সংবাদ

গোয়ালন্দে সার পাচার, সন্ত্রাসী কায়দায় গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ


প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

গোয়ালন্দে সার পাচার, সন্ত্রাসী কায়দায় গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ছবি : সংবাদ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সরকারি সার পাচারের সময় ১৫ বস্তা সারসহ চালক ও ক্রেতাকে আটক করে স্থানীয় কৃষকরা। পরে ডিলারের লোকজনের হুমকি-ধামকি ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তারা উজানচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও কৃষক। সারের জন্য গেলে তাদের বলা হয় সার নেই। অনেক সময় বেশি দামে সার বিক্রি করা হয়। টাকা বেশি দিয়েও সার পাওয়া যায় না। কিন্তু প্রায়ই শামসু মন্ডলের বাজারে অবস্থিত মন্ডল ট্রেডার্স থেকে জেলার বাইরে বিভিন্ন জায়গায় সার বিক্রি করা হয়। বেরিবাঁধের রাস্তা দিয়ে অন্য জেলায় সার পাঠানো হয়। এটা দেখে কৃষকরা আজ চোখে চোখে রেখে গাড়িসহ সারটি আটক করেন।

কৃষকরা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ডিলাররা নিয়মিত সরকারি সার পাচার করছে এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। ডিলারদের দোকানে সরকারি দামে সার না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং সারের সংকট দেখা দিচ্ছে।

এ সময় বিভিন্নভাবে সার ছাড়ানোর চেষ্টা করেন ওই ডিলারের লোকজন। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি ডিলারকে জানান। তাদের লোকজন ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, অপেক্ষা করার কথা বলা হয়। একপর্যায়ে ডিলারের পক্ষ থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাজির হন নাজমুল নামের এক ব্যক্তি।

তখন তিনি যারা সার ধরেছেন তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকের উপরও চড়া হন তিনি। এ সময় তার কোমর থেকে দেশীয় অস্ত্র মাটিতে পড়ে যায় এবং কোমরে থাকা রিভলভার দৃশ্যমান হয়। একপর্যায়ে তিনি সন্ত্রাসী কায়দায় সারের গাড়ি সেখান থেকে নিয়ে চলে যান।

পরে স্থানীয় লোকজন জানান, নাজমুল উপজেলার জামতলা এলাকার বকারটিলার চান মিয়ার ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একসময় ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। কয়েক বছর তিনি বিদেশে কাটিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সামান্য সার নিয়ে অস্ত্র দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া মন্ডল ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ মন্ডল আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, তিনি সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সার মাসুদ মন্ডলের দোকানের কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সারের ডিলাররা চুরি করে সার বিক্রি করছে, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে জানান। চোরাই সারের ক্রেতা ও যে অটোতে সার নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তার ভিডিও বক্তব্য তার কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দেওয়ার কথা বললেও আর অফিসে আসেননি।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একদিকে সার চুরি করে জেলার বাইরে বিক্রি করা অপরাধ, অন্যদিকে সেই সার ছাড়ানোর জন্য সাংবাদিককে হুমকি-ধামকি দেওয়া বড় ধরনের অপরাধ। বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গোয়ালন্দে সার পাচার, সন্ত্রাসী কায়দায় গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সরকারি সার পাচারের সময় ১৫ বস্তা সারসহ চালক ও ক্রেতাকে আটক করে স্থানীয় কৃষকরা। পরে ডিলারের লোকজনের হুমকি-ধামকি ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তারা উজানচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও কৃষক। সারের জন্য গেলে তাদের বলা হয় সার নেই। অনেক সময় বেশি দামে সার বিক্রি করা হয়। টাকা বেশি দিয়েও সার পাওয়া যায় না। কিন্তু প্রায়ই শামসু মন্ডলের বাজারে অবস্থিত মন্ডল ট্রেডার্স থেকে জেলার বাইরে বিভিন্ন জায়গায় সার বিক্রি করা হয়। বেরিবাঁধের রাস্তা দিয়ে অন্য জেলায় সার পাঠানো হয়। এটা দেখে কৃষকরা আজ চোখে চোখে রেখে গাড়িসহ সারটি আটক করেন।

কৃষকরা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ডিলাররা নিয়মিত সরকারি সার পাচার করছে এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। ডিলারদের দোকানে সরকারি দামে সার না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং সারের সংকট দেখা দিচ্ছে।

এ সময় বিভিন্নভাবে সার ছাড়ানোর চেষ্টা করেন ওই ডিলারের লোকজন। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি ডিলারকে জানান। তাদের লোকজন ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, অপেক্ষা করার কথা বলা হয়। একপর্যায়ে ডিলারের পক্ষ থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাজির হন নাজমুল নামের এক ব্যক্তি।

তখন তিনি যারা সার ধরেছেন তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকের উপরও চড়া হন তিনি। এ সময় তার কোমর থেকে দেশীয় অস্ত্র মাটিতে পড়ে যায় এবং কোমরে থাকা রিভলভার দৃশ্যমান হয়। একপর্যায়ে তিনি সন্ত্রাসী কায়দায় সারের গাড়ি সেখান থেকে নিয়ে চলে যান।

পরে স্থানীয় লোকজন জানান, নাজমুল উপজেলার জামতলা এলাকার বকারটিলার চান মিয়ার ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একসময় ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। কয়েক বছর তিনি বিদেশে কাটিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সামান্য সার নিয়ে অস্ত্র দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া মন্ডল ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ মন্ডল আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, তিনি সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সার মাসুদ মন্ডলের দোকানের কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সারের ডিলাররা চুরি করে সার বিক্রি করছে, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে জানান। চোরাই সারের ক্রেতা ও যে অটোতে সার নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তার ভিডিও বক্তব্য তার কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দেওয়ার কথা বললেও আর অফিসে আসেননি।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একদিকে সার চুরি করে জেলার বাইরে বিক্রি করা অপরাধ, অন্যদিকে সেই সার ছাড়ানোর জন্য সাংবাদিককে হুমকি-ধামকি দেওয়া বড় ধরনের অপরাধ। বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য বলা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত