রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ সদস্যের সবাইকে নৃশংস কায়দায় হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণ-অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট রংপুর জেলার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।কর্মসূচিতে শত শত নেতা-কর্মী অংশ নেয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সিপিবি জেলা সভাপতি ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শাহাদত হোসেন। সংহতি জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন অ্যাড. রোকুনুজ্জামান রোকন, সিপিবি মহানগর সভাপতি রাতুল অ্যাড. রাতুজ্জামান রাতুল, বাসদ (মার্ক্সবাদী) জেলা আহ্বায়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব আহসানুল আরেফিন তিতু, বাংলাদেশ জাসদ জেলা সভাপতি শাহীনুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অমল সরকার প্রমূখ।
জেলা বাসদ সদস্যসচিব মমিনুল ইসলামের পরিচালনায় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন যুক্ত ফ্রন্টের সমন্বয়ক ও বাসদ আহবায়ক কমরেড আব্দুল কুদ্দুস।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রংপুর ছিল শান্তি প্রিয় নিরাপদ শহর। অথচ অল্পদিনেই এই নগর আতঙ্কের নগরে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর গলির রাস্তায় হাঁটতেও আতংকে থাকতে হয়।ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই রংপুর নগরীতে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা দিনের বেলায় দাসপাড়ায় ১ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, একটি অটোরিকশা গ্যারেজে ১ জনকে হত্যা করেছে। ১৫ দিনে এরকম অন্তত ৮/৯ জন খুন হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অতি সম্প্রতি নগরীরন মাছুয়াপাড়ায় নিজবাড়িতে রংপুর জেলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী সপরিবারে খুনের শিকার হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’ জনকে গ্রেপ্তার করে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ এক রকম ঘোষণা করে বললেন, অল্প সময়েই খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সফল হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের এ বক্তব্য ও পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আলামত ধুয়ে নষ্ট করায় জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে ইয়াবা সেবনে বাধা দেয়ায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্বার্থ দাস তাদের একে একে গলায় কাপড় আর রশি পেঁচিয়ে হত্যা করেছে। অথচ ডোপটেস্টে আসামিদের মাদক গ্রহণের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
সমাবেশে আরও বলা হয়, এরকম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত হত্যাকারীদের সনাক্তকরণে যত ধরনের মোটিভ থাকতে পারে তা আমলে নেয়া হয়নি। তাই পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এখন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে এই ঘটনার বিচার করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, রংপুর নগরীর অলি-গলি এখন মাদকে সয়লাব। মাদকের হটস্পটগুলো পুলিশের অজানা থাকার কথা না। মাদক সরবরাহে কারা জড়িত, এদের প্রশ্রয়দাতা কে? এদের চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়তো এ ধরনের খুনের পুনরাবৃত্তি ঘটতো না।
এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি করে সব অপরাধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে রংপুরের জনগণের জিজ্ঞাসার সঠিক উত্তর দিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে রংপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করার ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ সদস্যের সবাইকে নৃশংস কায়দায় হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণ-অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট রংপুর জেলার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।কর্মসূচিতে শত শত নেতা-কর্মী অংশ নেয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সিপিবি জেলা সভাপতি ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শাহাদত হোসেন। সংহতি জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন অ্যাড. রোকুনুজ্জামান রোকন, সিপিবি মহানগর সভাপতি রাতুল অ্যাড. রাতুজ্জামান রাতুল, বাসদ (মার্ক্সবাদী) জেলা আহ্বায়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব আহসানুল আরেফিন তিতু, বাংলাদেশ জাসদ জেলা সভাপতি শাহীনুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অমল সরকার প্রমূখ।
জেলা বাসদ সদস্যসচিব মমিনুল ইসলামের পরিচালনায় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন যুক্ত ফ্রন্টের সমন্বয়ক ও বাসদ আহবায়ক কমরেড আব্দুল কুদ্দুস।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রংপুর ছিল শান্তি প্রিয় নিরাপদ শহর। অথচ অল্পদিনেই এই নগর আতঙ্কের নগরে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর গলির রাস্তায় হাঁটতেও আতংকে থাকতে হয়।ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই রংপুর নগরীতে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা দিনের বেলায় দাসপাড়ায় ১ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, একটি অটোরিকশা গ্যারেজে ১ জনকে হত্যা করেছে। ১৫ দিনে এরকম অন্তত ৮/৯ জন খুন হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অতি সম্প্রতি নগরীরন মাছুয়াপাড়ায় নিজবাড়িতে রংপুর জেলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী সপরিবারে খুনের শিকার হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’ জনকে গ্রেপ্তার করে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ এক রকম ঘোষণা করে বললেন, অল্প সময়েই খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সফল হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের এ বক্তব্য ও পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আলামত ধুয়ে নষ্ট করায় জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে ইয়াবা সেবনে বাধা দেয়ায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্বার্থ দাস তাদের একে একে গলায় কাপড় আর রশি পেঁচিয়ে হত্যা করেছে। অথচ ডোপটেস্টে আসামিদের মাদক গ্রহণের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
সমাবেশে আরও বলা হয়, এরকম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত হত্যাকারীদের সনাক্তকরণে যত ধরনের মোটিভ থাকতে পারে তা আমলে নেয়া হয়নি। তাই পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এখন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে এই ঘটনার বিচার করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, রংপুর নগরীর অলি-গলি এখন মাদকে সয়লাব। মাদকের হটস্পটগুলো পুলিশের অজানা থাকার কথা না। মাদক সরবরাহে কারা জড়িত, এদের প্রশ্রয়দাতা কে? এদের চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়তো এ ধরনের খুনের পুনরাবৃত্তি ঘটতো না।
এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি করে সব অপরাধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে রংপুরের জনগণের জিজ্ঞাসার সঠিক উত্তর দিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে রংপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করার ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন