মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ’ সংক্রান্ত একের পর এক সামাজিক ও কূটনৈতিক বক্তব্যের পর তৈরি হওয়া কূটনৈতিক টানাপোড়েন অবশেষে প্রশমিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ওয়াশিংটনে ডেনমার্ক ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সন্তোষ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং সার্বিক বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অত্যন্ত চমৎকার সমঝোতা।’
১০ পৃষ্ঠার এই কৌশলগত চুক্তির ধারা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে দুটি নতুন পূর্ণাঙ্গ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি পাবে। এর একটি স্থাপন করা হবে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণে নারসারসুয়াকে এবং অন্যটি পূর্বাঞ্চলের মেস্টারসভিগে। দ্বীপটির উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পিটুফিক বিমানঘাঁটির কার্যক্রমও আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত আকাশপথটি গ্রিনল্যান্ডের ওপর দিয়ে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ভৌগোলিকভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া মেরু অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়া এবং গ্রিনল্যান্ডে থাকা দুর্লভ খনিজ সম্পদের বিপুল মজুত এই দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
চুক্তিতে স্পষ্টভাবে ‘ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা’ পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডবাসীর ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার’ স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগত খাতে চীন ও রাশিয়ার প্রবেশাধিকার সীমিত করার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘আমরা যে কঠিন ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, আশা করি এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনবে।’ অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেন জানান, উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে গ্রিনল্যান্ড তার ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন। তবে দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ক্ষতের পর দ্বিপক্ষীয় বিশ্বাস পুনর্গঠনে আরও সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ নেতৃত্ব এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই চুক্তিকে আটলান্টিক পারের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ’ সংক্রান্ত একের পর এক সামাজিক ও কূটনৈতিক বক্তব্যের পর তৈরি হওয়া কূটনৈতিক টানাপোড়েন অবশেষে প্রশমিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ওয়াশিংটনে ডেনমার্ক ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সন্তোষ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং সার্বিক বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অত্যন্ত চমৎকার সমঝোতা।’
১০ পৃষ্ঠার এই কৌশলগত চুক্তির ধারা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে দুটি নতুন পূর্ণাঙ্গ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি পাবে। এর একটি স্থাপন করা হবে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণে নারসারসুয়াকে এবং অন্যটি পূর্বাঞ্চলের মেস্টারসভিগে। দ্বীপটির উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পিটুফিক বিমানঘাঁটির কার্যক্রমও আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত আকাশপথটি গ্রিনল্যান্ডের ওপর দিয়ে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ভৌগোলিকভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া মেরু অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়া এবং গ্রিনল্যান্ডে থাকা দুর্লভ খনিজ সম্পদের বিপুল মজুত এই দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
চুক্তিতে স্পষ্টভাবে ‘ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা’ পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডবাসীর ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার’ স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগত খাতে চীন ও রাশিয়ার প্রবেশাধিকার সীমিত করার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘আমরা যে কঠিন ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, আশা করি এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনবে।’ অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেন জানান, উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে গ্রিনল্যান্ড তার ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন। তবে দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ক্ষতের পর দ্বিপক্ষীয় বিশ্বাস পুনর্গঠনে আরও সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ নেতৃত্ব এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই চুক্তিকে আটলান্টিক পারের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন