সংবাদ

এ সপ্তাহের কবিতা


প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ এএম

এ সপ্তাহের কবিতা
শিল্পী : হাশেম খান

সহসা শরৎ

দিলারা মেসবাহ

বিস্তর  প্রকাশ্য পথ উল্লম্ফনে পেরিয়ে এলাম

জনারণ্য, দুরুদুরু হৃদকম্পন তুড়ি মেরে...

দেখা হলো জন্মান্ধ কবেকার ল্যাম্পপোস্ট।

বিরহের পারদ মাপে এই দিনে নিশ্চুপ,

ফি শারদীয়, যেন আমি  স্বপ্নভুক, সহস্র দুব্বাদলে

লাজুক শিশির বিন্দু বিন্দু মুক্তোফুল।

প্রত্ন চিহ্ন, সবিশেষ রাজপথের নিতান্ত শাসন।

ল্যান্ডক্রুজার, উবার, রিকশার মারদাঙ্গা। ছুটন্ত শহর

তবু সোনালি সাহস সাজায় সহসা, প্রিয় প্রার্থনা।

নেচে ওঠে, এলোমেলো বেহুলা ভাসান, গুঞ্জারি মালিকা 

উঁচা উঁচা পাবত, শরবী সকল। নাচিছে ঘিরি ঘিরি 

গাহিবে গান। বুঝে দেখ, কতটা উজানে ধায় 

বোরাকের ঘোড়া— ও পাখি কাকাতুয়া নিগূঢ় টিয়ার ঝাঁক। 

কোন কাননে হুটোপুটি আনন্দ বিহার।

তবু আজও মধূকুপি ঘাসফুল, জীবনানন্দ।

শেষের কবিতা এই, চকিতে হেসে ওঠো, ছাতিমগুচ্ছ

যেমন। হেসে ওঠো প্রিয়, গুচ্ছের চন্দ্রপ্রভা যেমতি ॥



এক মুঠো চাঁদের কিরণ

মোহাম্মদ হোসাইন

কবিতা জমা করে রাখি খুচরো টাকার ভিতর

যেমন করে রাখে মানুষ দীর্ঘশ্বাস

মানিব্যাগ হাতড়ে কখনো কখনো শৈশব দেখি

শৈশবে আমার কোনো স্মৃতি নেই শুধু মা-বাবার জল ভরা ছবি

আমার চোখ লাল হয়ে গেলে কালী মন্দিরের দিকে যাই। কেন যে যাই বলতে পারি না...

একবার ভালোবাসা ঠেসে ধরেছিল শরতের চাঁদ তখন সন্ধ্যার বাতাস গায়ে লাগলেই চনমনে দিঘি

ঘোরের ভিতর চাঁদের গরম নিঃশ্বাস পাই

দেখি শরৎকাল বসে আছে পাশে

তখন মনে পড়ে—

ভালোবাসা গঞ্জের হাট ফেরতা মানুষের মুখে

একমুঠো চাঁদের কিরণ... 


বাকসিদ্ধ পুরুষ

মতিন রায়হান

তোমার সঙ্গে কথা বলতেই

         ভিজে গেল ঠোঁট প্রণয়শিশিরে...

আহা শরৎ! তোমার সুধারাশি আজ

পড়ে আছে কোন্ সুদূরে?

                     শিউলিতলায়?

দোলে দোদুল আজ মালতিলতা

দেয়ালঘেঁষা রসালের শাখাপুঞ্জে 

                     শুভ্র পুষ্পরাশিসহ;

রসালের উত্তুঙ্গ দিন গেছে সেই কবে!

             গ্রীষ্ম ও বর্ষার মিলনমোহনায়...

তুমি নেমে এসো আজ খরবেগে 

জলে ও জ্যোৎস্নায়— তুমুল অবগাহনে!

বাক্সিদ্ধ পুরুষ আমি

তোমার নারীজন্মে রেখে যাই

              সুফলা শস্যের বীজ!

তোমার সঙ্গে কথা বলতেই 

             নেমে আসে তীব্র অনলপ্রবাহ

তুমি নারী, অমল-ধবল লতানো কাঙ্ক্ষা

               নিগূঢ়তম দেহপ্রদেশে!

আমি কন্দর্প, আমি মনসিজ

দেহে দেহে বুনে যাই সুফলা শস্যের বীজ!



অচেনা প্রত্যাবর্তন

সাহিদ রেজা

ভোরের বাতাস জড়িয়ে ধরে—

যেন কত দিনের আলাপ!

পিঠে হালকা ছোঁয়া দিয়ে

কপট রাগে জানতে চাইল—

কোথায় ছিলে?

আমি কিছু বলিনি।

শুধু নীরবে তাকিয়ে রইলাম

আলোর আগে জেগে ওঠা—

ফাঁকা আকাশটার দিকে।

বাতাস আবার এলো,

চুল এলোমেলো করে

পুরোনো দিনের মতো বলল—

কোথায় ছিলে?

আমি এবারও উত্তর দিলাম না।

কীভাবে বলি তাকে—

আমি তো কোথাও যাইনি,

শুধু নিজেকেই

হারিয়ে ফেলেছিলাম

কিছু অচেনা দিন-রাতের ভিড়ে।

ভোরের আলো বাড়তে থাকল,

বাতাস ধীরে ধীরে থেমে গেল।

যাওয়ার আগে;

শেষবারের মতো ছুঁয়ে দিয়ে

ফিসফিস করে বলল—

‘তুমি ফিরেছ ঠিকই,

কিন্তু যাকে আমি একদিন চিনতাম,

সে কি তোমার সঙ্গে ফিরেছে?’


চিহ্ন

চরু হক

তোমার উচ্চারিত শব্দ আমার কানের কাছে এসে ভেঙে পড়ে

চুরচুর, গুড়োগুড়ো  হয়ে

যেনো কাচ

আমি দু’হাত পেতে তাই তুলে নেই,

দেখি

সেখানে রক্তের বদলে ফুটেছে এক অনাঘ্রাতা গোলাপ।

শব্দগুলো আস্তে আস্তে নেমে এসে

কপোল স্পর্শ করে।

অতঃপর—

সমস্ত বাগান পরিভ্রমণ শেষে

একটি পালক হয়ে শূন্যে উড়ে যায়। 


দেবদারু!

আলমগীর কবীর আলম

ঘন জঙ্গলে সন্ধ্যা নেমে এলে, দেবদারু ধ্যানে বসে

পাতার ভেতর হারিয়ে যায় দিনের শেষ পাখি;

কোথাও জল নেই, তবু ভেজা গন্ধ ওঠে মাটি থেকে,

মনে হয়, বহুদিন আগে এখানে বৃষ্টি হয়েছে।

দূরে একটা পথ গেছে— কোথায়, কেউ জানে না;

শুধু হরিণেরা কাছাকাছি গিয়ে ফিরে আসে দেখি!

বহু আগে কোনো এক পুরোনো গল্পে শুনেছিলাম,

এই বনের ভেতর রাজা ভয় পেত নিজের ছায়া!

জ্ঞানী বৃক্ষের মতো নীরব বসে থাকে দেবদারু,

ধারেকাছে সাপ নেই, তবু বাতাস বিষ হয়ে আসে;

মানুষ কি এতটাই অপবিত্র, বন তাকে ঘৃণা করবে?

নাকি বন জানে— পাপেরাও একদিন গাছ হয়ে ওঠে?

সন্ধ্যা ঘন হলে জঙ্গলে আর কোনো শব্দ থাকে না,

শুধু পাতার নিচে চাপা পড়ে মানুষের পুরোনো নাম—


বলেছিলে, চলো ঘুম কিনি

শাহাদত হোসেন সুজন

সেদিন রাতে নিদ্রাহীন চোখের আর্তনাদে বলেছিলে—

‘চলো ঘুম কিনে আনি রাতে আঁধারে—

মাঝে মাঝে ঘুমের দেশে যেতে হয়, হাতে হাত রেখে

আকাশের তারা গুনতে হয়—

চলো, এখনি বেরিয়ে পড়ি মিশকালো অন্ধকারে—

মাথার ওপর থাকবে মেঘলা গম্ভীর আকাশ—

বৃষ্টি হলে মন্দ হয় না— জুবথবু হয়ে ভিজবো দু’জনে—

আমি কিছু না বুঝেই বলেছিলাম— ‘তুমি সঙ্গে থাকলে না নেই;

চলো, বানেছা পরীর দেশ থেকে কিনে আনি খানিকটা সুখ

শরতের ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে থাকি—

বৃষ্টিস্নাত রাস্তার ওপর মুঠোমুঠো সুখ কুড়াই’...

আবার বললে— ‘মাঝে মাঝে ঘুম কিনতে হয় গো— হয়—

এতে ব্যামো সারে— ভালোবাসা বাড়ে— মনের অসুখ সারে’—

বলেছিলাম— ‘পুষ্পিত রজনী সঙ্গী হোক ঘুমঘুম ছায়াপথে

ঘুম কি কিনতে হয় গো? এ থাকে থালা ভরা নুন ভাতে’— 


জিব্রাল্টার প্রণালী

মারুফ আহমেদ নয়ন

বাঘের হৃদয় নিয়ে হরিণীর প্রেমে পড়েছিলাম।

তাকে অনুসরণ করে ঝর্নার নিকটে আসি।

মাংসাশীদের যা স্বভাব— দেহে ঠাণ্ডা আগুন।

নদীতে কুমিরের ‘ডেথ রোল’ দেখছিল পাখিরা।

যখন চোয়ালের কাছে এলো মহাপ্রেমের ঘূর্ণন,

শুরু হলো। তুমিও পেয়েছ মাদি কুমিরের স্বভাব।

গোপনে প্রদর্শন করো দয়া, আড়ালে বলো—

গণ্ডারদের নিঃসঙ্গতা। এমন ভয়াবহ নিঃসঙ্গতা

নিয়ে তোমার প্রেমে পড়েছিলাম।

তুচ্ছতায় তুমি হেসে উঠলে, গাছ থেকে পাখিরা

উড়ে যায় ভয়ে, দেহ ছেড়ে পালায় আত্মা।

আমাদের দূরত্ব যেন জিব্রাল্টার প্রণালী—

পাশাপাশি স্বাদু ও নোনাপানির স্রোতধারা,

তবু বিচ্ছিন্ন চিরকাল। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এ সপ্তাহের কবিতা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সহসা শরৎ

দিলারা মেসবাহ

বিস্তর  প্রকাশ্য পথ উল্লম্ফনে পেরিয়ে এলাম

জনারণ্য, দুরুদুরু হৃদকম্পন তুড়ি মেরে...

দেখা হলো জন্মান্ধ কবেকার ল্যাম্পপোস্ট।

বিরহের পারদ মাপে এই দিনে নিশ্চুপ,

ফি শারদীয়, যেন আমি  স্বপ্নভুক, সহস্র দুব্বাদলে

লাজুক শিশির বিন্দু বিন্দু মুক্তোফুল।

প্রত্ন চিহ্ন, সবিশেষ রাজপথের নিতান্ত শাসন।

ল্যান্ডক্রুজার, উবার, রিকশার মারদাঙ্গা। ছুটন্ত শহর

তবু সোনালি সাহস সাজায় সহসা, প্রিয় প্রার্থনা।

নেচে ওঠে, এলোমেলো বেহুলা ভাসান, গুঞ্জারি মালিকা 

উঁচা উঁচা পাবত, শরবী সকল। নাচিছে ঘিরি ঘিরি 

গাহিবে গান। বুঝে দেখ, কতটা উজানে ধায় 

বোরাকের ঘোড়া— ও পাখি কাকাতুয়া নিগূঢ় টিয়ার ঝাঁক। 

কোন কাননে হুটোপুটি আনন্দ বিহার।

তবু আজও মধূকুপি ঘাসফুল, জীবনানন্দ।

শেষের কবিতা এই, চকিতে হেসে ওঠো, ছাতিমগুচ্ছ

যেমন। হেসে ওঠো প্রিয়, গুচ্ছের চন্দ্রপ্রভা যেমতি ॥



এক মুঠো চাঁদের কিরণ

মোহাম্মদ হোসাইন

কবিতা জমা করে রাখি খুচরো টাকার ভিতর

যেমন করে রাখে মানুষ দীর্ঘশ্বাস


মানিব্যাগ হাতড়ে কখনো কখনো শৈশব দেখি

শৈশবে আমার কোনো স্মৃতি নেই শুধু মা-বাবার জল ভরা ছবি


আমার চোখ লাল হয়ে গেলে কালী মন্দিরের দিকে যাই। কেন যে যাই বলতে পারি না...


একবার ভালোবাসা ঠেসে ধরেছিল শরতের চাঁদ তখন সন্ধ্যার বাতাস গায়ে লাগলেই চনমনে দিঘি


ঘোরের ভিতর চাঁদের গরম নিঃশ্বাস পাই

দেখি শরৎকাল বসে আছে পাশে


তখন মনে পড়ে—

ভালোবাসা গঞ্জের হাট ফেরতা মানুষের মুখে

একমুঠো চাঁদের কিরণ... 


বাকসিদ্ধ পুরুষ

মতিন রায়হান

তোমার সঙ্গে কথা বলতেই

         ভিজে গেল ঠোঁট প্রণয়শিশিরে...

আহা শরৎ! তোমার সুধারাশি আজ

পড়ে আছে কোন্ সুদূরে?

                     শিউলিতলায়?

দোলে দোদুল আজ মালতিলতা

দেয়ালঘেঁষা রসালের শাখাপুঞ্জে 

                     শুভ্র পুষ্পরাশিসহ;

রসালের উত্তুঙ্গ দিন গেছে সেই কবে!

             গ্রীষ্ম ও বর্ষার মিলনমোহনায়...

তুমি নেমে এসো আজ খরবেগে 

জলে ও জ্যোৎস্নায়— তুমুল অবগাহনে!

বাক্সিদ্ধ পুরুষ আমি

তোমার নারীজন্মে রেখে যাই

              সুফলা শস্যের বীজ!


তোমার সঙ্গে কথা বলতেই 

             নেমে আসে তীব্র অনলপ্রবাহ

তুমি নারী, অমল-ধবল লতানো কাঙ্ক্ষা

               নিগূঢ়তম দেহপ্রদেশে!


আমি কন্দর্প, আমি মনসিজ

দেহে দেহে বুনে যাই সুফলা শস্যের বীজ!



অচেনা প্রত্যাবর্তন

সাহিদ রেজা

ভোরের বাতাস জড়িয়ে ধরে—

যেন কত দিনের আলাপ!

পিঠে হালকা ছোঁয়া দিয়ে

কপট রাগে জানতে চাইল—

কোথায় ছিলে?


আমি কিছু বলিনি।


শুধু নীরবে তাকিয়ে রইলাম

আলোর আগে জেগে ওঠা—

ফাঁকা আকাশটার দিকে।

বাতাস আবার এলো,

চুল এলোমেলো করে

পুরোনো দিনের মতো বলল—

কোথায় ছিলে?


আমি এবারও উত্তর দিলাম না।


কীভাবে বলি তাকে—

আমি তো কোথাও যাইনি,

শুধু নিজেকেই

হারিয়ে ফেলেছিলাম

কিছু অচেনা দিন-রাতের ভিড়ে।


ভোরের আলো বাড়তে থাকল,

বাতাস ধীরে ধীরে থেমে গেল।

যাওয়ার আগে;

শেষবারের মতো ছুঁয়ে দিয়ে

ফিসফিস করে বলল—

‘তুমি ফিরেছ ঠিকই,

কিন্তু যাকে আমি একদিন চিনতাম,

সে কি তোমার সঙ্গে ফিরেছে?’


চিহ্ন

চরু হক

তোমার উচ্চারিত শব্দ আমার কানের কাছে এসে ভেঙে পড়ে

চুরচুর, গুড়োগুড়ো  হয়ে

যেনো কাচ

আমি দু’হাত পেতে তাই তুলে নেই,

দেখি

সেখানে রক্তের বদলে ফুটেছে এক অনাঘ্রাতা গোলাপ।


শব্দগুলো আস্তে আস্তে নেমে এসে

কপোল স্পর্শ করে।

অতঃপর—

সমস্ত বাগান পরিভ্রমণ শেষে

একটি পালক হয়ে শূন্যে উড়ে যায়। 


দেবদারু!

আলমগীর কবীর আলম

ঘন জঙ্গলে সন্ধ্যা নেমে এলে, দেবদারু ধ্যানে বসে

পাতার ভেতর হারিয়ে যায় দিনের শেষ পাখি;

কোথাও জল নেই, তবু ভেজা গন্ধ ওঠে মাটি থেকে,

মনে হয়, বহুদিন আগে এখানে বৃষ্টি হয়েছে।

দূরে একটা পথ গেছে— কোথায়, কেউ জানে না;

শুধু হরিণেরা কাছাকাছি গিয়ে ফিরে আসে দেখি!

বহু আগে কোনো এক পুরোনো গল্পে শুনেছিলাম,

এই বনের ভেতর রাজা ভয় পেত নিজের ছায়া!

জ্ঞানী বৃক্ষের মতো নীরব বসে থাকে দেবদারু,

ধারেকাছে সাপ নেই, তবু বাতাস বিষ হয়ে আসে;

মানুষ কি এতটাই অপবিত্র, বন তাকে ঘৃণা করবে?

নাকি বন জানে— পাপেরাও একদিন গাছ হয়ে ওঠে?

সন্ধ্যা ঘন হলে জঙ্গলে আর কোনো শব্দ থাকে না,

শুধু পাতার নিচে চাপা পড়ে মানুষের পুরোনো নাম—


বলেছিলে, চলো ঘুম কিনি

শাহাদত হোসেন সুজন

সেদিন রাতে নিদ্রাহীন চোখের আর্তনাদে বলেছিলে—

‘চলো ঘুম কিনে আনি রাতে আঁধারে—

মাঝে মাঝে ঘুমের দেশে যেতে হয়, হাতে হাত রেখে

আকাশের তারা গুনতে হয়—

চলো, এখনি বেরিয়ে পড়ি মিশকালো অন্ধকারে—

মাথার ওপর থাকবে মেঘলা গম্ভীর আকাশ—

বৃষ্টি হলে মন্দ হয় না— জুবথবু হয়ে ভিজবো দু’জনে—


আমি কিছু না বুঝেই বলেছিলাম— ‘তুমি সঙ্গে থাকলে না নেই;

চলো, বানেছা পরীর দেশ থেকে কিনে আনি খানিকটা সুখ

শরতের ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে থাকি—

বৃষ্টিস্নাত রাস্তার ওপর মুঠোমুঠো সুখ কুড়াই’...


আবার বললে— ‘মাঝে মাঝে ঘুম কিনতে হয় গো— হয়—

এতে ব্যামো সারে— ভালোবাসা বাড়ে— মনের অসুখ সারে’—


বলেছিলাম— ‘পুষ্পিত রজনী সঙ্গী হোক ঘুমঘুম ছায়াপথে

ঘুম কি কিনতে হয় গো? এ থাকে থালা ভরা নুন ভাতে’— 


জিব্রাল্টার প্রণালী

মারুফ আহমেদ নয়ন

বাঘের হৃদয় নিয়ে হরিণীর প্রেমে পড়েছিলাম।

তাকে অনুসরণ করে ঝর্নার নিকটে আসি।

মাংসাশীদের যা স্বভাব— দেহে ঠাণ্ডা আগুন।

নদীতে কুমিরের ‘ডেথ রোল’ দেখছিল পাখিরা।

যখন চোয়ালের কাছে এলো মহাপ্রেমের ঘূর্ণন,

শুরু হলো। তুমিও পেয়েছ মাদি কুমিরের স্বভাব।

গোপনে প্রদর্শন করো দয়া, আড়ালে বলো—

গণ্ডারদের নিঃসঙ্গতা। এমন ভয়াবহ নিঃসঙ্গতা

নিয়ে তোমার প্রেমে পড়েছিলাম।

তুচ্ছতায় তুমি হেসে উঠলে, গাছ থেকে পাখিরা

উড়ে যায় ভয়ে, দেহ ছেড়ে পালায় আত্মা।

আমাদের দূরত্ব যেন জিব্রাল্টার প্রণালী—

পাশাপাশি স্বাদু ও নোনাপানির স্রোতধারা,

তবু বিচ্ছিন্ন চিরকাল। 



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত