মহাকাশে স্যাটেলাইট বা মহাকাশযান পাঠানোর পর রকেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ব্যবহারের প্রযুক্তি মহাকাশ গবেষণায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এতে একদিকে উৎক্ষেপণের খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ঘন ঘন মহাকাশ অভিযান পরিচালনাও সহজ হচ্ছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির এমনই এক সফল প্রদর্শন দেখা গেছে নাসার রোমান স্পেস টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণে।
গত ৩০ আগস্ট স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে করে নাসার পরবর্তী প্রজন্মের রোমান স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠানো হয়। নির্ধারিত কাজ শেষ করার পর রকেটের দুটি বুস্টার সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসে নির্দিষ্ট ল্যান্ডিং জোনে অবতরণ করে।
নির্ভুল অবতরণ দেখলেন দর্শকেরা
ফ্যালকন হেভির দুটি সাইড বুস্টারের একটি অবতরণ করে ল্যান্ডিং জোন ২-এ, অন্যটি নামে ল্যান্ডিং জোন ১-এ। এর মধ্যে একটি বুস্টারের জন্য এটি ছিল প্রথম অভিযান, আর অন্যটি এর আগে দুটি মিশনে ব্যবহৃত হয়েছিল।
ফ্লোরিডার নাসা কেনেডি স্পেস সেন্টারে উপস্থিত দর্শকেরা উৎক্ষেপণের পাশাপাশি বুস্টার দুটির নিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসার দৃশ্য সরাসরি দেখার সুযোগ পান। মহাকাশে পে-লোড পাঠানোর পর রকেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এভাবে ফিরিয়ে আনার সক্ষমতাই পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির অন্যতম বড় সুবিধা।
প্রায় ২৩০ ফুট লম্বা ফ্যালকন হেভি
স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩০ ফুট। নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে এটি প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পেলোড বহন করতে পারে। বড় আকারের মহাকাশযান ও বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম উৎক্ষেপণের জন্য রকেটটি ব্যবহার করা হয়।
উৎক্ষেপণের পর বুস্টারগুলো আলাদা হয়ে নির্দিষ্ট গতিপথে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসে। স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ও অবতরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এগুলো নির্ধারিত এলাকায় নিরাপদে নামানো সম্ভব হয়।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে কমছে খরচ
একটি রকেট একবার ব্যবহার করে ফেলে না দিয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনরায় কাজে লাগানো গেলে প্রতিটি নতুন উৎক্ষেপণের জন্য পুরো রকেট তৈরির প্রয়োজন পড়ে না। ফলে মহাকাশ অভিযানের ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির সময়ও কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
এই প্রযুক্তির ব্যবহার মহাকাশে গবেষণা, স্যাটেলাইট স্থাপন এবং ভবিষ্যতের মানববাহী অভিযানে নিয়মিত উৎক্ষেপণের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়েছে।
‘রকেট ট্যাক্সি’ ও মহাকাশযাত্রা
মহাকাশচারীদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নেওয়া-আসার ক্ষেত্রে স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ও ফ্যালকন ৯ ব্যবস্থাকে অনেক সময় ‘রকেট ট্যাক্সি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। নাসার বাণিজ্যিক ক্রু কর্মসূচির আওতায় এই ব্যবস্থা মহাকাশচারীদের কক্ষপথে পাঠানো এবং পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
২০২০ সালে ক্রু ড্রাগনের মাধ্যমে প্রথম বেসরকারি মানববাহী কক্ষপথ মিশন পরিচালনার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক মানব মহাকাশযাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এরপর পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট ও বাণিজ্যিক মহাকাশ পরিবহনব্যবস্থা মহাকাশ গবেষণাকে আরও নিয়মিত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
রকেটের বুস্টার নিরাপদে ফিরিয়ে এনে আবার ব্যবহার করার প্রযুক্তি তাই শুধু একটি সফল অবতরণের দৃশ্য নয়; ভবিষ্যতে তুলনামূলক কম খরচে আরও বেশি মহাকাশ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মহাকাশে স্যাটেলাইট বা মহাকাশযান পাঠানোর পর রকেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ব্যবহারের প্রযুক্তি মহাকাশ গবেষণায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এতে একদিকে উৎক্ষেপণের খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ঘন ঘন মহাকাশ অভিযান পরিচালনাও সহজ হচ্ছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির এমনই এক সফল প্রদর্শন দেখা গেছে নাসার রোমান স্পেস টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণে।
গত ৩০ আগস্ট স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে করে নাসার পরবর্তী প্রজন্মের রোমান স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠানো হয়। নির্ধারিত কাজ শেষ করার পর রকেটের দুটি বুস্টার সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসে নির্দিষ্ট ল্যান্ডিং জোনে অবতরণ করে।
নির্ভুল অবতরণ দেখলেন দর্শকেরা
ফ্যালকন হেভির দুটি সাইড বুস্টারের একটি অবতরণ করে ল্যান্ডিং জোন ২-এ, অন্যটি নামে ল্যান্ডিং জোন ১-এ। এর মধ্যে একটি বুস্টারের জন্য এটি ছিল প্রথম অভিযান, আর অন্যটি এর আগে দুটি মিশনে ব্যবহৃত হয়েছিল।
ফ্লোরিডার নাসা কেনেডি স্পেস সেন্টারে উপস্থিত দর্শকেরা উৎক্ষেপণের পাশাপাশি বুস্টার দুটির নিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসার দৃশ্য সরাসরি দেখার সুযোগ পান। মহাকাশে পে-লোড পাঠানোর পর রকেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এভাবে ফিরিয়ে আনার সক্ষমতাই পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির অন্যতম বড় সুবিধা।
প্রায় ২৩০ ফুট লম্বা ফ্যালকন হেভি
স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩০ ফুট। নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে এটি প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পেলোড বহন করতে পারে। বড় আকারের মহাকাশযান ও বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম উৎক্ষেপণের জন্য রকেটটি ব্যবহার করা হয়।
উৎক্ষেপণের পর বুস্টারগুলো আলাদা হয়ে নির্দিষ্ট গতিপথে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসে। স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ও অবতরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এগুলো নির্ধারিত এলাকায় নিরাপদে নামানো সম্ভব হয়।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে কমছে খরচ
একটি রকেট একবার ব্যবহার করে ফেলে না দিয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনরায় কাজে লাগানো গেলে প্রতিটি নতুন উৎক্ষেপণের জন্য পুরো রকেট তৈরির প্রয়োজন পড়ে না। ফলে মহাকাশ অভিযানের ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির সময়ও কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
এই প্রযুক্তির ব্যবহার মহাকাশে গবেষণা, স্যাটেলাইট স্থাপন এবং ভবিষ্যতের মানববাহী অভিযানে নিয়মিত উৎক্ষেপণের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়েছে।
‘রকেট ট্যাক্সি’ ও মহাকাশযাত্রা
মহাকাশচারীদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নেওয়া-আসার ক্ষেত্রে স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ও ফ্যালকন ৯ ব্যবস্থাকে অনেক সময় ‘রকেট ট্যাক্সি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। নাসার বাণিজ্যিক ক্রু কর্মসূচির আওতায় এই ব্যবস্থা মহাকাশচারীদের কক্ষপথে পাঠানো এবং পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
২০২০ সালে ক্রু ড্রাগনের মাধ্যমে প্রথম বেসরকারি মানববাহী কক্ষপথ মিশন পরিচালনার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক মানব মহাকাশযাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এরপর পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট ও বাণিজ্যিক মহাকাশ পরিবহনব্যবস্থা মহাকাশ গবেষণাকে আরও নিয়মিত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
রকেটের বুস্টার নিরাপদে ফিরিয়ে এনে আবার ব্যবহার করার প্রযুক্তি তাই শুধু একটি সফল অবতরণের দৃশ্য নয়; ভবিষ্যতে তুলনামূলক কম খরচে আরও বেশি মহাকাশ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন