সংবাদ

সেতুর অভাবে হাঁটু পানিতে পারাপার, বর্ষায় সাঁতার


সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

সেতুর অভাবে হাঁটু পানিতে পারাপার, বর্ষায় সাঁতার
সেতুর অভাবে পানিতে ভিজে পড়তে যাওয়া-আসা। বর্ষকালে অনেক সময় সাঁতার দিতে হয়।

বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের বমু খালের ওপর সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ম্রো সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে খাল পারাপার করা গেলেও বর্ষা এলেই পানির উচ্চতা ও স্রোত বেড়ে যায়। তখন ঝুঁকি নিয়ে হাঁটুসমান পানিতে ভিজে খাল পার হতে হয় স্থানীয়দের। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্কুলগামী শিশুদের। প্রতিদিন হাঁটু পানিতে ভিজে খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। ছুটির পর একইভাবে পানিতে ভিজেই বাড়ি ফিরতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, বমু খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হয়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

গজালিয়া ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, “বর্ষা শুরু হলেই আমাদের কষ্ট বেড়ে যায়। খালের পানি ও স্রোত বাড়লে পারাপার করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তারপরও প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হয়। একটি সেতু হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হতো।”

একই এলাকার আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন পানিতে ভিজে স্কুলে যায়। বৃষ্টির সময় অনেক সময় খালের পানি এত বেড়ে যায় যে শিশুদের পারাপার করানো কঠিন হয়ে পড়ে। সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অসুস্থ রোগী ও বয়স্কদেরও সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয়।”

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ এলাকার মানুষের অন্যতম আয়ের উৎস কৃষিকাজ। কিন্তু সেতু না থাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। বর্ষায় খালের পানি বেড়ে গেলে অনেক সময় ফসল বাজারজাত করাই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এক কৃষক বলেন, “আমাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অনেক ঝামেলা হয়। সেতু না থাকায় পণ্য পারাপারে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। একটি সেতু হলে কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করা সম্ভব হতো।”

স্থানীয়দের দাবি, বমু খালের ওপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা হলে গজালিয়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ বিষয়ে বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী রনী সাহা বলেন, “বমু খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত সময়ে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এদিকে সেতুটি নির্মিত হলে গজালিয়া ইউনিয়নের চিনতাবা পাড়া, তলই পাড়া, লুলাইং পাড়া, কচুছড়া পাড়া, তুলাতলী পাড়া ও ডেকিছড়া পাড়াসহ ম্রো সম্প্রদায়ের ১২টি পাড়ার কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সেতুর অভাবে হাঁটু পানিতে পারাপার, বর্ষায় সাঁতার

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের বমু খালের ওপর সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ম্রো সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে খাল পারাপার করা গেলেও বর্ষা এলেই পানির উচ্চতা ও স্রোত বেড়ে যায়। তখন ঝুঁকি নিয়ে হাঁটুসমান পানিতে ভিজে খাল পার হতে হয় স্থানীয়দের। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্কুলগামী শিশুদের। প্রতিদিন হাঁটু পানিতে ভিজে খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। ছুটির পর একইভাবে পানিতে ভিজেই বাড়ি ফিরতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, বমু খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হয়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

গজালিয়া ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, “বর্ষা শুরু হলেই আমাদের কষ্ট বেড়ে যায়। খালের পানি ও স্রোত বাড়লে পারাপার করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তারপরও প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হয়। একটি সেতু হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হতো।”

একই এলাকার আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন পানিতে ভিজে স্কুলে যায়। বৃষ্টির সময় অনেক সময় খালের পানি এত বেড়ে যায় যে শিশুদের পারাপার করানো কঠিন হয়ে পড়ে। সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অসুস্থ রোগী ও বয়স্কদেরও সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয়।”

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ এলাকার মানুষের অন্যতম আয়ের উৎস কৃষিকাজ। কিন্তু সেতু না থাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। বর্ষায় খালের পানি বেড়ে গেলে অনেক সময় ফসল বাজারজাত করাই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এক কৃষক বলেন, “আমাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অনেক ঝামেলা হয়। সেতু না থাকায় পণ্য পারাপারে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। একটি সেতু হলে কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করা সম্ভব হতো।”

স্থানীয়দের দাবি, বমু খালের ওপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা হলে গজালিয়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ বিষয়ে বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী রনী সাহা বলেন, “বমু খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত সময়ে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এদিকে সেতুটি নির্মিত হলে গজালিয়া ইউনিয়নের চিনতাবা পাড়া, তলই পাড়া, লুলাইং পাড়া, কচুছড়া পাড়া, তুলাতলী পাড়া ও ডেকিছড়া পাড়াসহ ম্রো সম্প্রদায়ের ১২টি পাড়ার কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত