স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ধরা পড়া সমস্যাকে আমরা সাধারণত আলাদা করে দেখি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কিছু রোগের মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র থাকতে পারে। ফলে একটি অঙ্গে সমস্যা ধরা পড়লে শরীরের অন্য দিকগুলোর স্বাস্থ্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্যাংবুক স্যামসাং হসপিটাল হেলথ স্ক্রিনিং সেন্টারের দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় প্রায় চার লাখ সুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দুই শতাধিক ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করে গবেষকেরা শরীরের বিভিন্ন রোগ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে কিডনি ও হৃদ্রোগের সম্পর্ক
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে ফ্যাটি লিভার হলে বিষয়টি শুধু লিভারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এ সমস্যার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ও হৃদ্রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
একইভাবে কিডনিতে পাথর ধরা পড়লেও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। বিভিন্ন গবেষণায় কিডনিতে পাথর হওয়ার সঙ্গে হৃদ্রোগসহ কিছু বিপাকীয় সমস্যার সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।
নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজও শরীরে একাধিক পরিবর্তন আনতে পারে। হট ফ্ল্যাশ বা হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘুমের সমস্যা, মেজাজের পরিবর্তন ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এ সময়ের উপসর্গগুলোকে আলাদাভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
‘সুস্থ স্থূলতা’ কি সত্যিই ঝুঁকিমুক্ত?
কিছু মানুষের ওজন বেশি হলেও রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। এই অবস্থাকে অনেক সময় ‘মেটাবলিক্যালি হেলদি অবেসিটি’ বা সুস্থ স্থূলতা বলা হয়।
তবে স্বাভাবিক পরীক্ষার ফল থাকলেই অতিরিক্ত ওজনকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা যায় না। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণে অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
কেন একাধিক রোগের সম্পর্ক তৈরি হয়
একটি রোগ সরাসরি আরেকটি রোগ সৃষ্টি করে—গবেষণার ফলাফলকে এমন সরলভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। এর পেছনে অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের ঘাটতি ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার সম্মিলিত প্রভাব থাকতে পারে।
তাই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ছোট কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লেও শুধু সেই সমস্যার চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ না থেকে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা জরুরি। ওজন, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ধরা পড়া সমস্যাকে আমরা সাধারণত আলাদা করে দেখি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কিছু রোগের মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র থাকতে পারে। ফলে একটি অঙ্গে সমস্যা ধরা পড়লে শরীরের অন্য দিকগুলোর স্বাস্থ্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্যাংবুক স্যামসাং হসপিটাল হেলথ স্ক্রিনিং সেন্টারের দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় প্রায় চার লাখ সুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দুই শতাধিক ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করে গবেষকেরা শরীরের বিভিন্ন রোগ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে কিডনি ও হৃদ্রোগের সম্পর্ক
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে ফ্যাটি লিভার হলে বিষয়টি শুধু লিভারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এ সমস্যার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ও হৃদ্রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
একইভাবে কিডনিতে পাথর ধরা পড়লেও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। বিভিন্ন গবেষণায় কিডনিতে পাথর হওয়ার সঙ্গে হৃদ্রোগসহ কিছু বিপাকীয় সমস্যার সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।
নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজও শরীরে একাধিক পরিবর্তন আনতে পারে। হট ফ্ল্যাশ বা হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘুমের সমস্যা, মেজাজের পরিবর্তন ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এ সময়ের উপসর্গগুলোকে আলাদাভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
‘সুস্থ স্থূলতা’ কি সত্যিই ঝুঁকিমুক্ত?
কিছু মানুষের ওজন বেশি হলেও রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। এই অবস্থাকে অনেক সময় ‘মেটাবলিক্যালি হেলদি অবেসিটি’ বা সুস্থ স্থূলতা বলা হয়।
তবে স্বাভাবিক পরীক্ষার ফল থাকলেই অতিরিক্ত ওজনকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা যায় না। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণে অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
কেন একাধিক রোগের সম্পর্ক তৈরি হয়
একটি রোগ সরাসরি আরেকটি রোগ সৃষ্টি করে—গবেষণার ফলাফলকে এমন সরলভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। এর পেছনে অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের ঘাটতি ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার সম্মিলিত প্রভাব থাকতে পারে।
তাই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ছোট কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লেও শুধু সেই সমস্যার চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ না থেকে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা জরুরি। ওজন, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন