সংবাদ

রিজার্ভ বিনিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজিমাত: আয় ১২ হাজার কোটি টাকা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

রিজার্ভ বিনিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজিমাত: আয় ১২ হাজার কোটি টাকা
ছ‌বি: সংগৃ‌হিত

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সফলভাবে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা সুদ বাবদ আয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এটি গত তিন অর্থবছরের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ বৈদেশিক বিনিয়োগ আয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক বেশি সুদহার এবং কুপন রেট সচল থাকার কারণেই এই বিপুল আয় সম্ভব হয়েছে।

​বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, এই আয়ের সিংহভাগ এসেছে বৈদেশিক বন্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি নোটে বিনিয়োগ থেকে, যার পরিমাণ ৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। পাশাপাশি বিদেশি ব্যাংকে রাখা বিভিন্ন মেয়াদি আমানত ও ঋণ খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য অংকের রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোকে প্রদত্ত ঋণ থেকে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা এবং স্বল্পমেয়াদি আমানত থেকে ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অন্যান্য বৈদেশিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে আরও প্রায় ৮৭১ কোটি টাকা আয় যুক্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা আর্থিক সম্পদ থেকে ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা আয় করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

​বৈদেশিক ক্ষেত্রের এই প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, "বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ও বিভিন্ন ব্যাংকে আমানত হিসেবে বিনিয়োগ করে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সুদহার তুলনামূলক বেশি থাকায় এসব বিনিয়োগ থেকে রিটার্নও বেড়েছে।"

​একই সাথে অভ্যন্তরীণ আর্থিক খাতেও বড় অঙ্কের সাফল্য পেয়েছে দেশের সার্বভৌম ব্যাংকটি। সরকার ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দিয়ে গত অর্থবছরে ২২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ সহায়তা দিয়ে যে ২১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা সুদ পাওয়া গেছে, তা অভ্যন্তরীণ আয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

এ ছাড়া কমিশন ও ডিসকাউন্ট থেকে ৪৩১ কোটি, লভ্যাংশ হিসেবে ২০০ কোটি এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৪৭৫ কোটি টাকা অর্জিত হয়। তবে বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাতে আয়ের পরিমাণ ছিল আরও বেশি, যা প্রায় ২৪ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।

​মূল্যস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের উচ্চ সুদের প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, "মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গত অর্থবছরের পুরো সময় নীতিসুদহার ১০ শতাংশে রাখা হয়েছিল। ফলে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে অর্থ নিতে হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয় বেড়েছে।"

​সর্বসাকুল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিচালনা খাত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট আয় দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। যাবতীয় পরিচালনা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা বাদ দেওয়ার পর নিট মুনাফা অর্জিত হয় ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। এটি আগের অর্থবছরের ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকার অর্জনের চেয়ে ৩ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা বেশি।

সংগৃহীত এই নিট মুনাফার পুরো ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকাই ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা অর্ধবার্ষিক সমন্বয় হিসেবে আগেই দেওয়া হয়েছিল এবং অবশিষ্টাংশ ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সম্প্রতি হস্তান্তর করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ রয়েছে ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রিজার্ভ বিনিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজিমাত: আয় ১২ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সফলভাবে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা সুদ বাবদ আয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এটি গত তিন অর্থবছরের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ বৈদেশিক বিনিয়োগ আয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক বেশি সুদহার এবং কুপন রেট সচল থাকার কারণেই এই বিপুল আয় সম্ভব হয়েছে।

​বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, এই আয়ের সিংহভাগ এসেছে বৈদেশিক বন্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি নোটে বিনিয়োগ থেকে, যার পরিমাণ ৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। পাশাপাশি বিদেশি ব্যাংকে রাখা বিভিন্ন মেয়াদি আমানত ও ঋণ খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য অংকের রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোকে প্রদত্ত ঋণ থেকে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা এবং স্বল্পমেয়াদি আমানত থেকে ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অন্যান্য বৈদেশিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে আরও প্রায় ৮৭১ কোটি টাকা আয় যুক্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা আর্থিক সম্পদ থেকে ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা আয় করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

​বৈদেশিক ক্ষেত্রের এই প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, "বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ও বিভিন্ন ব্যাংকে আমানত হিসেবে বিনিয়োগ করে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সুদহার তুলনামূলক বেশি থাকায় এসব বিনিয়োগ থেকে রিটার্নও বেড়েছে।"

​একই সাথে অভ্যন্তরীণ আর্থিক খাতেও বড় অঙ্কের সাফল্য পেয়েছে দেশের সার্বভৌম ব্যাংকটি। সরকার ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দিয়ে গত অর্থবছরে ২২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ সহায়তা দিয়ে যে ২১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা সুদ পাওয়া গেছে, তা অভ্যন্তরীণ আয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

এ ছাড়া কমিশন ও ডিসকাউন্ট থেকে ৪৩১ কোটি, লভ্যাংশ হিসেবে ২০০ কোটি এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৪৭৫ কোটি টাকা অর্জিত হয়। তবে বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাতে আয়ের পরিমাণ ছিল আরও বেশি, যা প্রায় ২৪ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।

​মূল্যস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের উচ্চ সুদের প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, "মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গত অর্থবছরের পুরো সময় নীতিসুদহার ১০ শতাংশে রাখা হয়েছিল। ফলে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে অর্থ নিতে হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয় বেড়েছে।"

​সর্বসাকুল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিচালনা খাত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট আয় দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। যাবতীয় পরিচালনা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা বাদ দেওয়ার পর নিট মুনাফা অর্জিত হয় ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। এটি আগের অর্থবছরের ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকার অর্জনের চেয়ে ৩ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা বেশি।

সংগৃহীত এই নিট মুনাফার পুরো ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকাই ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা অর্ধবার্ষিক সমন্বয় হিসেবে আগেই দেওয়া হয়েছিল এবং অবশিষ্টাংশ ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সম্প্রতি হস্তান্তর করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ রয়েছে ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত