বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান ও ইঞ্জিনিয়ারিং মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত ও সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।’
উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করা হবে। এই মাস্টারপ্ল্যানের অধীনে ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি ছাত্র হল, ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি ছাত্রী হল, ১২ তলাবিশিষ্ট একটি টিচার্স কোয়ার্টার, ১২ তলাবিশিষ্ট একটি অফিসার্স কোয়ার্টার, ১২ তলাবিশিষ্ট একটি স্টাফ কোয়ার্টার, ১৫ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ৭ তলাবিশিষ্ট টিএসসি/অডিটোরিয়াম, প্রশাসনিক ভবনের ১০ তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, লাইব্রেরি ভবনের ৫ তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, কেন্দ্রীয় মসজিদের ৩ তলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, একতলা বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ বেশ কিছু অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিন থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে এগিয়ে নিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে ফিরিয়ে এনে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম সচল করেন। শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন উপাচার্য।
এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন, উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গত দুই বছরে গৃহীত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচারে সরকারি উদ্যোগ ও তদন্তে সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, শহীদ আবু সাঈদ স্মরণে বইমেলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, ডিনস ও মেরিট অ্যাওয়ার্ড এবং শিক্ষার্থী অগ্রাধিকার প্রদান, আধুনিক পাঠ্যক্রম, গবেষণা উন্নয়ন ও প্রকাশনা চালু করা।
বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে আইকিউএসির কার্যক্রম গতিশীল, আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন, শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কোর্স এবং ক্যাম্পাস রেডিওর কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছেন। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়াচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষের সংকট মোকাবেলায় দুটি একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী চারতলা থেকে ছয়তলা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসে উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার ও অতিথি ভবন নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। দূরদুরান্তের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর যাতায়াতের কথা চিন্তা করে রংপুর জেলার উপজেলাগুলোতে নতুন বাস সার্ভিস চালু করেছেন।
শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা লেখাপড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তিনটি আবাসিক হলে এসি সুবিধাসহ আধুনিক রিডিং রুমের ব্যবস্থা করেছেন। নারী শিক্ষার্থীদের নামাজের সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদে আলাদা ব্যবস্থা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলা উদ্বোধন করেছেন। পাশাপাশি ২ নম্বর গেটের কৃষ্ণচূড়া সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথকে আরও নান্দনিক ও পরিচিতিমূলক করার লক্ষ্যে শহীদ আবু সাঈদ গেটের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু করেছেন।
এদিকে, উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মতবিনিময়কালে অনুষদের ডিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান ও ইঞ্জিনিয়ারিং মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত ও সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।’
উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করা হবে। এই মাস্টারপ্ল্যানের অধীনে ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি ছাত্র হল, ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি ছাত্রী হল, ১২ তলাবিশিষ্ট একটি টিচার্স কোয়ার্টার, ১২ তলাবিশিষ্ট একটি অফিসার্স কোয়ার্টার, ১২ তলাবিশিষ্ট একটি স্টাফ কোয়ার্টার, ১৫ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ৭ তলাবিশিষ্ট টিএসসি/অডিটোরিয়াম, প্রশাসনিক ভবনের ১০ তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, লাইব্রেরি ভবনের ৫ তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, কেন্দ্রীয় মসজিদের ৩ তলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, একতলা বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ বেশ কিছু অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিন থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে এগিয়ে নিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে ফিরিয়ে এনে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম সচল করেন। শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন উপাচার্য।
এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন, উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গত দুই বছরে গৃহীত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচারে সরকারি উদ্যোগ ও তদন্তে সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, শহীদ আবু সাঈদ স্মরণে বইমেলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, ডিনস ও মেরিট অ্যাওয়ার্ড এবং শিক্ষার্থী অগ্রাধিকার প্রদান, আধুনিক পাঠ্যক্রম, গবেষণা উন্নয়ন ও প্রকাশনা চালু করা।
বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে আইকিউএসির কার্যক্রম গতিশীল, আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন, শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কোর্স এবং ক্যাম্পাস রেডিওর কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছেন। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়াচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষের সংকট মোকাবেলায় দুটি একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী চারতলা থেকে ছয়তলা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসে উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার ও অতিথি ভবন নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। দূরদুরান্তের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর যাতায়াতের কথা চিন্তা করে রংপুর জেলার উপজেলাগুলোতে নতুন বাস সার্ভিস চালু করেছেন।
শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা লেখাপড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তিনটি আবাসিক হলে এসি সুবিধাসহ আধুনিক রিডিং রুমের ব্যবস্থা করেছেন। নারী শিক্ষার্থীদের নামাজের সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদে আলাদা ব্যবস্থা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলা উদ্বোধন করেছেন। পাশাপাশি ২ নম্বর গেটের কৃষ্ণচূড়া সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথকে আরও নান্দনিক ও পরিচিতিমূলক করার লক্ষ্যে শহীদ আবু সাঈদ গেটের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু করেছেন।
এদিকে, উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মতবিনিময়কালে অনুষদের ডিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন