার্নিশে বসে

ইতিহাস মহাজন বিরল পৃষ্ঠা উল্টে যায়

নিজের ভেতরের প্রেরণার বাঁশি তাই চুপ হয়ে থাকে

মনে হয় প্রতিটি কদম নিশ্চল খুব।


জানি, পরমায়ু ব্যয় করে ঘিলুর তৈরি যা কিছু ফসল

কালের প্রহার সহে যদি না থাকে তাজা সাময়িক সব

ধীরে ধীরে হারাবে পুরনো গন্ধ ধরা ছাউনির নিচে

সারাক্ষণ বর্তমান বড়ই কঠিন

সহজ সাধ্য না মহিমার কাজল আদায়

তাই যেতে যেতে মঞ্চের দিকে মন্থর হতে থাকে পা।


হে বহমান কাল, তোমার ষ্পর্শ স্বায়ী না-হলে

এই করতালি, ওই মঞ্চ, অপেক্ষমাণ গুরুজন

          টেবিলের মনোহর ক্রেস্ট

এই যে বর্তমান স্বাগতম ছবি 

                    হারাবে লোক-চোখ থেকে

ঘোলা গ্রাসের ভেতর যাবে সব বিস্মৃতির নির্মোহ টানে।



শরৎ

জিন্নাহ চৌধুরী

শরৎ নেমেছে

কাশের ভিতর সাদা এক নীরবতা,

দূরের নদী যেন নিজের কাছেই

কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেছে।


জানালার পাশে এক নারী

চুলে সন্ধ্যার ছায়া,

চোখের ভিতর ভাঙা কোনো ঋতু;

সে জানে, কিছু অপেক্ষা

কখনো মানুষের কাছে ফিরে আসে না।


আকাশ আজ অকারণে নীল,

কাশফুলগুলো অকারণে দোলে

শুধু তার বুকের ভিতর

একটি দরজা সারারাত খোলা।


শেষরাতে সে জানালা বন্ধ করে দিল

বাইরে শরৎ রয়ে গেল,

ভেতরে তার বর্ষা।  



তৃষ্ণা

জাকির জাফরান


কলসিতে নুড়ি ফেলছে তৃষ্ণার্ত কাক।

আলস্যের আড়মোড়া ভেঙে, ধীরে

উঠে আসছে জল;

আর কাক,

হাহাকারের অধিক সেই কাক

নুড়ি ফেলে চেয়ে আছে—

উপরে উঠছে জল, ধীরে, ধীরে;

আনন্দে ভরে উঠছে

তৃষিতের হৃদ,

অথচ কলসির মুখে

জিভ পেতে বসে আছে ধূর্ত ইয়াজিদ। 



জয়ন্তী নদী

নাজমুস সামস

জল দামে আটকা পড়েছো তুমি

তোমার সবুজ পায়ের হলুদ নূপুর

পাহাড়কে চিন্নক করে রেখেছো

আলবাট্রস পাখির গায়

আমাদের এই পাখিটি জয়ন্তী নদীর

মতো মৃতপ্রয়। দুজনেই প্রেসক্রিপশন

দেখাতে দেখাতে ক্লান্ত


এদের জন্য আমরা কী করতে পারি???

বড়জোর বীচে প্লাস্টিকের বোতলের

আনাগোনা বন্ধ করতে পারি

তাহলে কিছুটা হলেও পাখিটি বিপন্ন দশা

থেকে রক্ষা পাবে আর হেসে উঠবে

জয়ন্তী নদী 



ফিরে এসো না

রহমান মুজিব

এখানে আর ফিরে এসো না

বিকল কম্পাসের ঠিকানা শুধুই বধ্যভূমি

যার প্রতিটি পৃষ্ঠায় দীর্ঘশ্বাসের সীলমোহর


পিচঢালা পথের রোদে পুড়ছে জেব্রাক্রসিং 

চারপাশে তার গতিরোধক ব্রাকেট ভেঙে ফেল 

কিছু কিছু দেখার কেনো সাক্ষী রাখতে নেই


করপোরেট টাওয়ারের ওয়াচপয়েন্ট হতে 

দেখা যায় পোড়ামুখী শহর, মানুষের চোখে 

আগুনের অবাকচিহ্ন


হাঁটতে থাক, পাশেই পাথরের বন 

ঠোকাঠুকির কলরবে ফুটেছে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ 

পাখির সন্ধ্যায় লাল হয়ে গেছে চেতনার গলি

কীভাবে ফিরবে...  



অসহ্য নীলিমা

লিপন মুস্তাফিজ

গৈরিক পোশাক, লঘুস্বর।

রঙিন আঁচল, সুখঘর।


ঘন চুম্বন, সংরক্ত রাত্রি।

জলভাংগা মেঘ, স্বপ্নাতুর যাত্রী।


নৈঃশব্দ্যের তালে, শামিত কাম।

অনাবৃত স্তন, মৃদুমন্দ ঘাম।


নীরব মাধুর্য, হারে ধৈর্য্য।

সর্বস্ব উজাড়, অসহ্য অসহ্য।


ভেজা চুল, ঝুল বারান্দায়।

কেউ হয় খুন, ডুবন্ত নীলিমায়। 



তুই

নাহিদ পারভেজ

তুই রোদ

তুই বৃষ্টি

তুই মহাপ্লাবন,

তুই আমার

সর্বনাশ

বুকের অন্তর্দহন।


তুই দিন

তুই রাত

তুই আমার

নীল বিষাদ,

নিঃশব্দ রাতের

অমোঘ উন্মাদ।


তুই নদী

তুই ঢেউ

তুই ভাঙনের সুর,

তুই আমার

হারিয়ে যাওয়া

রোদেলা মধ্য দুপুর। 



শোকের কোনো সহচর নেই

অসীম বিভাকর

শোকের কোনো সহচর নেই।

শোকের কোনো সহচর ছিলো কি কোনোদিন?


ধূসর গোধূলিলগ্নের মতো

শোক একা একা হাঁটে;

তার চোখ থাকে নিঃসঙ্গ বিন্দুর দিকে।


যদিওবা কেউ দাঁড়ায় পাশে এসে

সে পাশে দাঁড়িয়েই থাকে;

শোকের ছায়া ঘিরে গড়ে ওঠে

অনাত্মীয় দূরত্বের রেখা।

জন্মের পর শোক

একাই উঠেছে বেড়ে আত্মীয় পরিজনহীন;

আসলে শোক জন্ম থেকেই একা। 



বিসর্জন

সাজ্জাদুর রহমান


আমার শহর পুরোপুরি ডুবে যেতে

মাত্র কয়েক ইঞ্চি বাকি

ঘুম ভাঙতে প্রথমে দেখলাম

আকাশের মতো একটি বিশাল প্লেটে

কার যেনো হৃদয় কাটছে ছুরিটা

ও কি আমার, নাকি অপরিচিত?


অশ্রুপ্লাবিত চোখের ভেতর চকচকে ধার

এক নিষ্ঠুরতম দাবানল যেনো

পুড়ে যেতে যেতে আমি দেখলাম

শুকনো নদীচোখ থেকে একফোঁটা অশ্রু

পড়তে গিয়ে শূন্যের মাঝে থেমে গেলো

নিচে তখন বাঁক নিতে শুরু করেছে নতুন ঢেউ

আর কিছুক্ষণ পরে হয়তো

নীল পাপড়িগুলো ডুবে যাবে। 


ইশারা

চঞ্চল শাহরিয়ার


আলোর ঠিকানা খুঁজে পেতে বার বার পথে নামি। পথ শুধু শেফালী বৌদির মতো ইশারায় ডাকে। আর হেসে কুটিকুটি হয়।

আমি জানি, এইসব ভালো না, ভালো না। তবু এই ভালো না, ভালো না পথ ধরে এগিয়েই দেখি অপার মুগ্ধতা।

প্রাপ্তির ঝাঁপিটা খুলে বসে থাকে লাজুক কিশোরী।   



আগুন ফাগুনে

কুমকুম দত্ত


গোলাপ তৃষ্ণা পুড়ে যায় মন বসন্তে বেহুলা

আকাঙ্ক্ষা দূর্নিবার রং চোখের চাতক;


ঘাই হরিণী দূরের বন পৃথক প্রেম উপাখ্যান

ঝরাপাতা আকুল অনুভবে হৃদয় দুয়ার খোলে


বাতাসে অস্থির কান পেতে শুনি ছায়া ইন্দ্রজাল

অনড় বৃক্ষ পাখিদের গান আগুন ফাগুনে;


নদীর জল নিঃসঙ্গ গড়িয়ে যায় পথ কঠিন ব্রাত্য

প্রেম ইতিহাস পুড়ে যায় তৃষ্ণা মহাকাল ভূগোল



শরতসময়

হাসিদা মুন

গুছিয়ে নিয়েছে মন। নীরবতা এসেছে বাতাসে

একটি শরীর স্থির, শুয়ে আছে বধির বিকেলে

সময় এখন মুখ ফিরিয়েছে স্পর্শগন্ধ থেকে

আলোর উষ্ণতা আর অনুগ্রহে তাকে পূর্ণ করো


স্মৃতির দরোজা খুলে আসে শরতসময়। তবু

মুখোশে আবৃত মুখ, প্রতিশ্রুতি খেলাফের খেলা

অভিনয়ে পারদর্শী, দূরে যায় নিকট-মানুষ

বিরহ জমতে থাকে— বিস্মরণে মন ভেঙে যায়


সরে গেলে ভ্রান্তিভার, শরতের পাতার মতোন

হেসে নেচে ভালোবাসা মৃদুমন্দ বাতাস ঝরায় 



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত