লিটলম্যাগ নতুন ভাবনা, তারুণ্যের সূতিকাগার। তারুণ্যের শক্তি আর সাহসকে লিটলম্যাগ অভিনন্দিত করে, প্রাতিষ্ঠানিকতাকে ছুঁড়ে ফেলতে চায়। লিটলম্যাগের এ দুরন্ত সাহস, বিচিত্র ও বিবিধ প্রকাশ, প্রতিষ্ঠানবিরোধি সত্তা আর বর্তমান সময় নিয়েই ছাব্বিশ অক্টোবর ধানমণ্ডি ক্লাবে বসেছিলো ধানমণ্ডি আড্ডার বাইশতম আসর। লিটলম্যাগের সম্পাদক , কবি লেখক পাঠকের সমন্বয়ে আসরটি জমজমাট হয়ে উঠেছিলো আলোচনা আর বির্তকে।
নির্সগ সম্পাদক সরকার আশরাফ বলেন— এটি খুব স্পষ্ট যারা গতানুগতিক ধ্যানধারণা এবং যারা নিয়তিনির্ভর বন্দনায় অস্থির তাদের জন্য লিটলম্যাগ নয়। লিটলম্যাগ হচ্ছে যারা প্রগতিশীল চিন্তা করেন এবং যারা প্রগতির সাথে আছেন, তাদের জন্য। রবীন্দ্রনাথ প্রথম চৌধুরীকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন একটা পত্রিকা করার জন্য। প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’ বাংলা সাহিত্যে প্রথম লিটলম্যাগ। আজকে আগের মতো লিটলম্যাগ বিক্রি হতে চায় না। কারণ হয়তো অনেক। তবে পত্রিকা বিক্রি না হলে লাভ কি? তাই লিটলম্যাগের বিপননও প্রয়োজন।
শালুক সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশ বলেন, লিটলম্যাগের মধ্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা একটি অংশ। সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা অনেক বড় বিষয়। দৈনিক প্রত্রিকায় লেখার সাথে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার কী সম্পর্ক আছে? অনেক সংবাদপত্রও বিদ্রোহী লেখা ছাপায়, আবার লিটলম্যাগও স্তুতি করে। আমরা কেউই ঠিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে নয়। আমরা প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। প্রতিষ্ঠানে বসবাস করি। তাই প্রতিষ্ঠানে থেকেই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা করতে হয়। ভাবনায় বিকল্প চিন্তাই প্রকৃত প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা। প্রচলিত চিন্তা বা গতানুগতিকা থেকে বের হয়ে আসতে পারাটাই হচ্ছে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা।
কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন বলেন— বিট্রিশ দুই শ বছর ‘তোরা তো নেটিং পরা চাষার জাত’ বলে আমাদেরকে তাদের সভ্যতা শিখিয়েছিলো। যা কিছু আধিপত্য বিস্তার করে বা ঠেসে ধরে। এই আধিপত্য, তৈরি করা জিনিস বা বলয় ভাঙ্গাটাই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা। লিটলম্যাগ কোনো ছোট বিষয় নয়, আবার এমন অনেক বড় জিনিসও নয়। লিটলম্যাগ হলো সূতিকাগার। যেখানে জন্মায়, চিৎকার দেয়, আমি এসেছি। সূচনা করেছে নতুন চিন্তার। মূলত লিটলম্যাগ হচ্ছে পরিবর্তনের সূতিকাগার।
লোক সম্পাদক অনিকেত শামীম বলেন, এক ধরনের লিটলম্যাগ গ্রুপ ছিলো যে তারা শুধু একটি কাগজেই লিখবে। অন্য কোনো লিটলম্যাগে নয়। আর একট গ্রুপ ছিলো যে তারা বিভিন্ন লিটলম্যাগে লিখবে কিন্তু কোনো বড় কাগজে নয়। তৃতীয় আর একটি গ্রুপ ছিলো যে তারা লিটলম্যাগে লিখেন তবে বড় কাগজে লিখতেন কিন্তু তাদের বিষয়গুলো ছিলো অভিনব। লিটলম্যাগ কোনো হাত পাকানোর জায়গা না। যে নতুন লিখতে এসেছি তাই লিটলম্যাগে লিখবো। শর্ত এই যে, নতুন লিখতে এসছি, নতুন চিন্তাও নিয়ে এসেছি। লিটলম্যাগাজিন ও সাহিত্য পত্রিকার মধ্যে বিরাট প্রার্থক্য অঅছে ।
খেয়া সম্পাদক পুলক হাসান বলেন— লিটলম্যাগের সম্পাদকীয়তে লিখেছিলাম লিটলম্যাগের একক কোনো সম্পাদক নেই। লিটলম্যাগের প্রত্যেক লেখকই এর সম্পাদক। এখানে লেখকের সেল্ফ কনফিডেন্স থাকতে হয়। বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন— এটা যৌবনের কাজ। তেতাল্লিশ বছর ধরে লিটলম্যাগ করছি। তাই এখন সাহিত্য কাগজ করছি। তবে এটা ঠিক এসটাবিলশমেন্টের কাছে কখনও কখনও আত্মসমর্পণ করতে হয়।
আলোচনায় আরো অংশ নেন আযাদ নোমান, মামুন মুস্তাফা, রিসি দলাই, জামশেদ ওয়াজেদ, গোলাম মোস্তফা, ইসলাম রফিক, শাহীন লতিফ, রোকসানা রহমান, রমজান মাহমুদ, শাহনাজ পারভীন, ইসলাম রফিক, ড. হালিদা হানুমসহ আরো অনেকে।
স্বাগত বক্তব্যে ধানমণ্ডি আড্ডার সভাপতি কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন স্ট্রিম অফ কনসাসনেশ এবং শিল্প-সাহিত্য নিয়ে।
আড্ডা শুরু হয়ে তজিরুল ইসলামের পরিবেশনায়— ‘না গো, এই যে ধুলা আমার না এই রবীন্দ্রসঙ্গীতের মাধ্যমে। সঙ্গীতশিল্পী সুজিত মোস্তফা পরিবেশন করেন চিরকালীন পছন্দের মানবেন্দ্রর গান ও নজরুলসঙ্গীত। ‘আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি’, ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী’। আড্ডা সঞ্চালনা করেন ধানমণ্ডি আড্ডার সাধারণ সম্পাদক কথাসাহিত্যিক নূর কামরুন নাহার
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হয়ে আড্ডা শেষ হয় নয়টা বিশে। “ধানমণ্ডি আড্ডা” অনুরাগী, লেখক, কবিদের সাড়ে তিন ঘন্টা আলোচনা, স্মৃতি, বির্তক, আশা আর আশাহীনতায় উত্তপ্ত হয়, উষ্ণ হয়। আড্ডা উসকে দেয় নতুন ভাবনা তাই আলোচনা শেষ হয় না, তর্ক-বির্তক প্রশ্ন থেকে যায়, কারো ভেতরে আবারো লিটলম্যাগ প্রকাশের ইচ্ছা জাগায় নতুন চিন্তার আগুন জ্বালায়।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
লিটলম্যাগ নতুন ভাবনা, তারুণ্যের সূতিকাগার। তারুণ্যের শক্তি আর সাহসকে লিটলম্যাগ অভিনন্দিত করে, প্রাতিষ্ঠানিকতাকে ছুঁড়ে ফেলতে চায়। লিটলম্যাগের এ দুরন্ত সাহস, বিচিত্র ও বিবিধ প্রকাশ, প্রতিষ্ঠানবিরোধি সত্তা আর বর্তমান সময় নিয়েই ছাব্বিশ অক্টোবর ধানমণ্ডি ক্লাবে বসেছিলো ধানমণ্ডি আড্ডার বাইশতম আসর। লিটলম্যাগের সম্পাদক , কবি লেখক পাঠকের সমন্বয়ে আসরটি জমজমাট হয়ে উঠেছিলো আলোচনা আর বির্তকে।
নির্সগ সম্পাদক সরকার আশরাফ বলেন— এটি খুব স্পষ্ট যারা গতানুগতিক ধ্যানধারণা এবং যারা নিয়তিনির্ভর বন্দনায় অস্থির তাদের জন্য লিটলম্যাগ নয়। লিটলম্যাগ হচ্ছে যারা প্রগতিশীল চিন্তা করেন এবং যারা প্রগতির সাথে আছেন, তাদের জন্য। রবীন্দ্রনাথ প্রথম চৌধুরীকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন একটা পত্রিকা করার জন্য। প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’ বাংলা সাহিত্যে প্রথম লিটলম্যাগ। আজকে আগের মতো লিটলম্যাগ বিক্রি হতে চায় না। কারণ হয়তো অনেক। তবে পত্রিকা বিক্রি না হলে লাভ কি? তাই লিটলম্যাগের বিপননও প্রয়োজন।
শালুক সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশ বলেন, লিটলম্যাগের মধ্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা একটি অংশ। সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা অনেক বড় বিষয়। দৈনিক প্রত্রিকায় লেখার সাথে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার কী সম্পর্ক আছে? অনেক সংবাদপত্রও বিদ্রোহী লেখা ছাপায়, আবার লিটলম্যাগও স্তুতি করে। আমরা কেউই ঠিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে নয়। আমরা প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। প্রতিষ্ঠানে বসবাস করি। তাই প্রতিষ্ঠানে থেকেই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা করতে হয়। ভাবনায় বিকল্প চিন্তাই প্রকৃত প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা। প্রচলিত চিন্তা বা গতানুগতিকা থেকে বের হয়ে আসতে পারাটাই হচ্ছে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা।
কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন বলেন— বিট্রিশ দুই শ বছর ‘তোরা তো নেটিং পরা চাষার জাত’ বলে আমাদেরকে তাদের সভ্যতা শিখিয়েছিলো। যা কিছু আধিপত্য বিস্তার করে বা ঠেসে ধরে। এই আধিপত্য, তৈরি করা জিনিস বা বলয় ভাঙ্গাটাই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা। লিটলম্যাগ কোনো ছোট বিষয় নয়, আবার এমন অনেক বড় জিনিসও নয়। লিটলম্যাগ হলো সূতিকাগার। যেখানে জন্মায়, চিৎকার দেয়, আমি এসেছি। সূচনা করেছে নতুন চিন্তার। মূলত লিটলম্যাগ হচ্ছে পরিবর্তনের সূতিকাগার।
লোক সম্পাদক অনিকেত শামীম বলেন, এক ধরনের লিটলম্যাগ গ্রুপ ছিলো যে তারা শুধু একটি কাগজেই লিখবে। অন্য কোনো লিটলম্যাগে নয়। আর একট গ্রুপ ছিলো যে তারা বিভিন্ন লিটলম্যাগে লিখবে কিন্তু কোনো বড় কাগজে নয়। তৃতীয় আর একটি গ্রুপ ছিলো যে তারা লিটলম্যাগে লিখেন তবে বড় কাগজে লিখতেন কিন্তু তাদের বিষয়গুলো ছিলো অভিনব। লিটলম্যাগ কোনো হাত পাকানোর জায়গা না। যে নতুন লিখতে এসেছি তাই লিটলম্যাগে লিখবো। শর্ত এই যে, নতুন লিখতে এসছি, নতুন চিন্তাও নিয়ে এসেছি। লিটলম্যাগাজিন ও সাহিত্য পত্রিকার মধ্যে বিরাট প্রার্থক্য অঅছে ।
খেয়া সম্পাদক পুলক হাসান বলেন— লিটলম্যাগের সম্পাদকীয়তে লিখেছিলাম লিটলম্যাগের একক কোনো সম্পাদক নেই। লিটলম্যাগের প্রত্যেক লেখকই এর সম্পাদক। এখানে লেখকের সেল্ফ কনফিডেন্স থাকতে হয়। বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন— এটা যৌবনের কাজ। তেতাল্লিশ বছর ধরে লিটলম্যাগ করছি। তাই এখন সাহিত্য কাগজ করছি। তবে এটা ঠিক এসটাবিলশমেন্টের কাছে কখনও কখনও আত্মসমর্পণ করতে হয়।
আলোচনায় আরো অংশ নেন আযাদ নোমান, মামুন মুস্তাফা, রিসি দলাই, জামশেদ ওয়াজেদ, গোলাম মোস্তফা, ইসলাম রফিক, শাহীন লতিফ, রোকসানা রহমান, রমজান মাহমুদ, শাহনাজ পারভীন, ইসলাম রফিক, ড. হালিদা হানুমসহ আরো অনেকে।
স্বাগত বক্তব্যে ধানমণ্ডি আড্ডার সভাপতি কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন স্ট্রিম অফ কনসাসনেশ এবং শিল্প-সাহিত্য নিয়ে।
আড্ডা শুরু হয়ে তজিরুল ইসলামের পরিবেশনায়— ‘না গো, এই যে ধুলা আমার না এই রবীন্দ্রসঙ্গীতের মাধ্যমে। সঙ্গীতশিল্পী সুজিত মোস্তফা পরিবেশন করেন চিরকালীন পছন্দের মানবেন্দ্রর গান ও নজরুলসঙ্গীত। ‘আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি’, ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী’। আড্ডা সঞ্চালনা করেন ধানমণ্ডি আড্ডার সাধারণ সম্পাদক কথাসাহিত্যিক নূর কামরুন নাহার
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হয়ে আড্ডা শেষ হয় নয়টা বিশে। “ধানমণ্ডি আড্ডা” অনুরাগী, লেখক, কবিদের সাড়ে তিন ঘন্টা আলোচনা, স্মৃতি, বির্তক, আশা আর আশাহীনতায় উত্তপ্ত হয়, উষ্ণ হয়। আড্ডা উসকে দেয় নতুন ভাবনা তাই আলোচনা শেষ হয় না, তর্ক-বির্তক প্রশ্ন থেকে যায়, কারো ভেতরে আবারো লিটলম্যাগ প্রকাশের ইচ্ছা জাগায় নতুন চিন্তার আগুন জ্বালায়।

আপনার মতামত লিখুন