সংবাদ

শিশুদের ক্ষতিপূরণে ১৮ বিলিয়ন ডলার সমঝোতা মেটার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ এএম

শিশুদের ক্ষতিপূরণে ১৮ বিলিয়ন ডলার সমঝোতা মেটার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত আসক্তি, ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের প্রবাহ নিয়ে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বড় সমঝোতায় পৌঁছেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মেটা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা। আদালত এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিলে পরবর্তী ১০ বছর ধরে মেটাকে একগুচ্ছ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ কার্যকর রাখতে হবে।
মেটার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আগামী ১০ বছরে বিভিন্ন কিস্তিতে প্রদান করা হবে, যার প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ অংশ নেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলো পাবে এবং অবশিষ্ট অংশ ইউটিউব ও টিকটকের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কিত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
​চুক্তির আওতায় ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বেশ কিছু বাধ্যতামূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার স্ক্রিন টাইম ডিফল্ট হিসেবে নির্ধারণ করা থাকবে, যা অভিভাবকরা চাইলে পরিবর্তন করতে পারবেন।
এছাড়া রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার বন্ধ রাখার সুবিধা এবং রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ও স্কুল চলাকালীন সব নোটিফিকেশন স্থগিত রাখার ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। শিশুদের ওপর মানসিক চাপ কমাতে তাদের পোস্টের লাইক সংখ্যা গোপন রাখা হবে এবং চেহারা পরিবর্তনকারী কোনো সৌন্দর্য ফিল্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে অ্যালগরিদমের সুপারিশ ছাড়া সাধারণ ফিড দেখার বিকল্পও উন্মুক্ত করা হবে।
​নিরাপত্তা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মেটা আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ক্ষতিকর কনটেন্ট সংক্রান্ত কিশোর ব্যবহারকারীদের অভিযোগের ৯০ শতাংশই মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে প্রযুক্তিগত বয়স যাচাই ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
​শিশুদের গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষার নীতি লঙ্ঘনের বিষয়ে মেটা তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, "তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং এই নতুন সমঝোতা আমাদের সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ।"
একই সঙ্গে সব প্ল্যাটফর্মে সমান সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, "কেবল একটি প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলে কিশোররা সহজেই অন্য অ্যাপে যুক্ত হতে পারে, তাই ইউটিউব ও টিকটকের মতো সমসাময়িক প্ল্যাটফর্মগুলোতেও অনুরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।"
​চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এই সমঝোতা ও আইনি খরচের জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার হিসাবভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মেটা। চুক্তির বেশিরভাগ শর্ত দীর্ঘমেয়াদী হলেও দৈনিক ব্যবহার সীমার মতো নিয়মগুলো প্রাথমিক অবস্থায় পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর হতে পারে। নিউ মেক্সিকোর পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে এই বহুল আলোচিত আর্থিক নিষ্পত্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিশুদের ক্ষতিপূরণে ১৮ বিলিয়ন ডলার সমঝোতা মেটার

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত আসক্তি, ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের প্রবাহ নিয়ে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বড় সমঝোতায় পৌঁছেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মেটা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা। আদালত এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিলে পরবর্তী ১০ বছর ধরে মেটাকে একগুচ্ছ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ কার্যকর রাখতে হবে।
মেটার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আগামী ১০ বছরে বিভিন্ন কিস্তিতে প্রদান করা হবে, যার প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ অংশ নেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলো পাবে এবং অবশিষ্ট অংশ ইউটিউব ও টিকটকের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কিত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
​চুক্তির আওতায় ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বেশ কিছু বাধ্যতামূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার স্ক্রিন টাইম ডিফল্ট হিসেবে নির্ধারণ করা থাকবে, যা অভিভাবকরা চাইলে পরিবর্তন করতে পারবেন।
এছাড়া রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার বন্ধ রাখার সুবিধা এবং রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ও স্কুল চলাকালীন সব নোটিফিকেশন স্থগিত রাখার ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। শিশুদের ওপর মানসিক চাপ কমাতে তাদের পোস্টের লাইক সংখ্যা গোপন রাখা হবে এবং চেহারা পরিবর্তনকারী কোনো সৌন্দর্য ফিল্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে অ্যালগরিদমের সুপারিশ ছাড়া সাধারণ ফিড দেখার বিকল্পও উন্মুক্ত করা হবে।
​নিরাপত্তা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মেটা আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ক্ষতিকর কনটেন্ট সংক্রান্ত কিশোর ব্যবহারকারীদের অভিযোগের ৯০ শতাংশই মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে প্রযুক্তিগত বয়স যাচাই ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
​শিশুদের গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষার নীতি লঙ্ঘনের বিষয়ে মেটা তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, "তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং এই নতুন সমঝোতা আমাদের সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ।"
একই সঙ্গে সব প্ল্যাটফর্মে সমান সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, "কেবল একটি প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলে কিশোররা সহজেই অন্য অ্যাপে যুক্ত হতে পারে, তাই ইউটিউব ও টিকটকের মতো সমসাময়িক প্ল্যাটফর্মগুলোতেও অনুরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।"
​চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এই সমঝোতা ও আইনি খরচের জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার হিসাবভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মেটা। চুক্তির বেশিরভাগ শর্ত দীর্ঘমেয়াদী হলেও দৈনিক ব্যবহার সীমার মতো নিয়মগুলো প্রাথমিক অবস্থায় পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর হতে পারে। নিউ মেক্সিকোর পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে এই বহুল আলোচিত আর্থিক নিষ্পত্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত