সংবাদ

এআইয়ের একেকটি ছবির আড়ালে খরচ হচ্ছে কত পানি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

এআইয়ের একেকটি ছবির আড়ালে খরচ হচ্ছে কত পানি

মুঠোফোনে কয়েকটি শব্দ লিখলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরি করে দিচ্ছে ছবি, লেখা কিংবা নানা ধরনের কনটেন্ট। ব্যবহারকারীর কাছে কাজটি কয়েক সেকেন্ডের হলেও এর পেছনে কাজ করে বিশাল ডেটা সেন্টার। হাজার হাজার শক্তিশালী সার্ভার চালাতে যেমন বিপুল বিদ্যু প্রয়োজন, তেমনি সেগুলো ঠান্ডা রাখতেও খরচ হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি।

কেন পানি লাগে ডেটা সেন্টারে

এআইয়ের কোনো নির্দেশনা বা ‘প্রম্পট’ সাধারণত দূরের ডেটা সেন্টারে থাকা শক্তিশালী কম্পিউটারে প্রক্রিয়াজাত হয়। সেখানে বিপুলসংখ্যক সার্ভার একসঙ্গে জটিল হিসাব-নিকাশ করে। এতে সার্ভারগুলো প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত তাপ সরাতে অনেক ডেটা সেন্টারে ব্যবহার করা হয় ‘ইভাপোরেটিভ কুলিং’ পদ্ধতি।

এই ব্যবস্থায় গরম সার্ভারের তাপ পানি শুষে নেয়। পরে কুলিং টাওয়ারে সেই পানি ঠান্ডা করার সময় একটি অংশ বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যায়। বাকি পানিতে খনিজ পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় তা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায় না। ফলে নির্দিষ্ট সময় পর সেই পানি ফেলে দিয়ে নতুন পানি যোগ করতে হয়।

একটি এআই ছবিতে কত পানি?

পানির পরিমাণ নির্ভর করে ডেটা সেন্টারের অবস্থান, ব্যবহৃত প্রযুক্তি, বিদ্যুপাদনের উস এবং হিসাবের পদ্ধতির ওপর। ২০২৩ সালের একটি গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গড় ডেটা সেন্টারে জিপিটি-৩ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ শব্দের লেখা তৈরি করতে প্রায় ১৭ মিলিলিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে। এর একটি অংশ সরাসরি সার্ভার ঠান্ড করতে এবং বাকি অংশ বিদ্যুপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

ছবি তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। কোথাও একটি ছবির জন্য প্রায় ২৩ মিলিলিটার, আবার কোথাও ৫ থেকে ৬০ মিলিলিটার বা তার বেশি পানির হিসাব দেওয়া হয়েছে। মূল পার্থক্য হলো, কোনো হিসাবে শুধু ডেটা সেন্টারের কুলিংয়ের পানি ধরা হয়, আবার কোনো হিসাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পানিও যুক্ত করা হয়।

একটি অনলাইন অনুসন্ধানের তুলনায় এআইয়ের ক্ষেত্রে পানির ব্যবহারও বেশি হতে পারে। তবে একেকটি কাজের পরিমাণ সামান্য মনে হলেও প্রতিদিন কোটি কোটি এআই অনুরোধ প্রক্রিয়াজাত হওয়ায় মোট পানির ব্যবহার বড় হয়ে দাঁড়ায়।

বড় ডেটা সেন্টারে বিপুল পানি

যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড এনার্জি স্টাডি ইনস্টিটিউটের (ইইএসআই) তথ্য অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের ডেটা সেন্টারে বছরে প্রায় ১১ কোটি গ্যালন পানি খরচ হতে পারে। বড় ডেটা সেন্টারে দৈনিক পানির ব্যবহার ৫০ লাখ গ্যালন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

পানির এই ব্যবহার শুধু সার্ভার ঠান্ড করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন, যার একটি অংশ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রেও শীতলীকরণের জন্য পানি লাগে। ফলে এআইয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়লে পরোক্ষভাবেও পানির ব্যবহার বাড়তে পারে।

বিকল্প পানির সন্ধানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

পানির ওপর চাপ কমাতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প উৎস ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের কিছু ডেটা সেন্টারে পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সিঙ্গাপুরে তাদের ডেটা সেন্টারের প্রায় ৯৯ শতাংশ পানি অ-সুপেয় উৎস থেকে আসে।

অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসও ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২০টির বেশি ডেটা সেন্টারে পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহারের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এতে বছরে প্রায় ৫৩ কোটি গ্যালন সুপেয় পানি সাশ্রয় হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।

গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজন ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ওয়াটার পজিটিভ’ হওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছে। অর্থাৎ নিজেদের ব্যবহারের চেয়ে বেশি পানি পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার

পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ কমানোর আরেকটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ধারণা এসেছে। ২০১৮ সালে স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের কাছে ‘প্রজেক্ট নেটিক’ নামে পরীক্ষামূলক ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছিল মাইক্রোসফট। প্রায় দুই বছর পর সেটি তুলে দেখা যায়, স্থলভাগের তুলনায় পানির নিচে থাকা সার্ভারগুলো কম নষ্ট হয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে এগোয়নি।

চীনের প্রতিষ্ঠান হাইল্যান্ডার অবশ্য এ ধারণা নিয়ে এগিয়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হাইনান দ্বীপের উপকূলে তারা বাণিজ্যিক পানির নিচের ডেটা সেন্টার চালু করেছে। সমুদ্রের ঠান্ডা পানি ব্যবহার করে সার্ভারের তাপ বাইরে সরিয়ে নেওয়াই এই ব্যবস্থার মূল ধারণা।

পানি বাঁচালে বাড়ে বিদ্যুৎ খরচ

পানির ব্যবহার কমাতে ‘ক্লোজড-লুপ’ ও ‘ইমারশন কুলিং’-এর মতো প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্লোজড-লুপ ব্যবস্থায় তরল একটি বদ্ধ চক্রে ঘুরতে থাকে, ফলে বাষ্প হয়ে পানির অপচয় কমে। ইমারশন কুলিংয়ে সার্ভারকে বিশেষ তরলের মধ্যে রাখা হয়।

তবে এরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পানি বাষ্প হয়ে স্বাভাবিকভাবে তাপ হারানোর সুযোগ না থাকায় তরল ঠান্ডা করতে শক্তিশালী চিলার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়। এতে আবার বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায় এবং প্রযুক্তি স্থাপনের খরচও বেশি।

ফলে এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত প্রভাবও নতুন করে আলোচনায় আসছে। পানি ও বিদ্যুৎ-দুইয়ের ব্যবহার কমিয়ে কার্যকর শীতলীকরণ ব্যবস্থা তৈরি করাই এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এআইয়ের একেকটি ছবির আড়ালে খরচ হচ্ছে কত পানি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মুঠোফোনে কয়েকটি শব্দ লিখলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরি করে দিচ্ছে ছবি, লেখা কিংবা নানা ধরনের কনটেন্ট। ব্যবহারকারীর কাছে কাজটি কয়েক সেকেন্ডের হলেও এর পেছনে কাজ করে বিশাল ডেটা সেন্টার। হাজার হাজার শক্তিশালী সার্ভার চালাতে যেমন বিপুল বিদ্যু প্রয়োজন, তেমনি সেগুলো ঠান্ডা রাখতেও খরচ হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি।

কেন পানি লাগে ডেটা সেন্টারে

এআইয়ের কোনো নির্দেশনা বা ‘প্রম্পট’ সাধারণত দূরের ডেটা সেন্টারে থাকা শক্তিশালী কম্পিউটারে প্রক্রিয়াজাত হয়। সেখানে বিপুলসংখ্যক সার্ভার একসঙ্গে জটিল হিসাব-নিকাশ করে। এতে সার্ভারগুলো প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত তাপ সরাতে অনেক ডেটা সেন্টারে ব্যবহার করা হয় ‘ইভাপোরেটিভ কুলিং’ পদ্ধতি।

এই ব্যবস্থায় গরম সার্ভারের তাপ পানি শুষে নেয়। পরে কুলিং টাওয়ারে সেই পানি ঠান্ডা করার সময় একটি অংশ বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যায়। বাকি পানিতে খনিজ পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় তা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায় না। ফলে নির্দিষ্ট সময় পর সেই পানি ফেলে দিয়ে নতুন পানি যোগ করতে হয়।

একটি এআই ছবিতে কত পানি?

পানির পরিমাণ নির্ভর করে ডেটা সেন্টারের অবস্থান, ব্যবহৃত প্রযুক্তি, বিদ্যুপাদনের উস এবং হিসাবের পদ্ধতির ওপর। ২০২৩ সালের একটি গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গড় ডেটা সেন্টারে জিপিটি-৩ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ শব্দের লেখা তৈরি করতে প্রায় ১৭ মিলিলিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে। এর একটি অংশ সরাসরি সার্ভার ঠান্ড করতে এবং বাকি অংশ বিদ্যুপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

ছবি তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। কোথাও একটি ছবির জন্য প্রায় ২৩ মিলিলিটার, আবার কোথাও ৫ থেকে ৬০ মিলিলিটার বা তার বেশি পানির হিসাব দেওয়া হয়েছে। মূল পার্থক্য হলো, কোনো হিসাবে শুধু ডেটা সেন্টারের কুলিংয়ের পানি ধরা হয়, আবার কোনো হিসাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পানিও যুক্ত করা হয়।

একটি অনলাইন অনুসন্ধানের তুলনায় এআইয়ের ক্ষেত্রে পানির ব্যবহারও বেশি হতে পারে। তবে একেকটি কাজের পরিমাণ সামান্য মনে হলেও প্রতিদিন কোটি কোটি এআই অনুরোধ প্রক্রিয়াজাত হওয়ায় মোট পানির ব্যবহার বড় হয়ে দাঁড়ায়।

বড় ডেটা সেন্টারে বিপুল পানি

যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড এনার্জি স্টাডি ইনস্টিটিউটের (ইইএসআই) তথ্য অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের ডেটা সেন্টারে বছরে প্রায় ১১ কোটি গ্যালন পানি খরচ হতে পারে। বড় ডেটা সেন্টারে দৈনিক পানির ব্যবহার ৫০ লাখ গ্যালন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

পানির এই ব্যবহার শুধু সার্ভার ঠান্ড করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন, যার একটি অংশ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রেও শীতলীকরণের জন্য পানি লাগে। ফলে এআইয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়লে পরোক্ষভাবেও পানির ব্যবহার বাড়তে পারে।

বিকল্প পানির সন্ধানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

পানির ওপর চাপ কমাতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প উৎস ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের কিছু ডেটা সেন্টারে পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সিঙ্গাপুরে তাদের ডেটা সেন্টারের প্রায় ৯৯ শতাংশ পানি অ-সুপেয় উৎস থেকে আসে।

অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসও ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২০টির বেশি ডেটা সেন্টারে পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহারের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এতে বছরে প্রায় ৫৩ কোটি গ্যালন সুপেয় পানি সাশ্রয় হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।

গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজন ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ওয়াটার পজিটিভ’ হওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছে। অর্থাৎ নিজেদের ব্যবহারের চেয়ে বেশি পানি পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার

পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ কমানোর আরেকটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ধারণা এসেছে। ২০১৮ সালে স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের কাছে ‘প্রজেক্ট নেটিক’ নামে পরীক্ষামূলক ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছিল মাইক্রোসফট। প্রায় দুই বছর পর সেটি তুলে দেখা যায়, স্থলভাগের তুলনায় পানির নিচে থাকা সার্ভারগুলো কম নষ্ট হয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে এগোয়নি।

চীনের প্রতিষ্ঠান হাইল্যান্ডার অবশ্য এ ধারণা নিয়ে এগিয়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হাইনান দ্বীপের উপকূলে তারা বাণিজ্যিক পানির নিচের ডেটা সেন্টার চালু করেছে। সমুদ্রের ঠান্ডা পানি ব্যবহার করে সার্ভারের তাপ বাইরে সরিয়ে নেওয়াই এই ব্যবস্থার মূল ধারণা।

পানি বাঁচালে বাড়ে বিদ্যুৎ খরচ

পানির ব্যবহার কমাতে ‘ক্লোজড-লুপ’ ও ‘ইমারশন কুলিং’-এর মতো প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্লোজড-লুপ ব্যবস্থায় তরল একটি বদ্ধ চক্রে ঘুরতে থাকে, ফলে বাষ্প হয়ে পানির অপচয় কমে। ইমারশন কুলিংয়ে সার্ভারকে বিশেষ তরলের মধ্যে রাখা হয়।

তবে এরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পানি বাষ্প হয়ে স্বাভাবিকভাবে তাপ হারানোর সুযোগ না থাকায় তরল ঠান্ডা করতে শক্তিশালী চিলার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়। এতে আবার বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায় এবং প্রযুক্তি স্থাপনের খরচও বেশি।

ফলে এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত প্রভাবও নতুন করে আলোচনায় আসছে। পানি ও বিদ্যুৎ-দুইয়ের ব্যবহার কমিয়ে কার্যকর শীতলীকরণ ব্যবস্থা তৈরি করাই এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত