সংবাদ

ঢাকার যানজটে সময় বাঁচাতে যে অভ্যাসগুলো কাজে দেবে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

ঢাকার যানজটে সময় বাঁচাতে যে অভ্যাসগুলো কাজে দেবে

ঢাকার রাস্তায় বের হওয়ার পর কখন গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে, তা অনেক সময় আগেভাগে অনুমান করা কঠিন। অল্প দূরত্বের পথও যানজটের কারণে দীর্ঘ যাত্রায় পরিণত হয়। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতে এর প্রভাব পড়ে বেশি। তবে যানজট পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও কিছুটা পরিকল্পিতভাবে চললে রাস্তায় নষ্ট হওয়া সময় ভোগান্তি কমানো যায়।

বের হওয়ার আগে ট্রাফিক পরিস্থিতি দেখুন

যাত্রা শুরুর আগে সম্ভাব্য রুটের বর্তমান অবস্থা দেখে নেওয়ার অভ্যাস করুন। নিয়মিত ব্যবহৃত সড়কে কোথাও অস্বাভাবিক যানজট থাকলে বিকল্প পথ বেছে নেওয়া যেতে পারে। প্রতিদিন একই পথে যাওয়ার বদলে পরিস্থিতি অনুযায়ী রুট পরিবর্তনের অভ্যাস অনেক সময় অতিরিক্ত অপেক্ষা এড়াতে সাহায্য করে।

হাতে রাখুন বাড়তি সময়

ঢাকার যানজটের অন্যতম সমস্যা হলো এর অনিশ্চয়তা। কোনো দিন ৪০ মিনিটের পথ দেড় ঘণ্টাতেও শেষ নাও হতে পারে। তাই অফিসে পৌঁছানোর নির্ধারিত সময়ের একেবারে কাছাকাছি সময়ে রওনা না হয়ে কিছুটা অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা ভালো। এতে হঠাৎ যানজট তৈরি হলেও দেরির চাপ কম থাকে।

অল্প দূরত্বে হাঁটার কথা ভাবুন

গন্তব্য খুব দূরে না হলে সবসময় যানবাহনের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি রাস্তা নিরাপদ হলে হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে যানজটপূর্ণ এলাকায় অল্প দূরত্ব পাড়ি দিতে হাঁটা কখনো কখনো গাড়িতে বসে থাকার চেয়ে কম সময় নিতে পারে।

গণপরিবহনের সঙ্গে হাঁটার সমন্বয় করুন

পুরো পথ যানবাহনে যাওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী গণপরিবহন হাঁটাকে একসঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট অংশে যানজট বেশি থাকলে সুবিধাজনক নিরাপদ জায়গায় নেমে বাকি পথ হেঁটে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে রাস্তা পারাপারসহ পুরো পথের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অফিসের সময়ের সঙ্গে যাতায়াত মিলিয়ে নিন

সম্ভব হলে অফিসের ব্যস্ত সময় এড়িয়ে কিছুটা আগে বা পরে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানে নমনীয় কর্মঘণ্টা বা হাইব্রিড কাজের সুযোগ থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে প্রতিদিনের ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় থাকার সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

যানজটে আটকে থাকলে সময়টি কাজে লাগান

রাস্তায় অপেক্ষার সময়টুকু নিরাপদভাবে কাজে লাগানো যায়। দিনের কাজের পরিকল্পনা করা, গুরুত্বপূর্ণ নোট দেখা বা পডকাস্ট অডিও শোনা যেতে পারে। তবে গাড়ি চালানোর সময় ফোনে মেসেজ লেখা, ভিডিও দেখা কিংবা অন্য কোনো মনোযোগ-বিভ্রান্তিকর কাজ করা উচিত নয়।

নিজের যাতায়াতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগান

কোন দিনে কোন সড়কে কত সময় লাগে, কোথায় নিয়মিত যানজট হয় এবং কোন সময়ে রাস্তা তুলনামূলক ফাঁকা থাকে-এসব তথ্য নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নোট করা যেতে পারে। কয়েক সপ্তাহ পর তথ্যের ভিত্তিতে নিজের জন্য কার্যকর একটি যাতায়াতের রুটিন তৈরি করা সম্ভব। পাশাপাশি একাধিক বিকল্প পথ জানা থাকলে হঠাৎ যানজটের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

ঢাকার যানজট দ্রুত দূর হবে-এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তবে যাত্রার আগে পরিস্থিতি যাচাই, হাতে বাড়তি সময় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রুট বা যানবাহন পরিবর্তনের মতো ছোট ছোট অভ্যাস প্রতিদিনের ভোগান্তি কমাতে পারে।

তবে সময়মতো অফিসে পৌঁছানোর তাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করা উচিত নয়। কয়েক মিনিট সময় বাঁচানোর চেয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকার যানজটে সময় বাঁচাতে যে অভ্যাসগুলো কাজে দেবে

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঢাকার রাস্তায় বের হওয়ার পর কখন গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে, তা অনেক সময় আগেভাগে অনুমান করা কঠিন। অল্প দূরত্বের পথও যানজটের কারণে দীর্ঘ যাত্রায় পরিণত হয়। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতে এর প্রভাব পড়ে বেশি। তবে যানজট পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও কিছুটা পরিকল্পিতভাবে চললে রাস্তায় নষ্ট হওয়া সময় ভোগান্তি কমানো যায়।

বের হওয়ার আগে ট্রাফিক পরিস্থিতি দেখুন

যাত্রা শুরুর আগে সম্ভাব্য রুটের বর্তমান অবস্থা দেখে নেওয়ার অভ্যাস করুন। নিয়মিত ব্যবহৃত সড়কে কোথাও অস্বাভাবিক যানজট থাকলে বিকল্প পথ বেছে নেওয়া যেতে পারে। প্রতিদিন একই পথে যাওয়ার বদলে পরিস্থিতি অনুযায়ী রুট পরিবর্তনের অভ্যাস অনেক সময় অতিরিক্ত অপেক্ষা এড়াতে সাহায্য করে।

হাতে রাখুন বাড়তি সময়

ঢাকার যানজটের অন্যতম সমস্যা হলো এর অনিশ্চয়তা। কোনো দিন ৪০ মিনিটের পথ দেড় ঘণ্টাতেও শেষ নাও হতে পারে। তাই অফিসে পৌঁছানোর নির্ধারিত সময়ের একেবারে কাছাকাছি সময়ে রওনা না হয়ে কিছুটা অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা ভালো। এতে হঠাৎ যানজট তৈরি হলেও দেরির চাপ কম থাকে।

অল্প দূরত্বে হাঁটার কথা ভাবুন

গন্তব্য খুব দূরে না হলে সবসময় যানবাহনের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি রাস্তা নিরাপদ হলে হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে যানজটপূর্ণ এলাকায় অল্প দূরত্ব পাড়ি দিতে হাঁটা কখনো কখনো গাড়িতে বসে থাকার চেয়ে কম সময় নিতে পারে।

গণপরিবহনের সঙ্গে হাঁটার সমন্বয় করুন

পুরো পথ যানবাহনে যাওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী গণপরিবহন হাঁটাকে একসঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট অংশে যানজট বেশি থাকলে সুবিধাজনক নিরাপদ জায়গায় নেমে বাকি পথ হেঁটে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে রাস্তা পারাপারসহ পুরো পথের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অফিসের সময়ের সঙ্গে যাতায়াত মিলিয়ে নিন

সম্ভব হলে অফিসের ব্যস্ত সময় এড়িয়ে কিছুটা আগে বা পরে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানে নমনীয় কর্মঘণ্টা বা হাইব্রিড কাজের সুযোগ থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে প্রতিদিনের ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় থাকার সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

যানজটে আটকে থাকলে সময়টি কাজে লাগান

রাস্তায় অপেক্ষার সময়টুকু নিরাপদভাবে কাজে লাগানো যায়। দিনের কাজের পরিকল্পনা করা, গুরুত্বপূর্ণ নোট দেখা বা পডকাস্ট অডিও শোনা যেতে পারে। তবে গাড়ি চালানোর সময় ফোনে মেসেজ লেখা, ভিডিও দেখা কিংবা অন্য কোনো মনোযোগ-বিভ্রান্তিকর কাজ করা উচিত নয়।

নিজের যাতায়াতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগান

কোন দিনে কোন সড়কে কত সময় লাগে, কোথায় নিয়মিত যানজট হয় এবং কোন সময়ে রাস্তা তুলনামূলক ফাঁকা থাকে-এসব তথ্য নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নোট করা যেতে পারে। কয়েক সপ্তাহ পর তথ্যের ভিত্তিতে নিজের জন্য কার্যকর একটি যাতায়াতের রুটিন তৈরি করা সম্ভব। পাশাপাশি একাধিক বিকল্প পথ জানা থাকলে হঠাৎ যানজটের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

ঢাকার যানজট দ্রুত দূর হবে-এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তবে যাত্রার আগে পরিস্থিতি যাচাই, হাতে বাড়তি সময় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রুট বা যানবাহন পরিবর্তনের মতো ছোট ছোট অভ্যাস প্রতিদিনের ভোগান্তি কমাতে পারে।

তবে সময়মতো অফিসে পৌঁছানোর তাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করা উচিত নয়। কয়েক মিনিট সময় বাঁচানোর চেয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত