সংবাদ

খাবারের পর আনারস খেলে হজমে কী হয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

খাবারের পর আনারস খেলে হজমে কী হয়

গরমের দিনে আনারসের এক টুকরো যেমন স্বস্তি দিতে পারে, তেমনি পুষ্টিগুণের কারণেও ফলটি খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে খাবারের পর আনারস খাওয়ার একটি বিষয় নিয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে-এটি কি হজমে সহায়তা করে?

আনারসে থাকা ব্রোমেলাইন নামের এনজাইমসমষ্টি প্রোটিন ভাঙার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে মাছ, মাংস, ডিম বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের পর পরিমিত আনারস খেলে হজমের ক্ষেত্রে কিছুটা সহায়ক প্রভাব পাওয়া যেতে পারে। তবে আনারস খাওয়ার সময়ের ওপর নির্ভর করে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যায়-এমন শক্ত প্রমাণ এখনো সীমিত।

ব্রোমেলাইন কীভাবে কাজ করে

ব্রোমেলাইন মূলত আনারস থেকে পাওয়া একাধিক প্রোটিওলাইটিক এনজাইমের সমষ্টি। ফলের পাশাপাশি আনারসের কাণ্ডেও এই উপাদান পাওয়া যায়। এ কারণেই কাণ্ড থেকে ব্রোমেলাইন সংগ্রহ করে বিভিন্ন সাপ্লিমেন্টও তৈরি করা হয়।

খাবারের প্রোটিন শরীরে শোষিত হওয়ার আগে ছোট ছোট অংশে ভাঙতে হয়। ব্রোমেলাইন পরীক্ষাগারে প্রোটিন ভাঙতে সক্ষম বলে পরিচিত। তবে খাবারের সঙ্গে আনারস খেলে মানুষের হজমপ্রক্রিয়ায় এর প্রভাব কতটা হয়, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

হজম ছাড়াও যেসব পুষ্টি মিলবে

আনারসের উপকার শুধু ব্রোমেলাইনের কারণে নয়। এতে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন C এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে।

খাদ্যআঁশ: নিয়মিত মলত্যাগ ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।

ভিটামিন C: শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধী কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয়।

উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: আনারসে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখতে পারে।

ফলে খাবারের পর আনারস খাওয়ার মূল সুবিধা শুধু ‘হজমের এনজাইম’ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি পুষ্টিকর ফল হিসেবেও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

কারা পরিমিত আনারস খেতে পারেন

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিমিত পরিমাণ আনারস সাধারণত খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। বিশেষ করে যারা ফল ও খাদ্যআঁশের পরিমাণ বাড়াতে চান, তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

তবে বেশি প্রোটিন খেলেই হজমের সমস্যা হবে বা খাবারের পর আনারস খেলেই সেই সমস্যা দূর হয়ে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। পেট ভার, গ্যাস বা বদহজমের পেছনে খাবারের ধরন, পরিমাণ, খাওয়ার গতি এবং ব্যক্তির হজমক্ষমতাসহ নানা বিষয় কাজ করতে পারে।

বেশি খেলেও উপকার নয়

আনারস সাধারণত নিরাপদ খাবার হলেও অতিরিক্ত খেলে মুখে জ্বালাপোড়া, টকভাবজনিত অস্বস্তি বা সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। কারও আনারসে অ্যালার্জি থাকলে এটি এড়িয়ে চলা উচিত।

তাই খাবারের পর আনারসকে হজমের ওষুধ হিসেবে না দেখে পুষ্টিকর ফল হিসেবেই খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। পরিমিত পরিমাণে খেলে এর ব্রোমেলাইন, খাদ্যআঁশ ও ভিটামিন C থেকে পুষ্টিগত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খাবারের পর আনারস খেলে হজমে কী হয়

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গরমের দিনে আনারসের এক টুকরো যেমন স্বস্তি দিতে পারে, তেমনি পুষ্টিগুণের কারণেও ফলটি খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে খাবারের পর আনারস খাওয়ার একটি বিষয় নিয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে-এটি কি হজমে সহায়তা করে?

আনারসে থাকা ব্রোমেলাইন নামের এনজাইমসমষ্টি প্রোটিন ভাঙার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে মাছ, মাংস, ডিম বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের পর পরিমিত আনারস খেলে হজমের ক্ষেত্রে কিছুটা সহায়ক প্রভাব পাওয়া যেতে পারে। তবে আনারস খাওয়ার সময়ের ওপর নির্ভর করে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যায়-এমন শক্ত প্রমাণ এখনো সীমিত।

ব্রোমেলাইন কীভাবে কাজ করে

ব্রোমেলাইন মূলত আনারস থেকে পাওয়া একাধিক প্রোটিওলাইটিক এনজাইমের সমষ্টি। ফলের পাশাপাশি আনারসের কাণ্ডেও এই উপাদান পাওয়া যায়। এ কারণেই কাণ্ড থেকে ব্রোমেলাইন সংগ্রহ করে বিভিন্ন সাপ্লিমেন্টও তৈরি করা হয়।

খাবারের প্রোটিন শরীরে শোষিত হওয়ার আগে ছোট ছোট অংশে ভাঙতে হয়। ব্রোমেলাইন পরীক্ষাগারে প্রোটিন ভাঙতে সক্ষম বলে পরিচিত। তবে খাবারের সঙ্গে আনারস খেলে মানুষের হজমপ্রক্রিয়ায় এর প্রভাব কতটা হয়, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

হজম ছাড়াও যেসব পুষ্টি মিলবে

আনারসের উপকার শুধু ব্রোমেলাইনের কারণে নয়। এতে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন C এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে।

খাদ্যআঁশ: নিয়মিত মলত্যাগ ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।

ভিটামিন C: শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধী কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয়।

উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: আনারসে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখতে পারে।

ফলে খাবারের পর আনারস খাওয়ার মূল সুবিধা শুধু ‘হজমের এনজাইম’ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি পুষ্টিকর ফল হিসেবেও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

কারা পরিমিত আনারস খেতে পারেন

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিমিত পরিমাণ আনারস সাধারণত খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। বিশেষ করে যারা ফল ও খাদ্যআঁশের পরিমাণ বাড়াতে চান, তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

তবে বেশি প্রোটিন খেলেই হজমের সমস্যা হবে বা খাবারের পর আনারস খেলেই সেই সমস্যা দূর হয়ে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। পেট ভার, গ্যাস বা বদহজমের পেছনে খাবারের ধরন, পরিমাণ, খাওয়ার গতি এবং ব্যক্তির হজমক্ষমতাসহ নানা বিষয় কাজ করতে পারে।

বেশি খেলেও উপকার নয়

আনারস সাধারণত নিরাপদ খাবার হলেও অতিরিক্ত খেলে মুখে জ্বালাপোড়া, টকভাবজনিত অস্বস্তি বা সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। কারও আনারসে অ্যালার্জি থাকলে এটি এড়িয়ে চলা উচিত।

তাই খাবারের পর আনারসকে হজমের ওষুধ হিসেবে না দেখে পুষ্টিকর ফল হিসেবেই খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। পরিমিত পরিমাণে খেলে এর ব্রোমেলাইন, খাদ্যআঁশ ও ভিটামিন C থেকে পুষ্টিগত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত