ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে বহুচর্চিত দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান আজ ভেস্তে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ভূখণ্ড সংযুক্তীকরণের বেপরোয়া তৎপরতার কারণেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি এমন মন্তব্য করে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাইড-লাইন বৈঠকে তিনি এই গুরুতর বার্তা দেন। কানাডা, ফ্রান্স, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের যৌথ আয়োজনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
গুতেরেস দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত, কার্যকর ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় শর্তগুলো আজ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, নতুন বসতি স্থাপন এবং উগ্র বসতিস্থাপনকারীদের লাগামহীন সহিংসতা পুরো পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংকটাপন্ন করে তুলছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেটলারদের ধারাবাহিক হামলা এই অন্ধকারের পরিধি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য এবং কার্যকর পথ হলো দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখা, আন্তর্জাতিক আইন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং পূর্ববর্তী চুক্তিসমূহের ওপর ভিত্তি করেই এই সমাধান হতে হবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেও এর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই সংকট উত্তরণে জাতিসংঘ মহাসচিব সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ অবিলম্বে বন্ধ করা, ভূখণ্ড সংযুক্তীকরণের অপচেষ্টা রোধ করা, ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জোরালো সমর্থন দেওয়া এবং দখলদারত্বের অবসান ঘটিয়ে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।
এই লক্ষ্য অর্জনে সম্প্রতি জাতিসংঘের কিছু সদস্যরাষ্ট্রের ইতিবাচক পদক্ষেপকে তিনি স্বাগত জানান। এছাড়া, গাজা ও পশ্চিম তীরকে একটি বৈধ ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন।
শান্তির এই দীর্ঘ যাত্রার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো দুটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন নিরাপদ ও স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করবে এবং পবিত্র জেরুজালেম হবে উভয় রাষ্ট্রেরই রাজধানী।
গুতেরেস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এর আর কোনো বিকল্প খোলা নেই এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সময় ফুরিয়ে আসছে। ‘দ্য রোড অ্যাহেড’ শীর্ষক এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজার জন্য একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরিশেষে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রত্যাশী সবার জন্য দুই রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন কেবল কথার কথা না হয়ে বাস্তবমুখী ও দৃশ্যমান হতে হবে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে বহুচর্চিত দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান আজ ভেস্তে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ভূখণ্ড সংযুক্তীকরণের বেপরোয়া তৎপরতার কারণেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি এমন মন্তব্য করে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাইড-লাইন বৈঠকে তিনি এই গুরুতর বার্তা দেন। কানাডা, ফ্রান্স, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের যৌথ আয়োজনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
গুতেরেস দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত, কার্যকর ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় শর্তগুলো আজ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, নতুন বসতি স্থাপন এবং উগ্র বসতিস্থাপনকারীদের লাগামহীন সহিংসতা পুরো পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংকটাপন্ন করে তুলছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেটলারদের ধারাবাহিক হামলা এই অন্ধকারের পরিধি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য এবং কার্যকর পথ হলো দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখা, আন্তর্জাতিক আইন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং পূর্ববর্তী চুক্তিসমূহের ওপর ভিত্তি করেই এই সমাধান হতে হবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেও এর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই সংকট উত্তরণে জাতিসংঘ মহাসচিব সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ অবিলম্বে বন্ধ করা, ভূখণ্ড সংযুক্তীকরণের অপচেষ্টা রোধ করা, ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জোরালো সমর্থন দেওয়া এবং দখলদারত্বের অবসান ঘটিয়ে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।
এই লক্ষ্য অর্জনে সম্প্রতি জাতিসংঘের কিছু সদস্যরাষ্ট্রের ইতিবাচক পদক্ষেপকে তিনি স্বাগত জানান। এছাড়া, গাজা ও পশ্চিম তীরকে একটি বৈধ ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন।
শান্তির এই দীর্ঘ যাত্রার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো দুটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন নিরাপদ ও স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করবে এবং পবিত্র জেরুজালেম হবে উভয় রাষ্ট্রেরই রাজধানী।
গুতেরেস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এর আর কোনো বিকল্প খোলা নেই এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সময় ফুরিয়ে আসছে। ‘দ্য রোড অ্যাহেড’ শীর্ষক এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজার জন্য একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরিশেষে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রত্যাশী সবার জন্য দুই রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন কেবল কথার কথা না হয়ে বাস্তবমুখী ও দৃশ্যমান হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন