টানা অতিবৃষ্টি আর মাঠজুড়ে রোপা আমন ধান থাকায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চারণভূমিগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় মাঠ থেকে প্রাকৃতিক ঘাস সংগ্রহের কোনো উপায় নেই। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার প্রান্তিক খামারি ও গবাদিপশুর মালিকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য খড়ের জন্য জেলা বাইরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ট্রাকে করে খড় আমদানি করছেন। কিন্তু অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে এখন প্রতি মণ খড় বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
খড়ের পাশাপাশি বাজারে প্রস্তুতকৃত রেডিমেড ফিডের দামও এখন আকাশছোঁয়া। এতে গো-খাদ্যের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন খামারিরা। অনেকে বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উপজেলার কঞ্চিবাড়ী, চণ্ডীপুর, শান্তিরীতি, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, সর্বানন্দ, সোনারায়, বেলকা, তারাপুর ও হরিপুর এলাকার কয়েকজন খামারি জানান, একটি গরুর পেছনে বর্তমানে দৈনিক খাদ্য খরচ হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। কিন্তু সেই অনুপাতে দুধের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই খামার বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, "অতিবৃষ্টির কারণে চারণভূমি বিনষ্ট হওয়ায় সাময়িকভাবে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে গবাদিপশু বাঁচাতে খামারিদের মাঝে স্বল্পমূল্যে ভুষি বিতরণ ও ঘাসচাষে উদ্বুদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাস চাষের জন্য খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টানা অতিবৃষ্টি আর মাঠজুড়ে রোপা আমন ধান থাকায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চারণভূমিগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় মাঠ থেকে প্রাকৃতিক ঘাস সংগ্রহের কোনো উপায় নেই। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার প্রান্তিক খামারি ও গবাদিপশুর মালিকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য খড়ের জন্য জেলা বাইরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ট্রাকে করে খড় আমদানি করছেন। কিন্তু অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে এখন প্রতি মণ খড় বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
খড়ের পাশাপাশি বাজারে প্রস্তুতকৃত রেডিমেড ফিডের দামও এখন আকাশছোঁয়া। এতে গো-খাদ্যের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন খামারিরা। অনেকে বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উপজেলার কঞ্চিবাড়ী, চণ্ডীপুর, শান্তিরীতি, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, সর্বানন্দ, সোনারায়, বেলকা, তারাপুর ও হরিপুর এলাকার কয়েকজন খামারি জানান, একটি গরুর পেছনে বর্তমানে দৈনিক খাদ্য খরচ হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। কিন্তু সেই অনুপাতে দুধের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই খামার বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, "অতিবৃষ্টির কারণে চারণভূমি বিনষ্ট হওয়ায় সাময়িকভাবে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে গবাদিপশু বাঁচাতে খামারিদের মাঝে স্বল্পমূল্যে ভুষি বিতরণ ও ঘাসচাষে উদ্বুদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাস চাষের জন্য খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন