চট্টগ্রামে নিখোঁজের ৫দিন পরও কোনো খোঁজ মেলেনি কলেজ ছাত্রী মিথিলার। নগরীর ৩৭ নম্বর মুনিরনগর ওয়ার্ড এলাকা থেকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে নিখোঁজ হন চট্টগ্রামের বেপজা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী মিথিলা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজের পঞ্চম দিনেও খোঁজ নেই মিথিলার।
পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগীকে খুঁজে বের করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। অথচ মিথিলাকে সন্ধান না পেয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে অসহায় পরিবারের।
বন্দর থানায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. মাঈন উদ্দিন হৃদয়ের করা সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বন্দর থানার ৩৭ নং ওয়ার্ড মুন্সিপাড়া এলাকা থেকে তার বোন মিথিলা নিখোঁজ হন।
সূত্রমতে, নগরীর দক্ষিণ হালিশহর থেকে বেপজা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী মিথিলা নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ওই কলেজছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে জিডি তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হয়। মুক্তিপণ না দিলে মেয়েকে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মিথিলার পরিবার জানায়, কলেজের ইউনিফর্ম পরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরে পরিবারের কাছে ফোন ও অনলাইনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ৫ লাখ টাকা দাবি করা হলেও কোথায় গিয়ে টাকা দিতে হবে, তা জানানো হয়নি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানায় পরিবার।
ভুক্তভোগীর ভাই হৃদয় বলেন, মিথিলা নিখোঁজ হওয়ার পর তারা বন্দর থানায় একটি জিডি করেন। জিডি করার পর তার মোবাইল ফোনে ব্রিলিয়ান্ট অ্যাপস নামে একটি ভিওআইপি নম্বর থেকে কল আসে। ওই কল থেকে জিডি তুলে নিতে বলা হয় এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
হৃদয় বলেন, ‘জিডি করার পরও অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন করে আমাকে জিডি তুলে নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি আমি নিখোঁজ জিডির তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
মিথিলার বাবা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, ‘কলেজের ইউনিফর্ম পরে মেয়েটা ঘর থেকে বের হয়েছিল। এরপর আর কোনো খোঁজ পাইনি। অনলাইনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও তারা কোথায় নিয়ে গিয়ে এসব টাকা দিতে হবে, সেটি জানায়নি।’
নাসির উদ্দীন আরও বলেন, তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত। কয়েক দফা ফোন করে মেয়েকে নানাভাবে হয়রানি এবং মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
মিথিলার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সঙ্গে নগরীর দক্ষিণ হালিশহর এলাকায় বসবাস করত মিথিলা।
মিথিলার নিখোঁজের ঘটনায় করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা খায়রুল বাশার সাজিদ বলেন, সম্ভাব্য কয়েকটি ক্লু সামনে রেখে এই ঘটনার তদন্ত চলছে। এটা কি অপহরণ নাকি প্রেমঘটিত, ভুক্তভোগী কি চট্টগ্রামে নাকি চট্টগ্রামের বাইরে রয়েছে- সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আমরা উদ্ধারের কিছু ক্লু পেয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছে না। দুয়েক দিনের মধ্যে তাকে উদ্ধার করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তদন্তকারী এই কর্মকর্তা।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মিথিলাকে উদ্ধারে পুলিশের সব ধরনের চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামে নিখোঁজের ৫দিন পরও কোনো খোঁজ মেলেনি কলেজ ছাত্রী মিথিলার। নগরীর ৩৭ নম্বর মুনিরনগর ওয়ার্ড এলাকা থেকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে নিখোঁজ হন চট্টগ্রামের বেপজা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী মিথিলা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজের পঞ্চম দিনেও খোঁজ নেই মিথিলার।
পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগীকে খুঁজে বের করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। অথচ মিথিলাকে সন্ধান না পেয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে অসহায় পরিবারের।
বন্দর থানায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. মাঈন উদ্দিন হৃদয়ের করা সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বন্দর থানার ৩৭ নং ওয়ার্ড মুন্সিপাড়া এলাকা থেকে তার বোন মিথিলা নিখোঁজ হন।
সূত্রমতে, নগরীর দক্ষিণ হালিশহর থেকে বেপজা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী মিথিলা নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ওই কলেজছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে জিডি তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হয়। মুক্তিপণ না দিলে মেয়েকে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মিথিলার পরিবার জানায়, কলেজের ইউনিফর্ম পরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরে পরিবারের কাছে ফোন ও অনলাইনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ৫ লাখ টাকা দাবি করা হলেও কোথায় গিয়ে টাকা দিতে হবে, তা জানানো হয়নি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানায় পরিবার।
ভুক্তভোগীর ভাই হৃদয় বলেন, মিথিলা নিখোঁজ হওয়ার পর তারা বন্দর থানায় একটি জিডি করেন। জিডি করার পর তার মোবাইল ফোনে ব্রিলিয়ান্ট অ্যাপস নামে একটি ভিওআইপি নম্বর থেকে কল আসে। ওই কল থেকে জিডি তুলে নিতে বলা হয় এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
হৃদয় বলেন, ‘জিডি করার পরও অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন করে আমাকে জিডি তুলে নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি আমি নিখোঁজ জিডির তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
মিথিলার বাবা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, ‘কলেজের ইউনিফর্ম পরে মেয়েটা ঘর থেকে বের হয়েছিল। এরপর আর কোনো খোঁজ পাইনি। অনলাইনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও তারা কোথায় নিয়ে গিয়ে এসব টাকা দিতে হবে, সেটি জানায়নি।’
নাসির উদ্দীন আরও বলেন, তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত। কয়েক দফা ফোন করে মেয়েকে নানাভাবে হয়রানি এবং মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
মিথিলার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সঙ্গে নগরীর দক্ষিণ হালিশহর এলাকায় বসবাস করত মিথিলা।
মিথিলার নিখোঁজের ঘটনায় করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা খায়রুল বাশার সাজিদ বলেন, সম্ভাব্য কয়েকটি ক্লু সামনে রেখে এই ঘটনার তদন্ত চলছে। এটা কি অপহরণ নাকি প্রেমঘটিত, ভুক্তভোগী কি চট্টগ্রামে নাকি চট্টগ্রামের বাইরে রয়েছে- সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আমরা উদ্ধারের কিছু ক্লু পেয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছে না। দুয়েক দিনের মধ্যে তাকে উদ্ধার করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তদন্তকারী এই কর্মকর্তা।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মিথিলাকে উদ্ধারে পুলিশের সব ধরনের চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন