দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘ভোটের এই তারিখগুলো প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশনের আরেকটি সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এই নির্বাচন কমিশনার জানান, প্রথম ধাপে দেশের ৮০টি উপজেলায় ভোট গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হতে পারে। তিনি সাতটি ধাপের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি তুলে ধরেন। সূচি অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোট আগামী বছরের ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে চাই। প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করবে কমিশন।’
তিনি জানান, ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে অংশীজনদের মতামত নিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ইসি। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনে এই আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যাতে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হবে।’
এর আগে সকালে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান, সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য ঠিক করেছে কমিশন।
তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তবে শুরুতে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দিচ্ছে ইসি।
আইন সংশোধন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদ্যমান আইনে বড় কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন না এলে বর্তমান আইনি কাঠামোর আওতায়ই নির্বাচন পরিচালিত হবে।
নির্ধারিত সময়ে ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বা কার্যগত জটিলতা থাকবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
এর আগে গত জুন মাসে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। কমিশনও আগস্টে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবর থেকে ভোট শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল।
তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সময়সূচি পিছিয়ে এখন নভেম্বরে নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটের মাধ্যমেই দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আমেজ শুরু হতে যাচ্ছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের বড় পাবলিক পরীক্ষা ও ধর্মীয় উৎসবগুলোকে বিবেচনায় নিয়েছে কমিশন। বার্ষিক পরীক্ষা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, দুর্গাপূজা এবং আগামী বছরের দুই ঈদকে মাথায় রেখেই ভোটের ‘স্লট’ তৈরি করা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, ৫৬টি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে আইনি জটিলতা রয়েছে, যেগুলোর নির্বাচন শেষ ধাপগুলোতে করা হবে।
দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার ২৭২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য উপযোগী হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন থাকায় ওই জেলাকে প্রথম ধাপের বাইরে রাখা হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। সেখানে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে সাত ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ওই সময় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও এবার তা উন্মুক্ত বা নির্দলীয়ভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘ভোটের এই তারিখগুলো প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশনের আরেকটি সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এই নির্বাচন কমিশনার জানান, প্রথম ধাপে দেশের ৮০টি উপজেলায় ভোট গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হতে পারে। তিনি সাতটি ধাপের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি তুলে ধরেন। সূচি অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোট আগামী বছরের ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে চাই। প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করবে কমিশন।’
তিনি জানান, ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে অংশীজনদের মতামত নিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ইসি। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনে এই আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যাতে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হবে।’
এর আগে সকালে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান, সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য ঠিক করেছে কমিশন।
তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তবে শুরুতে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দিচ্ছে ইসি।
আইন সংশোধন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদ্যমান আইনে বড় কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন না এলে বর্তমান আইনি কাঠামোর আওতায়ই নির্বাচন পরিচালিত হবে।
নির্ধারিত সময়ে ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বা কার্যগত জটিলতা থাকবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
এর আগে গত জুন মাসে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। কমিশনও আগস্টে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবর থেকে ভোট শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল।
তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সময়সূচি পিছিয়ে এখন নভেম্বরে নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটের মাধ্যমেই দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আমেজ শুরু হতে যাচ্ছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের বড় পাবলিক পরীক্ষা ও ধর্মীয় উৎসবগুলোকে বিবেচনায় নিয়েছে কমিশন। বার্ষিক পরীক্ষা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, দুর্গাপূজা এবং আগামী বছরের দুই ঈদকে মাথায় রেখেই ভোটের ‘স্লট’ তৈরি করা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, ৫৬টি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে আইনি জটিলতা রয়েছে, যেগুলোর নির্বাচন শেষ ধাপগুলোতে করা হবে।
দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার ২৭২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য উপযোগী হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন থাকায় ওই জেলাকে প্রথম ধাপের বাইরে রাখা হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। সেখানে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে সাত ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ওই সময় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও এবার তা উন্মুক্ত বা নির্দলীয়ভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন