সংবাদ

জনবল সংকটে কমেছে তৎপরতা, বাড়ছে অপরাধ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

জনবল সংকটে কমেছে তৎপরতা, বাড়ছে অপরাধ
ছবি : সংগৃহীত

রংপুর মহানগর পুলিশে লোকবলের প্রচণ্ড সংকট এবং দক্ষ জনবলের অভাবে রংপুর নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, রংপুর মহানগর পুলিশ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মহানগর পুলিশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। অনেক দিন ধরে এসব পদে নতুন করে পদায়ন করা হয়নি। ফলে একেকজন কর্মকর্তা ৩/৪টি করে পদের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে কাজের কাজ হচ্ছে না। 

অন্যদিকে মহানগর পুলিশের ৫ থানায় ওসি (তদন্ত) পদও খালি পড়ে আছে। ফলে মহানগর পুলিশের ৬ থানার মধ্যে ৫ থানার গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর তদন্ত থমকে আছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের যেসব পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলো হলো এডিসি ট্রাফিক, এডিসি ডিবি, সিটিএসবি, ডিসি ও এডিসি, ডিসি হেডকোয়ার্টার, এডিসি হেডকোয়ার্টার। এসব পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ফলে বর্তমানে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তারা অতিরিক্ত বেশ কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। 

উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তীকে মূল দায়িত্বের পাশাপাশি উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) এবং উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তর ও দক্ষিণের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহাম্মেদকে ওই দায়িত্বের পাশাপাশি উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ইএন্ডটি) এই দুই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে সনাতন চক্রবর্তী ও মারুফ আহাম্মেদ দুজনই পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

এ ছাড়াও রংপুর মহানগর পুলিশের ৫ থানায় ওসি (তদন্ত) পদবীর কোনো কর্মকর্তা নেই। ৫টি পদ অনেক দিন ধরে শূন্য রয়েছে। থানাগুলো হলো রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানা, মাহিগঞ্জ থানা, পশুরাম থানা, হাজিরহাট থানা এবং হারাগাছ থানা। এই ৫ থানায় ওসি (তদন্ত) কর্মকর্তা না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়াও রংপুর নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এর কারণ ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাব্যাপী রংপুর নগরীতে মাত্র ৮ জন পুলিশ সার্জেন্ট আছে। যার মধ্যে ২ জন ছুটিতে থাকার কারণে নগরীর ১৮টি যানজটের স্পটে ট্রাফিক পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। বিষয়টি স্বীকার করেন ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনার মারুফ আহাম্মেদ।

অন্যদিকে, রংপুর মহানগর পুলিশে দক্ষ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার তীব্র সংকট চলছে। বিশেষ করে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মহল্লায় স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের ৪ জন খুন হওয়ার পর এই মামলা তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে কোনোমতেই প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি জিন্নাত আলীর মামলা তদন্তের অনভিজ্ঞতা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে মামলার তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এ ব্যাপারে নাগরিক কমিটি স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ ৪ হত্যা মামলার তদন্তে ডিবি পুলিশের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, রংপুর ডিবি পুলিশ আলোচিত ৪ খুনের মামলার তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। সে কারণে আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জনবল সংকটে কমেছে তৎপরতা, বাড়ছে অপরাধ

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রংপুর মহানগর পুলিশে লোকবলের প্রচণ্ড সংকট এবং দক্ষ জনবলের অভাবে রংপুর নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, রংপুর মহানগর পুলিশ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মহানগর পুলিশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। অনেক দিন ধরে এসব পদে নতুন করে পদায়ন করা হয়নি। ফলে একেকজন কর্মকর্তা ৩/৪টি করে পদের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে কাজের কাজ হচ্ছে না। 

অন্যদিকে মহানগর পুলিশের ৫ থানায় ওসি (তদন্ত) পদও খালি পড়ে আছে। ফলে মহানগর পুলিশের ৬ থানার মধ্যে ৫ থানার গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর তদন্ত থমকে আছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের যেসব পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলো হলো এডিসি ট্রাফিক, এডিসি ডিবি, সিটিএসবি, ডিসি ও এডিসি, ডিসি হেডকোয়ার্টার, এডিসি হেডকোয়ার্টার। এসব পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ফলে বর্তমানে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তারা অতিরিক্ত বেশ কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। 

উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তীকে মূল দায়িত্বের পাশাপাশি উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) এবং উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তর ও দক্ষিণের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহাম্মেদকে ওই দায়িত্বের পাশাপাশি উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ইএন্ডটি) এই দুই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে সনাতন চক্রবর্তী ও মারুফ আহাম্মেদ দুজনই পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

এ ছাড়াও রংপুর মহানগর পুলিশের ৫ থানায় ওসি (তদন্ত) পদবীর কোনো কর্মকর্তা নেই। ৫টি পদ অনেক দিন ধরে শূন্য রয়েছে। থানাগুলো হলো রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানা, মাহিগঞ্জ থানা, পশুরাম থানা, হাজিরহাট থানা এবং হারাগাছ থানা। এই ৫ থানায় ওসি (তদন্ত) কর্মকর্তা না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়াও রংপুর নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এর কারণ ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাব্যাপী রংপুর নগরীতে মাত্র ৮ জন পুলিশ সার্জেন্ট আছে। যার মধ্যে ২ জন ছুটিতে থাকার কারণে নগরীর ১৮টি যানজটের স্পটে ট্রাফিক পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। বিষয়টি স্বীকার করেন ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনার মারুফ আহাম্মেদ।

অন্যদিকে, রংপুর মহানগর পুলিশে দক্ষ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার তীব্র সংকট চলছে। বিশেষ করে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মহল্লায় স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের ৪ জন খুন হওয়ার পর এই মামলা তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে কোনোমতেই প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি জিন্নাত আলীর মামলা তদন্তের অনভিজ্ঞতা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে মামলার তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এ ব্যাপারে নাগরিক কমিটি স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ ৪ হত্যা মামলার তদন্তে ডিবি পুলিশের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, রংপুর ডিবি পুলিশ আলোচিত ৪ খুনের মামলার তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। সে কারণে আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত