প্রতিদিনের রান্নায় সামান্য পরিমাণ খাবার বেঁচে যাওয়া, ফ্রিজে রাখা সবজি-ফল নষ্ট হওয়া কিংবা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রান্না-এভাবেই অজান্তে বাড়তে থাকে খাবারের অপচয়। এর প্রভাব শুধু খাবারের ওপর নয়, পরিবারের মাসিক খরচেও পড়ে। তবে কেনাকাটা থেকে শুরু করে রান্না ও খাবার সংরক্ষণে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে এই অপচয় অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বাজারের আগে তৈরি করুন তালিকা
প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার কেনা অপচয়ের অন্যতম কারণ। তাই বাজারে যাওয়ার আগে কয়েক দিনের রান্নার পরিকল্পনা করে তালিকা তৈরি করুন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং সাধারণত কতটা খাবার প্রয়োজন, সেটিও হিসাবের মধ্যে রাখুন। শুধু ছাড় বা কম দামের সুযোগ দেখে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা এড়িয়ে চলুন।
ফ্রিজে পুরোনো খাবার সামনে রাখুন
ফ্রিজে খাবার রাখার সময় কোনটি আগে কেনা হয়েছে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পুরোনো খাবার সামনে এবং নতুন খাবার পেছনে রাখলে আগে কেনা জিনিসগুলো ব্যবহারের সুযোগ বাড়ে। দ্রুত নষ্ট হতে পারে এমন খাবার আলাদা জায়গায় রাখা যেতে পারে। রান্না করা খাবারের পাত্রে সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখলে কোন খাবারটি আগে খেতে হবে, সেটিও সহজে বোঝা যায়।
বেঁচে যাওয়া খাবার ফেলে না দিয়ে নতুন পদ তৈরি করুন
আগের দিনের খাবার একইভাবে পরিবেশন করতে ভালো না লাগলেও তা ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বেঁচে যাওয়া ভাত দিয়ে ভাত ভাজি, অবশিষ্ট সবজি দিয়ে পরোটা বা কাটলেট কিংবা রান্না করা মাংস দিয়ে স্যান্ডউইচ বা নুডলস তৈরি করা যায়। এতে খাবার যেমন নষ্ট হবে না, তেমনি রান্নাঘরের কাজও কিছুটা কমবে।
খাবারের উপযোগী অংশ ফেলে দেবেন না
সবজি কাটার সময় কিছু অংশ অভ্যাসবশত ফেলে দেওয়া হয়। অথচ পরিষ্কার ও খাওয়ার উপযোগী অনেক অংশ দিয়েই আলাদা পদ তৈরি করা যায়। সবজির ডাঁটা দিয়ে ভর্তা বা ভাজি এবং ধনেপাতার ডাঁটা রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু সবজির খোসাও ভালোভাবে পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট রান্নায় ব্যবহার করা সম্ভব। তবে পচা, নষ্ট বা খাওয়ার অনুপযোগী অংশ অবশ্যই বাদ দিতে হবে।
প্লেটে প্রথমেই বেশি খাবার নেবেন না
খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া দরকার। একবারে বেশি খাবার প্লেটে নেওয়ার বদলে প্রথমে প্রয়োজনমতো অল্প পরিমাণ নিন। ক্ষুধা থাকলে পরে আরও নেওয়া যাবে। শিশুদের ক্ষেত্রেও তাদের বয়স ও খাবারের
চাহিদা
অনুযায়ী
পরিমাণ
ঠিক
করা
ভালো।
এতে
প্লেটে
খাবার
পড়ে
নষ্ট
হওয়ার
সম্ভাবনা
কমে।
আগে কেনা খাবার আগে ব্যবহার করুন
ফ্রিজ,
আলমারি
বা
রান্নাঘরের
তাক
নিয়মিত
দেখে
নিন।
কোন
খাবারটি
আগে
কেনা
হয়েছে
বা
কোনটির
মেয়াদ
শেষ
হওয়ার
কাছাকাছি,
তা
খেয়াল
রাখুন।
দুধ,
ফল,
সবজি,
প্যাকেটজাত
খাবারসহ
বিভিন্ন
উপকরণ
ব্যবহারের
ক্ষেত্রে
‘আগে
কেনা,
আগে
ব্যবহার’
নিয়ম
অনুসরণ
করলে
নষ্ট
হওয়ার
ঝুঁকি
কমে।
প্রয়োজনের হিসাব করে রান্না করুন
প্রতিদিনের
খাবারে
পরিবারের
সদস্যদের
স্বাভাবিক
খাওয়ার
পরিমাণ
বিবেচনা
করে
রান্না
করা
সবচেয়ে
কার্যকর
উপায়গুলোর
একটি।
অতিথি
আসা
বা
বিশেষ
আয়োজনের
ক্ষেত্রে
কিছু
বাড়তি
রান্না
প্রয়োজন
হতে
পারে।
কিন্তু
নিয়মিত
খাবারের
ক্ষেত্রে
অনুমানের
চেয়ে
অভিজ্ঞতার
ভিত্তিতে
পরিমাণ
নির্ধারণ
করলে
অতিরিক্ত রান্না কমানো
সম্ভব।
খাবারের
অপচয়
কমানোর
জন্য
বড়
কোনো
পরিবর্তনের
প্রয়োজন
নেই।
বাজারের
তালিকা
করা,
ফ্রিজ
গুছিয়ে
রাখা,
অবশিষ্ট
খাবার
কাজে
লাগানো
এবং
পরিমাণ
বুঝে
রান্না
ও
পরিবেশনের
মতো
ছোট
অভ্যাসই
ধীরে
ধীরে
বড়
পার্থক্য
তৈরি
করতে
পারে।
এতে
খাবার
যেমন
বাঁচবে,
তেমনি
পরিবারের
খরচও
কিছুটা
কমানো
সম্ভব
হবে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রতিদিনের রান্নায় সামান্য পরিমাণ খাবার বেঁচে যাওয়া, ফ্রিজে রাখা সবজি-ফল নষ্ট হওয়া কিংবা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রান্না-এভাবেই অজান্তে বাড়তে থাকে খাবারের অপচয়। এর প্রভাব শুধু খাবারের ওপর নয়, পরিবারের মাসিক খরচেও পড়ে। তবে কেনাকাটা থেকে শুরু করে রান্না ও খাবার সংরক্ষণে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে এই অপচয় অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বাজারের আগে তৈরি করুন তালিকা
প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার কেনা অপচয়ের অন্যতম কারণ। তাই বাজারে যাওয়ার আগে কয়েক দিনের রান্নার পরিকল্পনা করে তালিকা তৈরি করুন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং সাধারণত কতটা খাবার প্রয়োজন, সেটিও হিসাবের মধ্যে রাখুন। শুধু ছাড় বা কম দামের সুযোগ দেখে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা এড়িয়ে চলুন।
ফ্রিজে পুরোনো খাবার সামনে রাখুন
ফ্রিজে খাবার রাখার সময় কোনটি আগে কেনা হয়েছে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পুরোনো খাবার সামনে এবং নতুন খাবার পেছনে রাখলে আগে কেনা জিনিসগুলো ব্যবহারের সুযোগ বাড়ে। দ্রুত নষ্ট হতে পারে এমন খাবার আলাদা জায়গায় রাখা যেতে পারে। রান্না করা খাবারের পাত্রে সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখলে কোন খাবারটি আগে খেতে হবে, সেটিও সহজে বোঝা যায়।
বেঁচে যাওয়া খাবার ফেলে না দিয়ে নতুন পদ তৈরি করুন
আগের দিনের খাবার একইভাবে পরিবেশন করতে ভালো না লাগলেও তা ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বেঁচে যাওয়া ভাত দিয়ে ভাত ভাজি, অবশিষ্ট সবজি দিয়ে পরোটা বা কাটলেট কিংবা রান্না করা মাংস দিয়ে স্যান্ডউইচ বা নুডলস তৈরি করা যায়। এতে খাবার যেমন নষ্ট হবে না, তেমনি রান্নাঘরের কাজও কিছুটা কমবে।
খাবারের উপযোগী অংশ ফেলে দেবেন না
সবজি কাটার সময় কিছু অংশ অভ্যাসবশত ফেলে দেওয়া হয়। অথচ পরিষ্কার ও খাওয়ার উপযোগী অনেক অংশ দিয়েই আলাদা পদ তৈরি করা যায়। সবজির ডাঁটা দিয়ে ভর্তা বা ভাজি এবং ধনেপাতার ডাঁটা রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু সবজির খোসাও ভালোভাবে পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট রান্নায় ব্যবহার করা সম্ভব। তবে পচা, নষ্ট বা খাওয়ার অনুপযোগী অংশ অবশ্যই বাদ দিতে হবে।
প্লেটে প্রথমেই বেশি খাবার নেবেন না
খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া দরকার। একবারে বেশি খাবার প্লেটে নেওয়ার বদলে প্রথমে প্রয়োজনমতো অল্প পরিমাণ নিন। ক্ষুধা থাকলে পরে আরও নেওয়া যাবে। শিশুদের ক্ষেত্রেও তাদের বয়স ও খাবারের
চাহিদা
অনুযায়ী
পরিমাণ
ঠিক
করা
ভালো।
এতে
প্লেটে
খাবার
পড়ে
নষ্ট
হওয়ার
সম্ভাবনা
কমে।
আগে কেনা খাবার আগে ব্যবহার করুন
ফ্রিজ,
আলমারি
বা
রান্নাঘরের
তাক
নিয়মিত
দেখে
নিন।
কোন
খাবারটি
আগে
কেনা
হয়েছে
বা
কোনটির
মেয়াদ
শেষ
হওয়ার
কাছাকাছি,
তা
খেয়াল
রাখুন।
দুধ,
ফল,
সবজি,
প্যাকেটজাত
খাবারসহ
বিভিন্ন
উপকরণ
ব্যবহারের
ক্ষেত্রে
‘আগে
কেনা,
আগে
ব্যবহার’
নিয়ম
অনুসরণ
করলে
নষ্ট
হওয়ার
ঝুঁকি
কমে।
প্রয়োজনের হিসাব করে রান্না করুন
প্রতিদিনের
খাবারে
পরিবারের
সদস্যদের
স্বাভাবিক
খাওয়ার
পরিমাণ
বিবেচনা
করে
রান্না
করা
সবচেয়ে
কার্যকর
উপায়গুলোর
একটি।
অতিথি
আসা
বা
বিশেষ
আয়োজনের
ক্ষেত্রে
কিছু
বাড়তি
রান্না
প্রয়োজন
হতে
পারে।
কিন্তু
নিয়মিত
খাবারের
ক্ষেত্রে
অনুমানের
চেয়ে
অভিজ্ঞতার
ভিত্তিতে
পরিমাণ
নির্ধারণ
করলে
অতিরিক্ত রান্না কমানো
সম্ভব।
খাবারের
অপচয়
কমানোর
জন্য
বড়
কোনো
পরিবর্তনের
প্রয়োজন
নেই।
বাজারের
তালিকা
করা,
ফ্রিজ
গুছিয়ে
রাখা,
অবশিষ্ট
খাবার
কাজে
লাগানো
এবং
পরিমাণ
বুঝে
রান্না
ও
পরিবেশনের
মতো
ছোট
অভ্যাসই
ধীরে
ধীরে
বড়
পার্থক্য
তৈরি
করতে
পারে।
এতে
খাবার
যেমন
বাঁচবে,
তেমনি
পরিবারের
খরচও
কিছুটা
কমানো
সম্ভব
হবে।

আপনার মতামত লিখুন