সংবাদ

গাজায় ভবন ধসে নিহত ১১, ধ্বংসস্তূপের নিচে ছয় পরিবার


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

গাজায় ভবন ধসে নিহত ১১, ধ্বংসস্তূপের নিচে ছয় পরিবার

গাজার পশ্চিমাঞ্চলে একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, ওই ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ছয়টি পরিবার আটকা পড়ে থাকতে পারে।

মঙ্গলবার রাতে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে আকস্মিক এই ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। বুধবার সকাল পর্যন্ত সেখানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত ছিল। আল-জাজিরার যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশুদের জীবিত বা মৃত অবস্থায় বের করে আনছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তবে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির মারাত্মক সংকটের কারণে অনেককেই খালি হাতে কংক্রিট ও ভারী ধ্বংসাবশেষ সরাতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের আর্তনাদ ও সাহায্যের আকুতি শোনা যাচ্ছিল। তবে কংক্রিটের নিচে আটকে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছাতে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মীদের চরম বেগ পেতে হয়। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে শ্বাসকষ্টে ভোগা একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সঠিক আহত সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, ইসরায়েলি বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ভবনটিতে আগে থেকেই বড় ফাটল দেখা দিয়েছিল এবং এর মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করেই এটি ধসে পড়ে। যদিও ভবন ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী সংঘাতের কারণে গাজার হাজার হাজার বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভবন বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়লেও বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা বাধ্য হয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন।

এছাড়া অবরুদ্ধ গাজায় ভবন মেরামতের প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে ব্যবহারের মতো পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতিরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে। যার ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্মীদের অনেক সময় হাত দিয়েই ধ্বংসাবশেষ সরাতে হয় এবং আটকে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়। উদ্ধারকাজের এই ধীরগতি ও সরঞ্জামের সংকট হতাহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গাজায় ভবন ধসে নিহত ১১, ধ্বংসস্তূপের নিচে ছয় পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গাজার পশ্চিমাঞ্চলে একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, ওই ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ছয়টি পরিবার আটকা পড়ে থাকতে পারে।

মঙ্গলবার রাতে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে আকস্মিক এই ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। বুধবার সকাল পর্যন্ত সেখানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত ছিল। আল-জাজিরার যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশুদের জীবিত বা মৃত অবস্থায় বের করে আনছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তবে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির মারাত্মক সংকটের কারণে অনেককেই খালি হাতে কংক্রিট ও ভারী ধ্বংসাবশেষ সরাতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের আর্তনাদ ও সাহায্যের আকুতি শোনা যাচ্ছিল। তবে কংক্রিটের নিচে আটকে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছাতে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মীদের চরম বেগ পেতে হয়। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে শ্বাসকষ্টে ভোগা একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সঠিক আহত সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, ইসরায়েলি বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ভবনটিতে আগে থেকেই বড় ফাটল দেখা দিয়েছিল এবং এর মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করেই এটি ধসে পড়ে। যদিও ভবন ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী সংঘাতের কারণে গাজার হাজার হাজার বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভবন বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়লেও বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা বাধ্য হয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন।

এছাড়া অবরুদ্ধ গাজায় ভবন মেরামতের প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে ব্যবহারের মতো পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতিরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে। যার ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্মীদের অনেক সময় হাত দিয়েই ধ্বংসাবশেষ সরাতে হয় এবং আটকে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়। উদ্ধারকাজের এই ধীরগতি ও সরঞ্জামের সংকট হতাহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত