সংবাদ

করতোয়ায় নৌ-ট্র্যাজেডির ৪ বছর: আজও কাঁদেন স্বজনরা


মো. সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড়
মো. সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড়
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

করতোয়ায় নৌ-ট্র্যাজেডির ৪ বছর: আজও কাঁদেন স্বজনরা
শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেয়

২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবীপক্ষের সূচনা তথা মহালয়ার দিনে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নে করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে ঘটেছিল দেশের অন্যতম ভয়াবহ এক নৌকাডুবির ঘটনা। দেখতে দেখতে সেই মর্মস্পর্শী ঘটনার চার বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু আজও মাড়েয়া আউলিয়া ঘাটের বাতাসে যেন ভেসে বেড়ায় স্বজনহারাদের আর্তনাদ।

সেদিন ভোর থেকেই করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল। সবার গন্তব্য ছিল নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক বদেশ্বরী মন্দির। দুপুরে মহালয়ার চণ্ডীপাঠ ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিতে কয়েক শ মানুষ ঘাটে জড়ো হন।

দুপুর ১টার দিকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘাট থেকে কিছুদূর যাওয়ার পরই নৌকাটি দুলতে শুরু করে। একপর্যায়ে মাঝনদীতে উল্টে যায়।

নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনার প্রথম দিনেই ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী কয়েক দিন ধরে চলে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও বড় উদ্ধার অভিযান।

পঞ্চগড় ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলা পর্যন্ত নদী থেকে ভেসে ওঠা লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ৪৭ দিন পর নদী থেকে সর্বশেষ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে এই দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে। নিহতদের মধ্যে সিংহভাগই ছিলেন নারী ও শিশু।

এদিকে, জেলার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডির পরই জোরালো হয়ে ওঠে করতোয়া নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি। নৌ-ট্র্যাজেডির দুই বছর পর ২০২৪ সালে করতোয়া নদীর ওপর পৃথকভাবে নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ এখন দৃশ্যমান।

শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় চলছে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। প্রতিদিন নৌকায় করতোয়া নদী পারাপার করছেন পাঁচ ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


করতোয়ায় নৌ-ট্র্যাজেডির ৪ বছর: আজও কাঁদেন স্বজনরা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবীপক্ষের সূচনা তথা মহালয়ার দিনে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নে করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে ঘটেছিল দেশের অন্যতম ভয়াবহ এক নৌকাডুবির ঘটনা। দেখতে দেখতে সেই মর্মস্পর্শী ঘটনার চার বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু আজও মাড়েয়া আউলিয়া ঘাটের বাতাসে যেন ভেসে বেড়ায় স্বজনহারাদের আর্তনাদ।

সেদিন ভোর থেকেই করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল। সবার গন্তব্য ছিল নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক বদেশ্বরী মন্দির। দুপুরে মহালয়ার চণ্ডীপাঠ ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিতে কয়েক শ মানুষ ঘাটে জড়ো হন।

দুপুর ১টার দিকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘাট থেকে কিছুদূর যাওয়ার পরই নৌকাটি দুলতে শুরু করে। একপর্যায়ে মাঝনদীতে উল্টে যায়।

নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনার প্রথম দিনেই ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী কয়েক দিন ধরে চলে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও বড় উদ্ধার অভিযান।

পঞ্চগড় ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলা পর্যন্ত নদী থেকে ভেসে ওঠা লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ৪৭ দিন পর নদী থেকে সর্বশেষ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে এই দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে। নিহতদের মধ্যে সিংহভাগই ছিলেন নারী ও শিশু।

এদিকে, জেলার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডির পরই জোরালো হয়ে ওঠে করতোয়া নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি। নৌ-ট্র্যাজেডির দুই বছর পর ২০২৪ সালে করতোয়া নদীর ওপর পৃথকভাবে নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ এখন দৃশ্যমান।

শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় চলছে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। প্রতিদিন নৌকায় করতোয়া নদী পারাপার করছেন পাঁচ ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত