চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ ক্রমাগত কমতে থাকার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। দেশীয় খনি থেকে গ্যাস উৎপাদন দিন দিন কমছে।
তবে বিদ্যুৎ, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে বাড়ছে গ্যাসের চাহিদা। ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরও বিদ্যুতে পর্যাপ্ত গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিনই কমবেশী লোডশেডিং হচ্ছে। দেশীয় কয়লা মজুদ রেখে আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে তাও প্রায়ই থমকে যাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা আমদানিতে নানা জটিলতার কারণে।
ভারতের আদানি থেকে চাহিদার প্রায় আট থেকে নয় শতাংশ বিদ্যুৎ ঠিকমত আসলে পরিস্থিতি অনেকটা সামাল দেওয়া যাচ্ছে। কারিগরি ত্রুটিতে সরবরাহ কমে গেলেই লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে।
বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দেশে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৬৩৬ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৭৯৭ মেগাওয়াট।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনকে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন আরও কমায় দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়। রোববার বন্ধ ইউনিট চালুর পর দুপুর থেকে উৎপাদন বাড়াচ্ছে তারা।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্র বলছে, রোববার দুপুর ১২টায় আদানির দ্বিতীয় ইউনিট থেকে সরবরাহ শুরু হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যায় বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এতে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমে যায়।
ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লা চালিত। মাঝে কয়লাস্বল্পতায় উৎপাদন কমেছিল। এখন কয়লার মজুত আছে। উৎপাদন হচ্ছিল ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি। এখন এটি ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে গেছে। বিপিডিবি জানায়, রামপালের একটি ইউনিট কী কারণে বন্ধ হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমতে থাকে। গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন বাড়িয়ে দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট করে তারা। আর সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত তারা সরবরাহ করছিল। বুধবার রাতে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায় উৎপাদন। তবে একটি ইউনিট বন্ধের পর উৎপাদন কমে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়।
২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে বিপিডিবি। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে এখানে। চাহিদা বুঝে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ করার রেকর্ড আছে এই কেন্দ্রের। আদানি সূত্রে জানা যায়, একটি ইউনিটের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। রোববার ভোরে এটি মেরামত করে পুনরায় উৎপাদন শুরুর জন্য তৈরি করা হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে এটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। এরপর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়তে শুরু করে।
বিপিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আদানির দুই ইউনিট মিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে এক হাজার ৪৫৩ মেগাওয়াট। এদিন বেলা ২টার দিকে আদানির থেকে সরবরাহ এক হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করে। এর আগে সকালের দিকে সর্বোচ্চ ৭৬০ মেগাওয়াট সরবরাহ করছিল তারা।
রবিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ভারত থেকে মোট বিদ্যুৎ আসে ২ হাজার ৫২৭ মেগাওয়াট। এরমধ্যে ভেড়ামারা এইচভিডিএস থেকে আসে ৯১৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে আসে ১৬০ মেগাওয়াট। এ সময় দেশে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল প্রায় ৬৭০ মেগাওয়াট।
গ্যাস সংকট
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ি, দেশে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র সরকারি, ৭০টি বেসরকারি ও ৩টি কেন্দ্র ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ি গ্যাস না পাওয়ার কারণে অর্ধেকের বেশী গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকে।
বিপিডিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার গ্যাস সংকটের কারণে ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশী গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমছে নিয়মিত। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা বলছে, চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হওয়ায় বিদ্যুৎ, শিল্প, আবাসিক, বাণিজ্যিক, সিএনজি, সারসহ বিভিন্ন খাতে এই গ্যাস রেশনিং করে সরবরাহ করা হয়। চাইলেও বিদ্যুৎ খাতে পুরো গ্যাস দেওয়া সম্ভব হয় না।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের চলমান সংকট থেকে উত্তরণের বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, “সরকারকে চিন্তার ধরন বদলাতে হবে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোকে সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনার ধারা বাদ দিতে হবে।”
তিনি বলেন, “প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেটা আগে বিবেচনা করতে হবে। ভোক্তাকে কী দামে বিদ্যুৎ সেবা দেওয়া হচ্ছে সেটাকে প্রাধান্য দিতে হবে।”
এম শাসুল আলম বলেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কারের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত- এ খাতের দুর্নীতি শনাক্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া। দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, জাতীয় সক্ষমতা তৈরি করা। অপ্রয়োজনীয় আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং সরবরাহের প্রতিটি পর্যায়ে ব্যয় হ্রাস করা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত করা। জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তিতে এ খাত পরিচালনা করা।”

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ ক্রমাগত কমতে থাকার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। দেশীয় খনি থেকে গ্যাস উৎপাদন দিন দিন কমছে।
তবে বিদ্যুৎ, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে বাড়ছে গ্যাসের চাহিদা। ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরও বিদ্যুতে পর্যাপ্ত গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিনই কমবেশী লোডশেডিং হচ্ছে। দেশীয় কয়লা মজুদ রেখে আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে তাও প্রায়ই থমকে যাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা আমদানিতে নানা জটিলতার কারণে।
ভারতের আদানি থেকে চাহিদার প্রায় আট থেকে নয় শতাংশ বিদ্যুৎ ঠিকমত আসলে পরিস্থিতি অনেকটা সামাল দেওয়া যাচ্ছে। কারিগরি ত্রুটিতে সরবরাহ কমে গেলেই লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে।
বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দেশে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৬৩৬ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৭৯৭ মেগাওয়াট।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনকে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন আরও কমায় দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়। রোববার বন্ধ ইউনিট চালুর পর দুপুর থেকে উৎপাদন বাড়াচ্ছে তারা।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্র বলছে, রোববার দুপুর ১২টায় আদানির দ্বিতীয় ইউনিট থেকে সরবরাহ শুরু হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যায় বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এতে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমে যায়।
ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লা চালিত। মাঝে কয়লাস্বল্পতায় উৎপাদন কমেছিল। এখন কয়লার মজুত আছে। উৎপাদন হচ্ছিল ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি। এখন এটি ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে গেছে। বিপিডিবি জানায়, রামপালের একটি ইউনিট কী কারণে বন্ধ হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমতে থাকে। গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন বাড়িয়ে দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট করে তারা। আর সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত তারা সরবরাহ করছিল। বুধবার রাতে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায় উৎপাদন। তবে একটি ইউনিট বন্ধের পর উৎপাদন কমে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়।
২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে বিপিডিবি। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে এখানে। চাহিদা বুঝে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ করার রেকর্ড আছে এই কেন্দ্রের। আদানি সূত্রে জানা যায়, একটি ইউনিটের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। রোববার ভোরে এটি মেরামত করে পুনরায় উৎপাদন শুরুর জন্য তৈরি করা হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে এটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। এরপর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়তে শুরু করে।
বিপিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আদানির দুই ইউনিট মিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে এক হাজার ৪৫৩ মেগাওয়াট। এদিন বেলা ২টার দিকে আদানির থেকে সরবরাহ এক হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করে। এর আগে সকালের দিকে সর্বোচ্চ ৭৬০ মেগাওয়াট সরবরাহ করছিল তারা।
রবিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ভারত থেকে মোট বিদ্যুৎ আসে ২ হাজার ৫২৭ মেগাওয়াট। এরমধ্যে ভেড়ামারা এইচভিডিএস থেকে আসে ৯১৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে আসে ১৬০ মেগাওয়াট। এ সময় দেশে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল প্রায় ৬৭০ মেগাওয়াট।
গ্যাস সংকট
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ি, দেশে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র সরকারি, ৭০টি বেসরকারি ও ৩টি কেন্দ্র ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ি গ্যাস না পাওয়ার কারণে অর্ধেকের বেশী গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকে।
বিপিডিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার গ্যাস সংকটের কারণে ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশী গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমছে নিয়মিত। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা বলছে, চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হওয়ায় বিদ্যুৎ, শিল্প, আবাসিক, বাণিজ্যিক, সিএনজি, সারসহ বিভিন্ন খাতে এই গ্যাস রেশনিং করে সরবরাহ করা হয়। চাইলেও বিদ্যুৎ খাতে পুরো গ্যাস দেওয়া সম্ভব হয় না।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের চলমান সংকট থেকে উত্তরণের বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, “সরকারকে চিন্তার ধরন বদলাতে হবে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোকে সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনার ধারা বাদ দিতে হবে।”
তিনি বলেন, “প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেটা আগে বিবেচনা করতে হবে। ভোক্তাকে কী দামে বিদ্যুৎ সেবা দেওয়া হচ্ছে সেটাকে প্রাধান্য দিতে হবে।”
এম শাসুল আলম বলেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কারের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত- এ খাতের দুর্নীতি শনাক্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া। দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, জাতীয় সক্ষমতা তৈরি করা। অপ্রয়োজনীয় আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং সরবরাহের প্রতিটি পর্যায়ে ব্যয় হ্রাস করা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত করা। জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তিতে এ খাত পরিচালনা করা।”

আপনার মতামত লিখুন