সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানের নোমান মাহমুদ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ এএম

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানের নোমান মাহমুদ
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

নতুন গঠিত ত্রিপক্ষীয় সামরিক ও অর্থনৈতিক জোট ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’-এর প্রথম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে তার এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেনারেল নোমান মাহমুদ জোটটির মূল প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘জেনারেল সেক্রেটারিয়েট’-এর প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। ঐতিহাসিক এই যৌথ প্রতিরক্ষা জোটটির স্থায়ী সাধারণ সচিবালয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে স্থাপন করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পাদিত এই ত্রিপক্ষীয় ঐতিহাসিক চুক্তিটি সম্প্রতি ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ বা ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। গত মাসে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছিলেন যে, চুক্তি অনুযায়ী জোটের প্রথম প্রধান বা মহাসচিব পদের দায়িত্ব যাবে পাকিস্তানের কোনো কর্মকর্তার হাতে। তার সেই ঘোষণার পরই নোমান মাহমুদকে এ পদে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হলো।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক যৌথভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। দেশ তিনটির নিরাপত্তা ও কৌশলগত বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করতে একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রার পর গত মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই কমিটির উদ্বোধনী ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। সৌদি আরবের পক্ষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলেরসহ সামরিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জোটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সামরিক ঐক্য কোনো সুনির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠন করা হয়নি। বরং তিন মিত্র দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করতেই এটি কাজ করবে।

এদিকে ভবিষ্যতে এ জোটের পরিধি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত কিছু বিষয় সমাধান হলেই পরবর্তী ধাপে মিসরও এই মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্সে যুক্ত হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের মতো এশীয় দেশগুলোও এই নতুন জোটের বিষয়ে নজর রাখছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি জানান, বাংলাদেশের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ, অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক গতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত যেকোনো আন্তর্জাতিক জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক ভাবনায় রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানের নোমান মাহমুদ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নতুন গঠিত ত্রিপক্ষীয় সামরিক ও অর্থনৈতিক জোট ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’-এর প্রথম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে তার এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেনারেল নোমান মাহমুদ জোটটির মূল প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘জেনারেল সেক্রেটারিয়েট’-এর প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। ঐতিহাসিক এই যৌথ প্রতিরক্ষা জোটটির স্থায়ী সাধারণ সচিবালয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে স্থাপন করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পাদিত এই ত্রিপক্ষীয় ঐতিহাসিক চুক্তিটি সম্প্রতি ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ বা ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। গত মাসে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছিলেন যে, চুক্তি অনুযায়ী জোটের প্রথম প্রধান বা মহাসচিব পদের দায়িত্ব যাবে পাকিস্তানের কোনো কর্মকর্তার হাতে। তার সেই ঘোষণার পরই নোমান মাহমুদকে এ পদে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হলো।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক যৌথভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। দেশ তিনটির নিরাপত্তা ও কৌশলগত বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করতে একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রার পর গত মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই কমিটির উদ্বোধনী ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। সৌদি আরবের পক্ষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলেরসহ সামরিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জোটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সামরিক ঐক্য কোনো সুনির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠন করা হয়নি। বরং তিন মিত্র দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করতেই এটি কাজ করবে।

এদিকে ভবিষ্যতে এ জোটের পরিধি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত কিছু বিষয় সমাধান হলেই পরবর্তী ধাপে মিসরও এই মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্সে যুক্ত হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের মতো এশীয় দেশগুলোও এই নতুন জোটের বিষয়ে নজর রাখছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি জানান, বাংলাদেশের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ, অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক গতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত যেকোনো আন্তর্জাতিক জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক ভাবনায় রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত