সংবাদ

সেন্টকমের মধ্যস্থতায় গোপন আলোচনা

হুথিদের দমনে ইসরায়েলের সহায়তা চাইছে সৌদি আরব


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

হুথিদের দমনে ইসরায়েলের সহায়তা চাইছে সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় নেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলা ও আগ্রাসন মোকাবিলায় এবার ইসরায়েলের কাছে কৌশলগত সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যস্থতায় দুই চিরবৈরী দেশের মধ্যে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও সৌদি আরব কিংবা ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট, ওয়ালা ও ইসরায়েল হায়োমের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে প্রধানত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্য জেরুজালেম পোস্টের সঙ্গে আলাপকালে এক আঞ্চলিক কূটনীতিক জানিয়েছেন যে এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করেছে মার্কিন সেন্টকম।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনাগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার পরই মূলত এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও তিনটি সূত্রের বরাতে নিশ্চিত করেছে যে সৌদি যুবরাজ সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তা কামনা করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের সামরিক তৎপরতা ও ড্রোন হামলা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। দেশটির তেল পরিবহনের পাইপলাইন ও পাম্পিং স্থাপনায় চালানো এসব হামলার কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনের কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ। একই সঙ্গে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে হুথিরা, যা লোহিত সাগরের বাণিজ্য রুটে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনায় তেলসমৃদ্ধ দেশটির অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের এই সম্ভাব্য সহায়তার মূল উদ্দেশ্য হলো হুথিদের গোপন আস্তানা ও সামরিক অবস্থান সম্পর্কে নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা। এর মাধ্যমে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনা আগে থেকেই শনাক্ত করে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায় রিয়াদ। অতীতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছিল। এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই পর্দার আড়ালের যোগাযোগ নতুন কোনো আঞ্চলিক জোটের ইঙ্গিত দেয় কি না, সেদিকেই এখন সবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হুথিদের দমনে ইসরায়েলের সহায়তা চাইছে সৌদি আরব

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় নেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলা ও আগ্রাসন মোকাবিলায় এবার ইসরায়েলের কাছে কৌশলগত সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যস্থতায় দুই চিরবৈরী দেশের মধ্যে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও সৌদি আরব কিংবা ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট, ওয়ালা ও ইসরায়েল হায়োমের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে প্রধানত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্য জেরুজালেম পোস্টের সঙ্গে আলাপকালে এক আঞ্চলিক কূটনীতিক জানিয়েছেন যে এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করেছে মার্কিন সেন্টকম।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনাগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার পরই মূলত এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও তিনটি সূত্রের বরাতে নিশ্চিত করেছে যে সৌদি যুবরাজ সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তা কামনা করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের সামরিক তৎপরতা ও ড্রোন হামলা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। দেশটির তেল পরিবহনের পাইপলাইন ও পাম্পিং স্থাপনায় চালানো এসব হামলার কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনের কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ। একই সঙ্গে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে হুথিরা, যা লোহিত সাগরের বাণিজ্য রুটে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনায় তেলসমৃদ্ধ দেশটির অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের এই সম্ভাব্য সহায়তার মূল উদ্দেশ্য হলো হুথিদের গোপন আস্তানা ও সামরিক অবস্থান সম্পর্কে নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা। এর মাধ্যমে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনা আগে থেকেই শনাক্ত করে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায় রিয়াদ। অতীতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছিল। এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই পর্দার আড়ালের যোগাযোগ নতুন কোনো আঞ্চলিক জোটের ইঙ্গিত দেয় কি না, সেদিকেই এখন সবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত