সংবাদ

ডেঙ্গুতে পানিশূন্যতার যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

ডেঙ্গুতে পানিশূন্যতার যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না

ডেঙ্গুতে জ্বর শরীর খারাপের পাশাপাশি পানিশূন্যতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। উচ্চ জ্বর, বমি, খাবারে অনীহা কিংবা পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ না করার কারণে শরীরে পানি প্রয়োজনীয় তরলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সময়মতো তা বুঝতে না পারলে রোগীর দুর্বলতা বাড়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে কি না, সেদিকে শুরু থেকেই নজর রাখা জরুরি।

দুর্বলতা মাথা ঘোরা

ডিহাইড্রেশনের কারণে শরীর অস্বাভাবিক দুর্বল লাগতে পারে। বিশেষ করে শোয়া বা বসা অবস্থা থেকে দাঁড়ানোর সময় মাথা ঘোরা, ঝিমঝিম করা বা ভারসাম্য হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে একা না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো।

ত্বক চোখের পরিবর্তন

পানিশূন্যতায় ত্বক স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। শিশু বয়স্কদের ক্ষেত্রে চোখ কিছুটা বসে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্লান্ত দেখানোর মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গ একা ডিহাইড্রেশন নিশ্চিত করে না; অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গেও বিবেচনা করতে হবে।

তৃষ্ণা মুখ শুকিয়ে যাওয়া

অতিরিক্ত পিপাসা ডিহাইড্রেশনের পরিচিত লক্ষণগুলোর একটি। এর সঙ্গে মুখ, জিহ্বা বা ঠোঁট শুকিয়ে যেতে পারে এবং মুখের ভেতর আঠালো অনুভূতি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে অল্প অল্প করে বারবার তরল পান করা উচিত।

প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া

শরীরে তরলের ঘাটতি হলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমতে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় গাঢ় হলুদ প্রস্রাবও পানিশূন্যতার ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হওয়া বা খুব কমে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বমি হলে ঝুঁকি বাড়ে

বারবার বমি হলে শরীর থেকে পানি লবণজাতীয় উপাদান দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে পানিশূন্যতা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে। অবস্থায় রোগী কী পরিমাণ এবং কোন ধরনের তরল গ্রহণ করবেন, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।

পানিশূন্যতা এড়াতে যা করবেন

ডেঙ্গু হলে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পাশাপাশি নিয়মিত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। একবারে বেশি পান করার বদলে অল্প অল্প করে বারবার পানি প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস গ্রহণ করা যেতে পারে। ডাবের পানি, স্যুপ বা অন্যান্য উপযুক্ত তরলও নেওয়া যেতে পারে।

তবে কিডনি, হৃদ্রোগ বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে নিজের মতো করে অতিরিক্ত তরল পান না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।

ডেঙ্গুতে শুধু জ্বরের দিকে নজর দিলেই হবে না; রোগী পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করছেন কি না এবং প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক আছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। পানিশূন্যতার লক্ষণ শুরুতেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে জটিলতার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ থাকে।

 কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন

ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে-

  • প্রস্রাবের পরিমাণ খুব কমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি বা অস্বাভাবিক ঝিমুনি
  • বারবার বমি হওয়া
  • তীব্র পেটব্যথা
  • শ্বাসকষ্ট
  • নাক, মাড়ি বা শরীরের অন্য কোথাও রক্তপাত

এসব লক্ষণ শুধু পানিশূন্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত নাও হতে পারে; ডেঙ্গুর গুরুতর জটিলতারও ইঙ্গিত হতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডেঙ্গুতে পানিশূন্যতার যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ডেঙ্গুতে জ্বর শরীর খারাপের পাশাপাশি পানিশূন্যতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। উচ্চ জ্বর, বমি, খাবারে অনীহা কিংবা পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ না করার কারণে শরীরে পানি প্রয়োজনীয় তরলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সময়মতো তা বুঝতে না পারলে রোগীর দুর্বলতা বাড়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে কি না, সেদিকে শুরু থেকেই নজর রাখা জরুরি।

দুর্বলতা মাথা ঘোরা

ডিহাইড্রেশনের কারণে শরীর অস্বাভাবিক দুর্বল লাগতে পারে। বিশেষ করে শোয়া বা বসা অবস্থা থেকে দাঁড়ানোর সময় মাথা ঘোরা, ঝিমঝিম করা বা ভারসাম্য হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে একা না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো।

ত্বক চোখের পরিবর্তন

পানিশূন্যতায় ত্বক স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। শিশু বয়স্কদের ক্ষেত্রে চোখ কিছুটা বসে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্লান্ত দেখানোর মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গ একা ডিহাইড্রেশন নিশ্চিত করে না; অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গেও বিবেচনা করতে হবে।

তৃষ্ণা মুখ শুকিয়ে যাওয়া

অতিরিক্ত পিপাসা ডিহাইড্রেশনের পরিচিত লক্ষণগুলোর একটি। এর সঙ্গে মুখ, জিহ্বা বা ঠোঁট শুকিয়ে যেতে পারে এবং মুখের ভেতর আঠালো অনুভূতি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে অল্প অল্প করে বারবার তরল পান করা উচিত।

প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া

শরীরে তরলের ঘাটতি হলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমতে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় গাঢ় হলুদ প্রস্রাবও পানিশূন্যতার ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হওয়া বা খুব কমে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বমি হলে ঝুঁকি বাড়ে

বারবার বমি হলে শরীর থেকে পানি লবণজাতীয় উপাদান দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে পানিশূন্যতা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে। অবস্থায় রোগী কী পরিমাণ এবং কোন ধরনের তরল গ্রহণ করবেন, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।

পানিশূন্যতা এড়াতে যা করবেন

ডেঙ্গু হলে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পাশাপাশি নিয়মিত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। একবারে বেশি পান করার বদলে অল্প অল্প করে বারবার পানি প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস গ্রহণ করা যেতে পারে। ডাবের পানি, স্যুপ বা অন্যান্য উপযুক্ত তরলও নেওয়া যেতে পারে।

তবে কিডনি, হৃদ্রোগ বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে নিজের মতো করে অতিরিক্ত তরল পান না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।

ডেঙ্গুতে শুধু জ্বরের দিকে নজর দিলেই হবে না; রোগী পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করছেন কি না এবং প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক আছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। পানিশূন্যতার লক্ষণ শুরুতেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে জটিলতার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ থাকে।

 কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন

ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে-

  • প্রস্রাবের পরিমাণ খুব কমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি বা অস্বাভাবিক ঝিমুনি
  • বারবার বমি হওয়া
  • তীব্র পেটব্যথা
  • শ্বাসকষ্ট
  • নাক, মাড়ি বা শরীরের অন্য কোথাও রক্তপাত

এসব লক্ষণ শুধু পানিশূন্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত নাও হতে পারে; ডেঙ্গুর গুরুতর জটিলতারও ইঙ্গিত হতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত