ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে বাংলাদেশি টাকার অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বিনিময় হার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। শুধু গত এক বছরেই এ বৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। ভারতীয় রুপিতে কোনো পণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত থাকলে টাকার বিনিময় মূল্য শক্তিশালী হওয়ার কারণে সেই পণ্যের মূল্য পরিশোধে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
অর্থাৎ একই পরিমাণ ভারতীয় রুপি সংগ্রহ করতে আগের তুলনায় কম বাংলাদেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এর ফলে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ ব্যয়ের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা দিয়ে পাওয়া যাচ্ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি। একই দিনে ২০২৫ সালে এক টাকা সমান ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা দিয়ে পাওয়া যেত প্রায় ০ দশমিক ৭০ রুপি। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে এক টাকা দিয়ে এখন তুলনামূলক বেশি ভারতীয় রুপি পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭২ রুপি। এক বছর পর সেই হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ০ দশমিক ৭৮ রুপি। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
অন্যদিক থেকে হিসাব করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির দাম ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৮ টাকা। ২০২৫ সালের একই দিনে এক রুপি কিনতে প্রয়োজন হতো প্রায় ১ দশমিক ৩৮ টাকা। অর্থাৎ এক ভারতীয় রুপি কিনতে এখন এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম বাংলাদেশি টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এই হিসাবেও রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য প্রায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে।
দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১ দশমিক ৪৩ টাকা। সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে এক রুপি কিনতে প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ১৫ পয়সা কম। এ হিসাবে দুই বছরে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যেও ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১ দশমিক ২৭৮৯ টাকা থেকে ১ দশমিক ২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ে এক বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭৮১ থেকে ০ দশমিক ৭৮২ ভারতীয় রুপি। বিনিময় হারের এই পরিবর্তনের ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার এবং বিভিন্ন মুদ্রার বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সুশৃঙ্খল বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তবে কোনো মুদ্রার বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পরিবর্তনের প্রভাব শুধু আমদানি ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য আন্তসীমান্ত লেনদেনেও বিনিময় হারের পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে বাংলাদেশি টাকার অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বিনিময় হার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। শুধু গত এক বছরেই এ বৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। ভারতীয় রুপিতে কোনো পণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত থাকলে টাকার বিনিময় মূল্য শক্তিশালী হওয়ার কারণে সেই পণ্যের মূল্য পরিশোধে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
অর্থাৎ একই পরিমাণ ভারতীয় রুপি সংগ্রহ করতে আগের তুলনায় কম বাংলাদেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এর ফলে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ ব্যয়ের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা দিয়ে পাওয়া যাচ্ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি। একই দিনে ২০২৫ সালে এক টাকা সমান ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা দিয়ে পাওয়া যেত প্রায় ০ দশমিক ৭০ রুপি। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে এক টাকা দিয়ে এখন তুলনামূলক বেশি ভারতীয় রুপি পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭২ রুপি। এক বছর পর সেই হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ০ দশমিক ৭৮ রুপি। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
অন্যদিক থেকে হিসাব করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির দাম ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৮ টাকা। ২০২৫ সালের একই দিনে এক রুপি কিনতে প্রয়োজন হতো প্রায় ১ দশমিক ৩৮ টাকা। অর্থাৎ এক ভারতীয় রুপি কিনতে এখন এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম বাংলাদেশি টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এই হিসাবেও রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য প্রায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে।
দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১ দশমিক ৪৩ টাকা। সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে এক রুপি কিনতে প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ১৫ পয়সা কম। এ হিসাবে দুই বছরে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যেও ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১ দশমিক ২৭৮৯ টাকা থেকে ১ দশমিক ২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ে এক বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭৮১ থেকে ০ দশমিক ৭৮২ ভারতীয় রুপি। বিনিময় হারের এই পরিবর্তনের ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার এবং বিভিন্ন মুদ্রার বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সুশৃঙ্খল বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তবে কোনো মুদ্রার বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পরিবর্তনের প্রভাব শুধু আমদানি ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য আন্তসীমান্ত লেনদেনেও বিনিময় হারের পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন