মৃত্যুচক্র
আবদুর রাজ্জাক
কোন্ পথ তুমি বেছে নিয়েছো, নদীর বুকে ভেসে যাওয়া পথ?
নিশানা আমি, আমাকে ভাসালে নদীতে, আমি কিন্তু কবরে।
তুমি শোক করেছো, আমি সেই শোকের শিকার ছিলাম,
মৃত্যুর পর আমাকে শান্তি দিয়েছো, তার আগে— তারও আগে
আমি তোমার কষ্টের জন্ম দিয়েছি।
তোমার খাঁচায় আমাকে রেখে দিয়ে তুমি এক অসম্ভব মৃত্যুচক্র।
সেই চক্রে আমি মুক্তাবদ্ধ।
তুমি মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলে আকাশে।
আমি পরাজিতদের, দুষ্ট চক্রের, আমি সেই শিকার,
আমাকে কেউ রক্ষা করেনি।
আমি থেকে যাবো তোমার নির্মিত অন্ধকারে, আমি শুধু— একটি
সংখ্যা মাত্র, হিসেবের বাইরে আরেকটি হিসেব।
নদী কোনো কিছু ভোলে না, জলও ভোলে না।
মাত্র একটি প্রশ্ন আমার সামনে, আর কতো মৃত্যু! আর কতো
মৃত্যুর আশ্রয়
তোমার জীবনের— ছত্রছায়ায়।
জল আমার হিসেবের খাতা, নামহীন নদী কাউকে হিসেবে রাখে না,
তুমি আমাকে কষ্ট দিয়ে অস্বীকারের ভাষা দিয়ে স্বীকার করেছো।
সর্বত্র আমি তোমার শত্রু, শত্রু— ভিতরের বাইরের।
আমার মৃত্যুর দরোজা আমি নিজ হাতে খুলে দিয়েছি, প্রশ্ন অনেক—
কেউ উত্তর দেয় না।
আমি বিচার চেয়েছি, শাস্তি চেয়েছি, সকলেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
তুমি আমাকে মৃত্যু দিয়েছো— নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে,
তুমি প্রতিশোধ নিয়েছো— আমাকে জলে ভাসিয়ে দিয়ে,
নিশানা! বড় অশ্লীল ছিলো সেই নিশানা, সেই— অশ্লীলতার ভাষা
কে সে জন্ম দিয়েছে?
আমিও এসেছি
দিলারা হাফিজ
আমিও এসেছি এক দূরালোক বিন্ধ্যাচল থেকে—-
জয়িতার দুগ্ধরীতি মেনে...
বন্য-জ্যোৎস্নায় বহুবঙ্কিম পিছল পথ পাড়ি দিয়ে
কুশনক্ষত্রের আলো হাতে এসেছি এখানে মৃত্যু-চয়নে!
দুটি পরম প্রাণের প্রণয়-জলে সঞ্চিত অমৃতকুম্ভ আমি
আদিম বাতাসে ভেসে এসেছি জলজন্মের ভাসানে—
মানুষের নিষ্ঠুরতা ঘিরে এখানে কাঁদছে মানুষ
মানুষের মায়া ও মমতা মেখে এখনো হেসে ওঠে মানুষ!
নিঃসঙ্গ মানুষ পাশে চেয়েছে আরো মানুষ
একাকী মানুষ চেয়েছে একাধিক দুর্মর সাহস
নির্মোক আঁধার পথে জরা ও ক্ষয়, চেতনা বিনাশী রাত
ডিঙিয়ে আমি ঐ মঞ্জুরিত বুকে এক বাসনা-ব্যাকুল পুষ্প!
সভ্যতার পাপ-তাপ প্রসবে অনধিক এক শব্দ-কারিগর
জন্মেছি বাংলা ভাষায়, শিল্পময় সত্য বলি দিলারা সাম্রাজ্যে।
ঝরা
জিললুর রহমান
কেবল চুমুর জন্য ঝরতে পারে
মাথামুণ্ডু প্রেম
শীতের পাতারা
চারপাশে ঝিরঝির ম্লান
ইলশে বৃষ্টির বেগে
চোখের জলের রূপা
লাল হলদে সবুজ পাতারা
রক্তধারা গাল বেয়ে নামে
অকাল যাত্রায় এত এত শিরশ্ছেদ—
লালনদী স্রোত বহে, তবু
হেমন্ত আসেনি,
বর্ষার প্রিয় মরশুম চলে গেছে
তারপরও টুপ টুপ
মুণ্ডু — পাতা
নোঙর
হাবিবা রোজী
খাঁখাঁ হৈমন্তিক মনপোড়ানো দুপুর, এলিয়ে দেই
বইয়ের পাতায়। পাতাগুলো চোষকাগজের মতো,
শুষে নেয় আগুনদহন, অভিজাত অহমিকা,
ফুটো আস্ফালন, মেকি সম্পর্ক, উন্নাসিক অজ্ঞতা।
রোদ পানিতে শক্ত হওয়া বৃক্ষবাকলে ধাক্কা লেগে
ফিরে আসা আশা, প্রীতি, মায়া শব্দে নীড় খুঁজে।
শব্দের বন্দরে বোহেমিয়ান পিপাসার্ত মন,
কেবল ছুঁয়ে থাকে ব্যথাহত একঘেয়ে সময়।
বইয়ের চারুময় শব্দের কারুকাজে শেষ সমর্পণ।
জীবনে কুড়িয়ে পাওয়া যত জাগতিক বিষ,
শব্দের মায়াময় পুণ্যতোয়া স্নানে হয় নির্বিষ।
বর্তমান
মুশাররাত
আর কত অতীত বিলাস
বাগান বিলাস হয়ে
ঔদ্ধত্য দেখাবে ম্যাজেন্টা রঙের যৌবনকে
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ফানুস উড়িয়ে শূন্য আকাশে
আর কত আশংকায় কুঁকড়ে থাকবে ভীত সন্ত্রস্ত
খরগোশের মতো
বুক ভরা স্বপ্ন, রঙিন মগ্নতায় ডুবে থাকা চোখ
আর কত অপেক্ষায় থাকবে
আজ আমি যাই বলি সেটাই হয়ে যাবে গত
আজকের গর্ভেই নিষিক্ত হবে আগামীকালের ভবিষ্যৎ
অনুতপ্ত অতীত
বা অনিশ্চিত আগামীর ছবি
স্রষ্টার তুলিতেই আঁচড় কাটুক
বর্তমানের ক্যানভাসটা নিজস্বতায় বেঁচে থাকুক
বোকা মানুষের দল
তীর্থযাত্রীর মতো সারি বেঁধে চলো
হিমছড়ি বা টেকনাফের পথে
সমুদ্রের রাজকীয় শব্দের সাথে জীবন্ত হয়ে উঠুক
মানুষের সমুদয় বর্তমান
পাহাড়ের কানে প্রেমের গল্প শুনিয়ে বলি
এই তো জীবন
গতকাল বা আগামীকালের জন্য
সাজেনা শ্বেতকাঞ্চন।
তুই আমার
মেহনাজ মুস্তারিন
তোর কি চৈত্রের রাত আছে? হীম হীম শীতল নদী
চল তুই আমার ঝর্না হবি
শীতল জলে হাত মিলাবি
তোর কি নৌকা আছে? ছই, গুলুই, নোঙর
চল সাঁতার হবো ইচ্ছে মতো ঢেউ বানাব
তোর কি বুনো ষাঁড় আছে? সোঁ সোঁ শব্দে নামিয়ে দেবে বৃষ্টি
চল তুই আমাই ভিজিয়ে দিবি জানালার নিচে রোদের মতো শুকিয়ে নিবি
তোর কি মাঠ আছে? সবুজ শোভার দিনরাত
চল তুই আমার গাঙ্গুপাড়ার মাঠ হবি চিতল নদীর বিল হবি
তোর কি রৌদ্র আছে? সূর্যলতা গাছের শিকড়
চল তুই আমার বসতবাড়ির টিন হবি আকাশ পথে গাঙচিলের ডাক হবি
হবি তো?
রাত জাগে, দূরত্ব জাগে
অদিতি খান
প্রেমিকের জ্বরের রাতে হাজার মাইল দূরে
পড়ে থাকা মায়ের মতো ছটফট করে মন।
দুশ্চিন্তায়, অনাহারে, অনিদ্রায়
সময় ফুরোয় না, রাত শেষ হয় না।
তার কপালে জলপট্টি দেওয়ার কেউ আছে কি না,
কে জানে! আমার হাত দুটো
শূন্যতায় পড়ে থাকে মৃত কোনো নদীর মতো।
খিদে পায় না, ঘুম আসে না।
পৃথিবী এত বড় কেন,
মানুষের কাছে পৌঁছাতে এত সমুদ্র লাগে কেন?
রাত তিনটেয় ফোনের আলো জ্বলে ওঠে—
“এখন একটু ভালো লাগছে।”
হাজার মাইল দূরে একটা মানুষ সুস্থ হয়ে ঘুমোয়,
আরেকটা মানুষ তার সুস্থতার খবর বুকে নিয়ে
সারারাত নিজের ভেতর জ্বর বাড়তে দেখে।
ভোর হয়, পৃথিবী স্বাভাবিক হয়ে যায়—
শুধু যার কাছে ছুটে যাওয়া হলো না,
তার অসুখটা থেকে যায় নিজের শরীরে।
নভেম্বর
কাকলী সাহা
মিথ্যেই অপবাদ দেওয়া তোমাকে নভেম্বর!
কোথাও কোনও অস্বচ্ছতার অবকাশ তো নেই,
কুয়াশার ওড়নির আড়ালে সেই সব চেনা খুনসুটি নেই,
সকালের আলসেমিতে তোমার
কান্নাভেজা শিউলি সেসব তো মলিন স্মৃতি মাত্র।
উৎসবের রোশনাই কিছুটা ফিকে হলেও
কাশের বনের উচ্ছ্বাস, ভরন্ত নদীর চেনা ডাক,
সবুজ ক্ষেতে হলুদ শীতের আগেই রক্তের কালো দাগ।
নভেম্বর তুমি কি সত্যিই বিপ্লবের?
নাকি কেবলই কুয়াশার হাতছানি?
কেবলই ভীতিকর গাঢ় শীতের নিষ্ঠুরতা?

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
মৃত্যুচক্র
আবদুর রাজ্জাক
কোন্ পথ তুমি বেছে নিয়েছো, নদীর বুকে ভেসে যাওয়া পথ?
নিশানা আমি, আমাকে ভাসালে নদীতে, আমি কিন্তু কবরে।
তুমি শোক করেছো, আমি সেই শোকের শিকার ছিলাম,
মৃত্যুর পর আমাকে শান্তি দিয়েছো, তার আগে— তারও আগে
আমি তোমার কষ্টের জন্ম দিয়েছি।
তোমার খাঁচায় আমাকে রেখে দিয়ে তুমি এক অসম্ভব মৃত্যুচক্র।
সেই চক্রে আমি মুক্তাবদ্ধ।
তুমি মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলে আকাশে।
আমি পরাজিতদের, দুষ্ট চক্রের, আমি সেই শিকার,
আমাকে কেউ রক্ষা করেনি।
আমি থেকে যাবো তোমার নির্মিত অন্ধকারে, আমি শুধু— একটি
সংখ্যা মাত্র, হিসেবের বাইরে আরেকটি হিসেব।
নদী কোনো কিছু ভোলে না, জলও ভোলে না।
মাত্র একটি প্রশ্ন আমার সামনে, আর কতো মৃত্যু! আর কতো
মৃত্যুর আশ্রয়
তোমার জীবনের— ছত্রছায়ায়।
জল আমার হিসেবের খাতা, নামহীন নদী কাউকে হিসেবে রাখে না,
তুমি আমাকে কষ্ট দিয়ে অস্বীকারের ভাষা দিয়ে স্বীকার করেছো।
সর্বত্র আমি তোমার শত্রু, শত্রু— ভিতরের বাইরের।
আমার মৃত্যুর দরোজা আমি নিজ হাতে খুলে দিয়েছি, প্রশ্ন অনেক—
কেউ উত্তর দেয় না।
আমি বিচার চেয়েছি, শাস্তি চেয়েছি, সকলেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
তুমি আমাকে মৃত্যু দিয়েছো— নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে,
তুমি প্রতিশোধ নিয়েছো— আমাকে জলে ভাসিয়ে দিয়ে,
নিশানা! বড় অশ্লীল ছিলো সেই নিশানা, সেই— অশ্লীলতার ভাষা
কে সে জন্ম দিয়েছে?
আমিও এসেছি
দিলারা হাফিজ
আমিও এসেছি এক দূরালোক বিন্ধ্যাচল থেকে—-
জয়িতার দুগ্ধরীতি মেনে...
বন্য-জ্যোৎস্নায় বহুবঙ্কিম পিছল পথ পাড়ি দিয়ে
কুশনক্ষত্রের আলো হাতে এসেছি এখানে মৃত্যু-চয়নে!
দুটি পরম প্রাণের প্রণয়-জলে সঞ্চিত অমৃতকুম্ভ আমি
আদিম বাতাসে ভেসে এসেছি জলজন্মের ভাসানে—
মানুষের নিষ্ঠুরতা ঘিরে এখানে কাঁদছে মানুষ
মানুষের মায়া ও মমতা মেখে এখনো হেসে ওঠে মানুষ!
নিঃসঙ্গ মানুষ পাশে চেয়েছে আরো মানুষ
একাকী মানুষ চেয়েছে একাধিক দুর্মর সাহস
নির্মোক আঁধার পথে জরা ও ক্ষয়, চেতনা বিনাশী রাত
ডিঙিয়ে আমি ঐ মঞ্জুরিত বুকে এক বাসনা-ব্যাকুল পুষ্প!
সভ্যতার পাপ-তাপ প্রসবে অনধিক এক শব্দ-কারিগর
জন্মেছি বাংলা ভাষায়, শিল্পময় সত্য বলি দিলারা সাম্রাজ্যে।
ঝরা
জিললুর রহমান
কেবল চুমুর জন্য ঝরতে পারে
মাথামুণ্ডু প্রেম
শীতের পাতারা
চারপাশে ঝিরঝির ম্লান
ইলশে বৃষ্টির বেগে
চোখের জলের রূপা
লাল হলদে সবুজ পাতারা
রক্তধারা গাল বেয়ে নামে
অকাল যাত্রায় এত এত শিরশ্ছেদ—
লালনদী স্রোত বহে, তবু
হেমন্ত আসেনি,
বর্ষার প্রিয় মরশুম চলে গেছে
তারপরও টুপ টুপ
মুণ্ডু — পাতা
নোঙর
হাবিবা রোজী
খাঁখাঁ হৈমন্তিক মনপোড়ানো দুপুর, এলিয়ে দেই
বইয়ের পাতায়। পাতাগুলো চোষকাগজের মতো,
শুষে নেয় আগুনদহন, অভিজাত অহমিকা,
ফুটো আস্ফালন, মেকি সম্পর্ক, উন্নাসিক অজ্ঞতা।
রোদ পানিতে শক্ত হওয়া বৃক্ষবাকলে ধাক্কা লেগে
ফিরে আসা আশা, প্রীতি, মায়া শব্দে নীড় খুঁজে।
শব্দের বন্দরে বোহেমিয়ান পিপাসার্ত মন,
কেবল ছুঁয়ে থাকে ব্যথাহত একঘেয়ে সময়।
বইয়ের চারুময় শব্দের কারুকাজে শেষ সমর্পণ।
জীবনে কুড়িয়ে পাওয়া যত জাগতিক বিষ,
শব্দের মায়াময় পুণ্যতোয়া স্নানে হয় নির্বিষ।
বর্তমান
মুশাররাত
আর কত অতীত বিলাস
বাগান বিলাস হয়ে
ঔদ্ধত্য দেখাবে ম্যাজেন্টা রঙের যৌবনকে
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ফানুস উড়িয়ে শূন্য আকাশে
আর কত আশংকায় কুঁকড়ে থাকবে ভীত সন্ত্রস্ত
খরগোশের মতো
বুক ভরা স্বপ্ন, রঙিন মগ্নতায় ডুবে থাকা চোখ
আর কত অপেক্ষায় থাকবে
আজ আমি যাই বলি সেটাই হয়ে যাবে গত
আজকের গর্ভেই নিষিক্ত হবে আগামীকালের ভবিষ্যৎ
অনুতপ্ত অতীত
বা অনিশ্চিত আগামীর ছবি
স্রষ্টার তুলিতেই আঁচড় কাটুক
বর্তমানের ক্যানভাসটা নিজস্বতায় বেঁচে থাকুক
বোকা মানুষের দল
তীর্থযাত্রীর মতো সারি বেঁধে চলো
হিমছড়ি বা টেকনাফের পথে
সমুদ্রের রাজকীয় শব্দের সাথে জীবন্ত হয়ে উঠুক
মানুষের সমুদয় বর্তমান
পাহাড়ের কানে প্রেমের গল্প শুনিয়ে বলি
এই তো জীবন
গতকাল বা আগামীকালের জন্য
সাজেনা শ্বেতকাঞ্চন।
তুই আমার
মেহনাজ মুস্তারিন
তোর কি চৈত্রের রাত আছে? হীম হীম শীতল নদী
চল তুই আমার ঝর্না হবি
শীতল জলে হাত মিলাবি
তোর কি নৌকা আছে? ছই, গুলুই, নোঙর
চল সাঁতার হবো ইচ্ছে মতো ঢেউ বানাব
তোর কি বুনো ষাঁড় আছে? সোঁ সোঁ শব্দে নামিয়ে দেবে বৃষ্টি
চল তুই আমাই ভিজিয়ে দিবি জানালার নিচে রোদের মতো শুকিয়ে নিবি
তোর কি মাঠ আছে? সবুজ শোভার দিনরাত
চল তুই আমার গাঙ্গুপাড়ার মাঠ হবি চিতল নদীর বিল হবি
তোর কি রৌদ্র আছে? সূর্যলতা গাছের শিকড়
চল তুই আমার বসতবাড়ির টিন হবি আকাশ পথে গাঙচিলের ডাক হবি
হবি তো?
রাত জাগে, দূরত্ব জাগে
অদিতি খান
প্রেমিকের জ্বরের রাতে হাজার মাইল দূরে
পড়ে থাকা মায়ের মতো ছটফট করে মন।
দুশ্চিন্তায়, অনাহারে, অনিদ্রায়
সময় ফুরোয় না, রাত শেষ হয় না।
তার কপালে জলপট্টি দেওয়ার কেউ আছে কি না,
কে জানে! আমার হাত দুটো
শূন্যতায় পড়ে থাকে মৃত কোনো নদীর মতো।
খিদে পায় না, ঘুম আসে না।
পৃথিবী এত বড় কেন,
মানুষের কাছে পৌঁছাতে এত সমুদ্র লাগে কেন?
রাত তিনটেয় ফোনের আলো জ্বলে ওঠে—
“এখন একটু ভালো লাগছে।”
হাজার মাইল দূরে একটা মানুষ সুস্থ হয়ে ঘুমোয়,
আরেকটা মানুষ তার সুস্থতার খবর বুকে নিয়ে
সারারাত নিজের ভেতর জ্বর বাড়তে দেখে।
ভোর হয়, পৃথিবী স্বাভাবিক হয়ে যায়—
শুধু যার কাছে ছুটে যাওয়া হলো না,
তার অসুখটা থেকে যায় নিজের শরীরে।
নভেম্বর
কাকলী সাহা
মিথ্যেই অপবাদ দেওয়া তোমাকে নভেম্বর!
কোথাও কোনও অস্বচ্ছতার অবকাশ তো নেই,
কুয়াশার ওড়নির আড়ালে সেই সব চেনা খুনসুটি নেই,
সকালের আলসেমিতে তোমার
কান্নাভেজা শিউলি সেসব তো মলিন স্মৃতি মাত্র।
উৎসবের রোশনাই কিছুটা ফিকে হলেও
কাশের বনের উচ্ছ্বাস, ভরন্ত নদীর চেনা ডাক,
সবুজ ক্ষেতে হলুদ শীতের আগেই রক্তের কালো দাগ।
নভেম্বর তুমি কি সত্যিই বিপ্লবের?
নাকি কেবলই কুয়াশার হাতছানি?
কেবলই ভীতিকর গাঢ় শীতের নিষ্ঠুরতা?

আপনার মতামত লিখুন