সংবাদ

গলা খুসখুস ও শুকনো কাশিতে আরাম দিতে পারে যেসব পানীয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

গলা খুসখুস ও শুকনো কাশিতে আরাম দিতে পারে যেসব পানীয়

গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি, খুসখুসে ভাব কিংবা শুকনো কাশি অনেকের দৈনন্দিন কাজে অস্বস্তি তৈরি করে। বিশেষ করে রাতে কাশি বাড়লে ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন কারণে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

কাশির কারণ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল পান কিছু উষ্ণ পানীয় গলার শুষ্কতা অস্বস্তি সাময়িকভাবে কমাতে সহায়ক হতে পারে। ঘরেই সহজে তৈরি করা যায় এমন কয়েকটি পানীয় হলো

মধু-লেবুর উষ্ণ পানি

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চা চামচ মধু সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। উষ্ণ তরল গলা আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে, আর মধু কাশির অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনোভাবেই মধু দেওয়া যাবে না, কারণ এতে বটুলিজমের ঝুঁকি রয়েছে।

আদা-লেবু চা

দুই কাপ পানিতে সামান্য আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে পরিমাণ কমিয়ে প্রায় এক কাপ করে নিতে পারেন। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে এতে এক চা চামচ লেবুর রস মধু মেশানো যায়।

গরম বা কুসুম গরম তরল গলার শুষ্কতা অস্বস্তিতে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। আদার ঝাঁঝও অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে। তবে এটি কাশির মূল কারণের চিকিৎসা নয়।

তুলসি-আদা-মধুর পানীয়

কয়েকটি তুলসি পাতা পরিষ্কার করে থেঁতো করে নিন। এর সঙ্গে দুই চা চামচ আদার রস এক চা চামচ মধু মিশিয়ে কুসুম গরম পানিতে খাওয়া যেতে পারে।

ধরনের পানীয় গলা আর্দ্র রাখতে এবং খুসখুসে ভাবের সময় সাময়িক আরাম দিতে পারে। মধু মেশানোর সময় পানি অতিরিক্ত গরম না রাখাই ভালো।

মসলা কাড়া

এক টুকরা দারুচিনি, এক চা চামচ আদা কুচি, চারটি তুলসি পাতা, দুটি গোলমরিচ দুটি লবঙ্গ অল্প পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিতে পারেন। এরপর ছেঁকে নিয়ে সামান্য মধু মিশিয়ে পান করা যায়।

মসলার ঝাঁঝ অনেকের নাক গলার অস্বস্তিতে আরামদায়ক অনুভূতি দিতে পারে। তবে বেশি মসলা ব্যবহার করলে গলা বা পাকস্থলীতে উল্টো অস্বস্তি হতে পারে। যাঁদের অ্যাসিডিটি বা মসলা-সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা উচিত।

হলুদ দুধ

এক গ্লাস গরম দুধে অল্প হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। চাইলে দুধ কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর সামান্য মধু যোগ করা যায়।

উষ্ণ পানীয় হিসেবে এটি গলায় আরাম দিতে পারে। তবে দুধ খেলে ব্যক্তিগতভাবে অস্বস্তি হয় বা উপসর্গ বাড়ে বলে মনে হলে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

আরও যা করতে পারেন

খুসখুসে কাশি হলে এসব পানীয়ের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা, ধুলাবালি ধোঁয়া থেকে দূরে থাকা এবং ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক না রাখা উপকারী হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কাশি শুধু গলার অস্বস্তির কারণে হচ্ছেএমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কাশি কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, উচ্চ জ্বর, রক্ত ওঠা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে উপসর্গ বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

ঘরোয়া পানীয় সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা অন্য কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গলা খুসখুস ও শুকনো কাশিতে আরাম দিতে পারে যেসব পানীয়

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি, খুসখুসে ভাব কিংবা শুকনো কাশি অনেকের দৈনন্দিন কাজে অস্বস্তি তৈরি করে। বিশেষ করে রাতে কাশি বাড়লে ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন কারণে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

কাশির কারণ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল পান কিছু উষ্ণ পানীয় গলার শুষ্কতা অস্বস্তি সাময়িকভাবে কমাতে সহায়ক হতে পারে। ঘরেই সহজে তৈরি করা যায় এমন কয়েকটি পানীয় হলো

মধু-লেবুর উষ্ণ পানি

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চা চামচ মধু সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। উষ্ণ তরল গলা আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে, আর মধু কাশির অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনোভাবেই মধু দেওয়া যাবে না, কারণ এতে বটুলিজমের ঝুঁকি রয়েছে।

আদা-লেবু চা

দুই কাপ পানিতে সামান্য আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে পরিমাণ কমিয়ে প্রায় এক কাপ করে নিতে পারেন। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে এতে এক চা চামচ লেবুর রস মধু মেশানো যায়।

গরম বা কুসুম গরম তরল গলার শুষ্কতা অস্বস্তিতে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। আদার ঝাঁঝও অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে। তবে এটি কাশির মূল কারণের চিকিৎসা নয়।

তুলসি-আদা-মধুর পানীয়

কয়েকটি তুলসি পাতা পরিষ্কার করে থেঁতো করে নিন। এর সঙ্গে দুই চা চামচ আদার রস এক চা চামচ মধু মিশিয়ে কুসুম গরম পানিতে খাওয়া যেতে পারে।

ধরনের পানীয় গলা আর্দ্র রাখতে এবং খুসখুসে ভাবের সময় সাময়িক আরাম দিতে পারে। মধু মেশানোর সময় পানি অতিরিক্ত গরম না রাখাই ভালো।

মসলা কাড়া

এক টুকরা দারুচিনি, এক চা চামচ আদা কুচি, চারটি তুলসি পাতা, দুটি গোলমরিচ দুটি লবঙ্গ অল্প পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিতে পারেন। এরপর ছেঁকে নিয়ে সামান্য মধু মিশিয়ে পান করা যায়।

মসলার ঝাঁঝ অনেকের নাক গলার অস্বস্তিতে আরামদায়ক অনুভূতি দিতে পারে। তবে বেশি মসলা ব্যবহার করলে গলা বা পাকস্থলীতে উল্টো অস্বস্তি হতে পারে। যাঁদের অ্যাসিডিটি বা মসলা-সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা উচিত।

হলুদ দুধ

এক গ্লাস গরম দুধে অল্প হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। চাইলে দুধ কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর সামান্য মধু যোগ করা যায়।

উষ্ণ পানীয় হিসেবে এটি গলায় আরাম দিতে পারে। তবে দুধ খেলে ব্যক্তিগতভাবে অস্বস্তি হয় বা উপসর্গ বাড়ে বলে মনে হলে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

আরও যা করতে পারেন

খুসখুসে কাশি হলে এসব পানীয়ের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা, ধুলাবালি ধোঁয়া থেকে দূরে থাকা এবং ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক না রাখা উপকারী হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কাশি শুধু গলার অস্বস্তির কারণে হচ্ছেএমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কাশি কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, উচ্চ জ্বর, রক্ত ওঠা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে উপসর্গ বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

ঘরোয়া পানীয় সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা অন্য কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত