হঠাৎ মিষ্টি, লবণাক্ত খাবার কিংবা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ কিছু খেতে ইচ্ছা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু নিয়মিতভাবে এসব খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলে বিষয়টি শুধু স্বাদের পছন্দ বা অভ্যাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের ঘাটতি, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং মানসিক চাপ—বিভিন্ন কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ভারতের মেনোভেডারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা
ও সার্টিফায়েড মেনোপজ কোচ তামান্না সিং হিন্দুস্তান
টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষার সম্ভাব্য কারণ
ও তা সামলানোর কিছু উপায় তুলে ধরেছেন।
হরমোনের পরিবর্তনেও এমন হতে পারে
পেরিমেনোপজের সময়ে শরীরে ইস্ট্রোজেনের
মাত্রায় পরিবর্তন ঘটে। তামান্না সিংয়ের মতে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা নিয়ন্ত্রণে ইস্ট্রোজেনের
ভূমিকা থাকায় এ সময় রক্তে শর্করার ওঠানামাতেও প্রভাব পড়তে পারে।
কখনো খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করা
দ্রুত কমে গেলে শরীর তাৎক্ষণিক শক্তির উৎসের প্রয়োজন অনুভব করতে পারে। তখন মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেটজাতীয়
খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়ে। অর্থাৎ এমন পরিস্থিতিকে সবসময় আত্মসংযমের ঘাটতি হিসেবে দেখার
কারণ নেই; শরীরের শক্তির চাহিদাও এর পেছনে থাকতে পারে।
ঘুমের ঘাটতিতে বাড়তে পারে ক্ষুধা
খাবারের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ঘুমেরও
সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা ঘ্রেলিন
ও লেপ্টিন হরমোনের ভারসাম্য ব্যাহত হতে পারে বলে জানান তামান্না সিং।
এর ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি
ক্ষুধা লাগতে পারে। আবার খাওয়ার পরও পেট ভরা বা তৃপ্তির অনুভূতি কম হতে পারে। তাই ঘুম
কম হলে মিষ্টি, লবণাক্ত খাবার বা কার্বোহাইড্রেটের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক
নয়।
মানসিক চাপের প্রভাবও রয়েছে
কাজের চাপ, ব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত
নানা কারণে তৈরি মানসিক চাপও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে পারে। তামান্না সিংয়ের
ব্যাখ্যায়, স্ট্রেসের সময় শরীরে কোর্টিসল হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে দ্রুত শক্তি
দিতে পারে এমন খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়তে পারে।
তাই অতিরিক্ত মিষ্টি বা লবণাক্ত
খাবার খাওয়ার ইচ্ছা শুধু শারীরিক ক্ষুধার কারণে হয় না। দীর্ঘ সময়ের মানসিক চাপের মধ্যেও
এ ধরনের প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
আকাঙ্ক্ষা কমাতে যা করবেন
খাবারের প্রতি এমন টান তৈরি হলে
নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ক্ষুধা
তৈরি হয়ে বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেটের
সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস রাখা যেতে পারে। এতে খাবারের পর রক্তে শর্করার
দ্রুত ওঠানামা কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের
দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
কখন খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা
সবচেয়ে বেশি হচ্ছে, সেটিও খেয়াল করা যেতে পারে। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে এমন প্রবণতা দেখা
দেয় কি না, মানসিক চাপের সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে কি না কিংবা মাসিক চক্রের কোনো নির্দিষ্ট
পর্যায়ে এটি বাড়ছে কি না-এসব লিখে রাখলে সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।
তীব্র খাবারের আকাঙ্ক্ষাকে তাই
শুধু খারাপ অভ্যাস বা ইচ্ছাশক্তির অভাব হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রে এটি
শরীরের ভেতরের পরিবর্তন বা শক্তির ভারসাম্যসংক্রান্ত একটি সংকেত হতে পারে। নিয়মিতভাবে
এমন সমস্যা হলে নিজের খাদ্যাভ্যাস, ঘুম ও মানসিক চাপের ধরন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন
অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হঠাৎ মিষ্টি, লবণাক্ত খাবার কিংবা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ কিছু খেতে ইচ্ছা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু নিয়মিতভাবে এসব খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলে বিষয়টি শুধু স্বাদের পছন্দ বা অভ্যাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের ঘাটতি, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং মানসিক চাপ—বিভিন্ন কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ভারতের মেনোভেডারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা
ও সার্টিফায়েড মেনোপজ কোচ তামান্না সিং হিন্দুস্তান
টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষার সম্ভাব্য কারণ
ও তা সামলানোর কিছু উপায় তুলে ধরেছেন।
হরমোনের পরিবর্তনেও এমন হতে পারে
পেরিমেনোপজের সময়ে শরীরে ইস্ট্রোজেনের
মাত্রায় পরিবর্তন ঘটে। তামান্না সিংয়ের মতে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা নিয়ন্ত্রণে ইস্ট্রোজেনের
ভূমিকা থাকায় এ সময় রক্তে শর্করার ওঠানামাতেও প্রভাব পড়তে পারে।
কখনো খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করা
দ্রুত কমে গেলে শরীর তাৎক্ষণিক শক্তির উৎসের প্রয়োজন অনুভব করতে পারে। তখন মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেটজাতীয়
খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়ে। অর্থাৎ এমন পরিস্থিতিকে সবসময় আত্মসংযমের ঘাটতি হিসেবে দেখার
কারণ নেই; শরীরের শক্তির চাহিদাও এর পেছনে থাকতে পারে।
ঘুমের ঘাটতিতে বাড়তে পারে ক্ষুধা
খাবারের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ঘুমেরও
সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা ঘ্রেলিন
ও লেপ্টিন হরমোনের ভারসাম্য ব্যাহত হতে পারে বলে জানান তামান্না সিং।
এর ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি
ক্ষুধা লাগতে পারে। আবার খাওয়ার পরও পেট ভরা বা তৃপ্তির অনুভূতি কম হতে পারে। তাই ঘুম
কম হলে মিষ্টি, লবণাক্ত খাবার বা কার্বোহাইড্রেটের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক
নয়।
মানসিক চাপের প্রভাবও রয়েছে
কাজের চাপ, ব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত
নানা কারণে তৈরি মানসিক চাপও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে পারে। তামান্না সিংয়ের
ব্যাখ্যায়, স্ট্রেসের সময় শরীরে কোর্টিসল হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে দ্রুত শক্তি
দিতে পারে এমন খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়তে পারে।
তাই অতিরিক্ত মিষ্টি বা লবণাক্ত
খাবার খাওয়ার ইচ্ছা শুধু শারীরিক ক্ষুধার কারণে হয় না। দীর্ঘ সময়ের মানসিক চাপের মধ্যেও
এ ধরনের প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
আকাঙ্ক্ষা কমাতে যা করবেন
খাবারের প্রতি এমন টান তৈরি হলে
নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ক্ষুধা
তৈরি হয়ে বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেটের
সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস রাখা যেতে পারে। এতে খাবারের পর রক্তে শর্করার
দ্রুত ওঠানামা কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের
দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
কখন খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা
সবচেয়ে বেশি হচ্ছে, সেটিও খেয়াল করা যেতে পারে। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে এমন প্রবণতা দেখা
দেয় কি না, মানসিক চাপের সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে কি না কিংবা মাসিক চক্রের কোনো নির্দিষ্ট
পর্যায়ে এটি বাড়ছে কি না-এসব লিখে রাখলে সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।
তীব্র খাবারের আকাঙ্ক্ষাকে তাই
শুধু খারাপ অভ্যাস বা ইচ্ছাশক্তির অভাব হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রে এটি
শরীরের ভেতরের পরিবর্তন বা শক্তির ভারসাম্যসংক্রান্ত একটি সংকেত হতে পারে। নিয়মিতভাবে
এমন সমস্যা হলে নিজের খাদ্যাভ্যাস, ঘুম ও মানসিক চাপের ধরন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন
অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন