ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর দ্রুত অগ্রগতির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংঘাত নতুন ও জটিল রূপ ধারণ করেছে। মোখা বন্দরনগরী দখলের পর হুথিরা লোহিত সাগরের কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের প্রভাব বহুলাংশে বেড়ে গেছে।
এতে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তাসহ সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও তেল রপ্তানি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচল এমনিতেই সীমিত, তার ওপর লোহিত সাগরের এই বিকল্প পথটি অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর কৌশলগত মোখা বন্দর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয় হুথি বাহিনী এবং এরপর থেকেই তারা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলটি লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের মধ্যকার প্রধান সংযোগস্থল। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টে হুথিদের উপস্থিতি সৌদি আরবের জন্য তৈরি করেছে নতুন সংকট।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র ঘোষণা দিয়েছে, সাধারণ নৌযান চলাচল নিরাপদ থাকলেও সৌদি আরবের কোনো জাহাজ এই নিরাপত্তার আওতায় থাকবে না। এই ঘোষণার পাশাপাশি জুলাই মাসে ঘোষিত নৌ অবরোধ আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরে গত ২৪ ঘণ্টায় চারবার জরুরি সতর্কতা জারি করেছে সেদেশের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
সংকটজনক এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সতর্ক করে বলেন, "ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন আরও নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।"
একই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি জেনিফার নাইডহার্ট ডি অর্টিজ হুথিদের তীব্র সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, "হুথিদের এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং যারা তাদের এসব কর্মকাণ্ডে সহায়তা দিচ্ছে, তাদের এই পরিণতির দায় নিতে হবে।"
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক নৌপথের প্রবেশমুখে হুথিদের সরাসরি উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হলেও তা এখনো সুফল দেয়নি। সৌদি আরবের অনুরোধে পাকিস্তান সরকার ইরানকে হুথিদের থামানোর বার্তা পাঠালেও তেহরান সেই দায় নিতে অস্বীকার করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এই প্রসঙ্গে বলেন, "ইরান হুথিদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করে না।" তবে হুথিদের সাম্প্রতিক এই আগ্রাসনের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একলাফে প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব; বিশ্বের দুটি প্রধান নৌপথ একসঙ্গে সংঘাতের কবলে পড়ায় ইয়েমেনের এই সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এখন কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর দ্রুত অগ্রগতির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংঘাত নতুন ও জটিল রূপ ধারণ করেছে। মোখা বন্দরনগরী দখলের পর হুথিরা লোহিত সাগরের কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের প্রভাব বহুলাংশে বেড়ে গেছে।
এতে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তাসহ সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও তেল রপ্তানি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচল এমনিতেই সীমিত, তার ওপর লোহিত সাগরের এই বিকল্প পথটি অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর কৌশলগত মোখা বন্দর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয় হুথি বাহিনী এবং এরপর থেকেই তারা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলটি লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের মধ্যকার প্রধান সংযোগস্থল। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টে হুথিদের উপস্থিতি সৌদি আরবের জন্য তৈরি করেছে নতুন সংকট।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র ঘোষণা দিয়েছে, সাধারণ নৌযান চলাচল নিরাপদ থাকলেও সৌদি আরবের কোনো জাহাজ এই নিরাপত্তার আওতায় থাকবে না। এই ঘোষণার পাশাপাশি জুলাই মাসে ঘোষিত নৌ অবরোধ আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরে গত ২৪ ঘণ্টায় চারবার জরুরি সতর্কতা জারি করেছে সেদেশের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
সংকটজনক এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সতর্ক করে বলেন, "ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন আরও নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।"
একই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি জেনিফার নাইডহার্ট ডি অর্টিজ হুথিদের তীব্র সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, "হুথিদের এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং যারা তাদের এসব কর্মকাণ্ডে সহায়তা দিচ্ছে, তাদের এই পরিণতির দায় নিতে হবে।"
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক নৌপথের প্রবেশমুখে হুথিদের সরাসরি উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হলেও তা এখনো সুফল দেয়নি। সৌদি আরবের অনুরোধে পাকিস্তান সরকার ইরানকে হুথিদের থামানোর বার্তা পাঠালেও তেহরান সেই দায় নিতে অস্বীকার করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এই প্রসঙ্গে বলেন, "ইরান হুথিদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করে না।" তবে হুথিদের সাম্প্রতিক এই আগ্রাসনের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একলাফে প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব; বিশ্বের দুটি প্রধান নৌপথ একসঙ্গে সংঘাতের কবলে পড়ায় ইয়েমেনের এই সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এখন কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন