দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ২৭.৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কবাতির তীব্র সংকট। সন্ধ্যা নামলেই পুরো পৌর এলাকা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যায়, যা স্বাভাবিক জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
সরেজমিনে ঘুরে এবং রিফাত ভূঁইয়া, পারভেজ মিয়া, জামান, হাসান ও আলমগীরসহ একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভার প্রধান সড়কসহ অধিকাংশ অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় কার্যকর সোলার বা বৈদ্যুতিক বাতি নেই। পলাশ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘোড়াশাল বাইপাস (চিনিক রোড) এবং ঘোড়াশাল বাস কাউন্টার থেকে ঘোড়া চত্বর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার প্রধান সড়কেই প্রায় ৩০০ সড়কবাতি গায়েব। এ ছাড়া পলাশ সার কারখানা রোড, কো-অপারেটিভ স্কুল সড়ক, উত্তর চরপাড়া পোস্ট অফিস সড়ক, বাংলা জুট মিল থেকে ঘাগড়া এবং মিয়াপাড়া থেকে কাবিলা সড়কসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রায় দেড় হাজার সড়কবাতি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা চরম নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে এসব রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে স্থানীয় ছিনতাইকারী ও অপরাধী চক্র। গভীর রাতে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে চুরি হওয়ার ভয় তাড়া করে বেড়ায় সবাইকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জানানোর পরও পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ঘোড়াশাল পৌরসভার সড়কবাতি পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান জানান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট এবং কাজ করার পুরোনো গাড়িটি প্রায়ই নষ্ট থাকায় মেরামতের কাজ ধীরগতিতে চলছে। পৌর এলাকায় প্রায় তিন হাজার বাতির মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বাতি অকেজো। তিনি আরও জানান, নতুন বাতি লাগানোর কয়েক দিনের মধ্যেই তা চুরি হয়ে যাচ্ছে।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু ওবায়েদ বলেন, গত এক থেকে দেড় বছরে পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ও অডিটোরিয়াম এলাকা থেকে তারসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়ে গেছে। বাতি বা তার লাগানোর পরপরই তা চুরি হয়ে যাওয়ায় তারাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। তবে দ্রুতই এ সংকট সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ জানান, বেশ কিছু জায়গায় ইতোমধ্যে নতুন লাইট লাগানো হয়েছে। কিন্তু প্রধান সমস্যা হচ্ছে লাইট লাগানোর কিছুদিনের মধ্যেই তা চুরি হয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান এবং পর্যায়ক্রমে সব অন্ধকার সড়কে আলোর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
পৌরবাসী জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সব সড়কে পর্যাপ্ত আলো ও পুলিশি টহল বাড়ানো জরুরি।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ২৭.৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কবাতির তীব্র সংকট। সন্ধ্যা নামলেই পুরো পৌর এলাকা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যায়, যা স্বাভাবিক জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
সরেজমিনে ঘুরে এবং রিফাত ভূঁইয়া, পারভেজ মিয়া, জামান, হাসান ও আলমগীরসহ একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভার প্রধান সড়কসহ অধিকাংশ অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় কার্যকর সোলার বা বৈদ্যুতিক বাতি নেই। পলাশ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘোড়াশাল বাইপাস (চিনিক রোড) এবং ঘোড়াশাল বাস কাউন্টার থেকে ঘোড়া চত্বর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার প্রধান সড়কেই প্রায় ৩০০ সড়কবাতি গায়েব। এ ছাড়া পলাশ সার কারখানা রোড, কো-অপারেটিভ স্কুল সড়ক, উত্তর চরপাড়া পোস্ট অফিস সড়ক, বাংলা জুট মিল থেকে ঘাগড়া এবং মিয়াপাড়া থেকে কাবিলা সড়কসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রায় দেড় হাজার সড়কবাতি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা চরম নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে এসব রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে স্থানীয় ছিনতাইকারী ও অপরাধী চক্র। গভীর রাতে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে চুরি হওয়ার ভয় তাড়া করে বেড়ায় সবাইকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জানানোর পরও পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ঘোড়াশাল পৌরসভার সড়কবাতি পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান জানান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট এবং কাজ করার পুরোনো গাড়িটি প্রায়ই নষ্ট থাকায় মেরামতের কাজ ধীরগতিতে চলছে। পৌর এলাকায় প্রায় তিন হাজার বাতির মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বাতি অকেজো। তিনি আরও জানান, নতুন বাতি লাগানোর কয়েক দিনের মধ্যেই তা চুরি হয়ে যাচ্ছে।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু ওবায়েদ বলেন, গত এক থেকে দেড় বছরে পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ও অডিটোরিয়াম এলাকা থেকে তারসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়ে গেছে। বাতি বা তার লাগানোর পরপরই তা চুরি হয়ে যাওয়ায় তারাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। তবে দ্রুতই এ সংকট সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ জানান, বেশ কিছু জায়গায় ইতোমধ্যে নতুন লাইট লাগানো হয়েছে। কিন্তু প্রধান সমস্যা হচ্ছে লাইট লাগানোর কিছুদিনের মধ্যেই তা চুরি হয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান এবং পর্যায়ক্রমে সব অন্ধকার সড়কে আলোর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
পৌরবাসী জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সব সড়কে পর্যাপ্ত আলো ও পুলিশি টহল বাড়ানো জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন