জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন সব উপ-নির্বাচনেও কঠোর নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির চেয়ে আরও উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে উপ-নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অত্যন্ত সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে এক সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, অংশগ্রহণকারী সকলের সম্মতিতে আগামী বছরের জুনের আগেই দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এবারের প্রলয়ংকরী বন্যায় দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। পরীক্ষার কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর যৌক্তিক অনুরোধকে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। নির্বাচনি দায়িত্ব এবং প্রশিক্ষণের জন্য একজন শিক্ষককে কমপক্ষে এক সপ্তাহ ব্যস্ত থাকতে হয়, যা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও প্রাক-প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও শিডিউলের জটিলতা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার জানান, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা থাকায় সময় পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ। যদিও জানুয়ারি মাসে কিছুটা ফাঁকা সময় পাওয়া যায়, তবে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ায় এবং এর পরপরই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় নির্বাচন আয়োজনের জন্য হাতে খুবই সীমিত সময় রয়েছে। বিশেষ করে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যবর্তী সংক্ষিপ্ত সুযোগটি কাজে লাগাতে কমিশন নিবিড় অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
আগের প্রারম্ভিক পরিকল্পনা থেকে নির্বাচন কমিশন পিছিয়ে আসছে কি না, এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে তিনি কড়া অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আগের পরিকল্পনাটি ছিল একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ রূপরেখা। সকল উপাত্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত বৈঠকের মাধ্যমেই নির্বাচনের প্রকৃত সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন সব উপ-নির্বাচনেও কঠোর নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির চেয়ে আরও উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে উপ-নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অত্যন্ত সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে এক সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, অংশগ্রহণকারী সকলের সম্মতিতে আগামী বছরের জুনের আগেই দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এবারের প্রলয়ংকরী বন্যায় দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। পরীক্ষার কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর যৌক্তিক অনুরোধকে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। নির্বাচনি দায়িত্ব এবং প্রশিক্ষণের জন্য একজন শিক্ষককে কমপক্ষে এক সপ্তাহ ব্যস্ত থাকতে হয়, যা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও প্রাক-প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও শিডিউলের জটিলতা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার জানান, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা থাকায় সময় পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ। যদিও জানুয়ারি মাসে কিছুটা ফাঁকা সময় পাওয়া যায়, তবে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ায় এবং এর পরপরই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় নির্বাচন আয়োজনের জন্য হাতে খুবই সীমিত সময় রয়েছে। বিশেষ করে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যবর্তী সংক্ষিপ্ত সুযোগটি কাজে লাগাতে কমিশন নিবিড় অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
আগের প্রারম্ভিক পরিকল্পনা থেকে নির্বাচন কমিশন পিছিয়ে আসছে কি না, এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে তিনি কড়া অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আগের পরিকল্পনাটি ছিল একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ রূপরেখা। সকল উপাত্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত বৈঠকের মাধ্যমেই নির্বাচনের প্রকৃত সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন