সংবাদ

ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে বসছে আলোর পাঠশালা


প্রতিনিধি, গোবিপ্রবি
প্রতিনিধি, গোবিপ্রবি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে বসছে আলোর পাঠশালা
মনোযোগ দিয়ে পড়া শিখছে পাঠশালার সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংবাদ

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা অন্যান্য দিনের চেয়ে কম। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকাটিও বেশ ফাঁকা। তবে বিকেল গড়ালেই সেখানে জমে ওঠে ভিন্ন এক আয়োজন। খাতা-কলম হাতে ও হাসিমুখে ছোট ছোট শিশুরা জড়ো হতে শুরু করে। আর তাদের ঘিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন একদল তরুণ শিক্ষার্থী।

সপ্তাহজুড়ে ক্লাস ও পরীক্ষার ক্লান্তি শেষে ছুটির দিনে অনেকে যখন বিশ্রাম নেন বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হন, তখন গোবিপ্রবির একদল শিক্ষার্থী সময় কাটান সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের সঙ্গে। পড়ালেখার পাশাপাশি চলে গল্প আর খেলাধুলা। শিক্ষার্থীদের পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কাম ফর রোড চাইল্ড’ (সিআরসি)–এর উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে এই ‘হাতেখড়ি স্কুল’।

শিক্ষার্থীদের পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কাম ফর রোড চাইল্ড’ (সিআরসি)


ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বিকেলে বসে এই পাঠশালা। বর্তমানে এখানে প্রায় ৬৫ জন শিশু নিয়মিত পড়াশোনা করছে। তাদের শেখানোর দায়িত্বে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫ জন শিক্ষার্থী। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শিশুদের বই, খাতা, কলম, ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, নিয়মিত পরীক্ষা, মেধার ভিত্তিতে পুরস্কার এবং শিশুদের উৎসাহ বাড়াতে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।

সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাও দেওয়া হয় এই পাঠশালায়। শেখানো হয় প্রয়োজনীয় দোয়া, মাসলা-মাসায়েল ও শিষ্টাচার।

এখানে পড়তে আসা শিশু সুমন বলে, ‘ভাইয়া ও আপুরা আমাদের বড়দের সম্মান করা, সত্যি কথা বলা আর নিয়ম করে পড়তে শেখান। ছুটির দিনে এখানে আসতে আমার খুব ভালো লাগে।’ আরেক শিক্ষার্থী রোজা বলে, ‘এখানে এসে অ, আ, ই, ঈ শিখেছি। এখন নিজের নামও লিখতে পারি।’

গোবিপ্রবির শহীদ মিনারে শিশুদের পড়াচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হালিমা ইসলাম মিফতা এ বছরই সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পড়াতে গেলেই দূর থেকে শিশুরা দৌড়ে আসে। কখনো ফুল কুড়িয়ে এনে হিজাবের পিনে গুঁজে দেয়। এই অবুঝ ভালোবাসা আর প্রশান্তি অন্য কোথাও মেলে না। ওদের জন্য কিছু করতে পেরে নিজেও মানবিক হতে শিখছি।’

সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি রিফাতুল ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ শুরু করলেও এখন এই শিশুরা আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। ছোট ছোট উদ্যোগে শিশুদের মুখে যে হাসি ফোটে, তা-ই আমাদের বড় প্রাপ্তি।’

শিক্ষাদানের পাশাপাশি ঈদে নতুন পোশাক উপহার দেওয়া, রমজানে ইফতারের আয়োজন, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প এবং বৃদ্ধাশ্রমে সহায়তা দেওয়ার মতো বিভিন্ন সামাজিক কাজও করে সংগঠনটি। ২০১৮ সালের ৩ মার্চ গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘সিআরসি’ যাত্রা শুরু করে এবং ২০১৯ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম চলছে।

ছুটির বিকেল এলেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আবার বসবে শিশুদের এই মেলবন্ধন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্নেহ আর ভালোবাসায় সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের প্রতিটি ছুটির দিন হয়ে ওঠে এক নতুন স্বপ্নের সূচনা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে বসছে আলোর পাঠশালা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা অন্যান্য দিনের চেয়ে কম। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকাটিও বেশ ফাঁকা। তবে বিকেল গড়ালেই সেখানে জমে ওঠে ভিন্ন এক আয়োজন। খাতা-কলম হাতে ও হাসিমুখে ছোট ছোট শিশুরা জড়ো হতে শুরু করে। আর তাদের ঘিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন একদল তরুণ শিক্ষার্থী।

সপ্তাহজুড়ে ক্লাস ও পরীক্ষার ক্লান্তি শেষে ছুটির দিনে অনেকে যখন বিশ্রাম নেন বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হন, তখন গোবিপ্রবির একদল শিক্ষার্থী সময় কাটান সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের সঙ্গে। পড়ালেখার পাশাপাশি চলে গল্প আর খেলাধুলা। শিক্ষার্থীদের পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কাম ফর রোড চাইল্ড’ (সিআরসি)–এর উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে এই ‘হাতেখড়ি স্কুল’।

শিক্ষার্থীদের পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কাম ফর রোড চাইল্ড’ (সিআরসি)


ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বিকেলে বসে এই পাঠশালা। বর্তমানে এখানে প্রায় ৬৫ জন শিশু নিয়মিত পড়াশোনা করছে। তাদের শেখানোর দায়িত্বে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫ জন শিক্ষার্থী। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শিশুদের বই, খাতা, কলম, ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, নিয়মিত পরীক্ষা, মেধার ভিত্তিতে পুরস্কার এবং শিশুদের উৎসাহ বাড়াতে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।

সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাও দেওয়া হয় এই পাঠশালায়। শেখানো হয় প্রয়োজনীয় দোয়া, মাসলা-মাসায়েল ও শিষ্টাচার।

এখানে পড়তে আসা শিশু সুমন বলে, ‘ভাইয়া ও আপুরা আমাদের বড়দের সম্মান করা, সত্যি কথা বলা আর নিয়ম করে পড়তে শেখান। ছুটির দিনে এখানে আসতে আমার খুব ভালো লাগে।’ আরেক শিক্ষার্থী রোজা বলে, ‘এখানে এসে অ, আ, ই, ঈ শিখেছি। এখন নিজের নামও লিখতে পারি।’

গোবিপ্রবির শহীদ মিনারে শিশুদের পড়াচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হালিমা ইসলাম মিফতা এ বছরই সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পড়াতে গেলেই দূর থেকে শিশুরা দৌড়ে আসে। কখনো ফুল কুড়িয়ে এনে হিজাবের পিনে গুঁজে দেয়। এই অবুঝ ভালোবাসা আর প্রশান্তি অন্য কোথাও মেলে না। ওদের জন্য কিছু করতে পেরে নিজেও মানবিক হতে শিখছি।’

সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি রিফাতুল ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ শুরু করলেও এখন এই শিশুরা আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। ছোট ছোট উদ্যোগে শিশুদের মুখে যে হাসি ফোটে, তা-ই আমাদের বড় প্রাপ্তি।’

শিক্ষাদানের পাশাপাশি ঈদে নতুন পোশাক উপহার দেওয়া, রমজানে ইফতারের আয়োজন, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প এবং বৃদ্ধাশ্রমে সহায়তা দেওয়ার মতো বিভিন্ন সামাজিক কাজও করে সংগঠনটি। ২০১৮ সালের ৩ মার্চ গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘সিআরসি’ যাত্রা শুরু করে এবং ২০১৯ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম চলছে।

ছুটির বিকেল এলেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আবার বসবে শিশুদের এই মেলবন্ধন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্নেহ আর ভালোবাসায় সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের প্রতিটি ছুটির দিন হয়ে ওঠে এক নতুন স্বপ্নের সূচনা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত