সংবাদ

এআই কী মানবজাতির জন্য বড় হুমকি ?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

এআই কী মানবজাতির জন্য বড় হুমকি ?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে একটি কঠিন প্রশ্নএই প্রযুক্তি কি একসময় মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে? এআই গবেষকদের একাংশ এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বরং কেউ কেউ মনে করছেন, চলতি দশকের শেষের দিকেই উন্নত এআই থেকে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

২২ সেপ্টেম্বর গবেষক শিক্ষাবিদদের আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংবাদমাধ্যম দ্য কনভারসেশন- প্রকাশিত এক নিবন্ধে মানবজাতির সম্ভাব্য বিপদের পাঁচটি চিত্র তুলে ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের এআই অধ্যাপক টবি ওয়ালশ। তাঁর আলোচনায় এসেছে সুপারইন্টেলিজেন্স, ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ, জৈব অস্ত্র, পারমাণবিক সংঘাত এবং এআইকে কেন্দ্র করে মানুষের নিজেদের ধ্বংসের সম্ভাবনা।

সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইকে বোঝাই কঠিন হতে পারে

মানুষের চেয়ে বহু গুণ বেশি সক্ষম কোনো এআই তৈরি হলে সেটি ঠিক কী করতে পারবে, তা আগেভাগে অনুমান করা কঠিন। এমনকি সেই ক্ষমতা বোঝার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাও মানুষের নাও থাকতে পারে-এমন যুক্তি দেন এআইয়ের অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন গবেষকদের কেউ কেউ।

তবে ওয়ালশ মনে করেন, কথিত সুপারইন্টেলিজেন্স হয়তো এখনো অনেক দূরের বিষয়। বর্তমান এআই মডেল নির্দিষ্ট কিছু কাজে অসাধারণ পারদর্শিতা দেখালেও সব ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে তারা এখনো মানুষের চেয়ে এগিয়ে যায়নি।

তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে কঠিন গণিত সমস্যা সমাধানে এআইয়ের অগ্রগতি নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সবচেয়ে কঠিন হিসেবে বিবেচিত সাতটি গণিত সমস্যার একটি সমাধানে এআইয়ের সাফল্য এবং আরও কয়েকটিতে অগ্রগতির খবর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

ভুল লক্ষ্য পেলে বুদ্ধিমান এআইও বিপজ্জনক হতে পারে

এআইয়ের ঝুঁকি বোঝাতে বহুল আলোচিত একটি উদাহরণ হলোপেপারক্লিপ ম্যাক্সিমাইজার অক্সফোর্ডের দার্শনিক নিক বোস্ট্রমের কল্পিত এই পরিস্থিতিতে একটি সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইকে যত বেশি সম্ভব পেপারক্লিপ তৈরির লক্ষ্য দেওয়া হয়।

এআই যদি সেই লক্ষ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে মানুষের স্বার্থ তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে পেপারক্লিপ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হিসেবে মানুষ থেকে শুরু করে পৃথিবীর অন্যান্য সম্পদ ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে সেটি।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও আছে। অত্যন্ত বুদ্ধিমান হওয়া আর নিজের ইচ্ছামতো বাস্তব জগতের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পাওয়া এক বিষয় নয়। আইন, জনমত, আদালত, অর্থনীতি বাস্তব অবকাঠামোর মতো নানা বাধা রয়েছে। ফলেপেপারক্লিপপরিস্থিতি একটি তাত্ত্বিক উদাহরণ হলেও এর মাধ্যমে ভুল লক্ষ্য নির্ধারণের ঝুঁকিটি বোঝানো হয়।

জৈব অস্ত্র তৈরিতে এআইয়ের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ

আরেকটি আশঙ্কা হলো, উন্নত এআইকে ব্যবহার করে কেউ ভয়ংকর জৈব অস্ত্র তৈরির পথ সহজ করে ফেলতে পারে। এআই ফিউচার্স প্রজেক্টেরএআই ২০২৭পরিস্থিতিতেও এমন একটি সম্ভাব্য পরিণতির কথা উঠে এসেছে।

সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জেনেটিক ভাষা মডেল ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাসের জেনেটিক সিকোয়েন্স তৈরির সক্ষমতা প্রদর্শনের কথা জানিয়েছেন। গবেষকেরা নিজেরা ভাইরাস তৈরি করেননি; বরং ওই সিকোয়েন্স বাণিজ্যিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে সেগুলোর নমুনা তৈরি করে গবেষকদের দেওয়া হয়।

তবে নতুন কোনো ভাইরাস দিয়ে পুরো মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করা সহজ নয়। অত্যন্ত সংক্রামক একই সঙ্গে অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাস তৈরি করা জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারিগুলোর একটি ব্ল্যাক ডেথও চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের প্রাণ নিয়েছিল।

আধুনিক চিকিৎসা স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতির কারণে একই ধরনের রোগের প্রাণঘাতী প্রভাবও আজ তুলনামূলকভাবে কমানো সম্ভব।

পারমাণবিক ব্যবস্থায় এআই ঢুকে পড়লে

পারমাণবিক অস্ত্রের কমান্ড নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় এআইয়ের ভুল সিদ্ধান্ত বা অননুমোদিত প্রবেশ আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। গত কয়েক দশকে ভুল হিসাব, প্রযুক্তিগত ত্রুটি ভুল তথ্যের কারণে বিশ্ব একাধিকবার পারমাণবিক সংঘাতের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

পারমাণবিক ব্যবস্থাগুলো ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করা হলেও সাইবার হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ২০১০ সালে স্টাক্সনেট নামের কম্পিউটার ওয়ার্ম ইরানের পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজে আঘাত হেনেছিল। ধারণা করা হয়, ইউএসবি ডিভাইসের মাধ্যমে সেটি সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল।

এআই সরাসরি কোনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ না করলেও ভুল গোয়েন্দা তথ্য তৈরি বা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সামরিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। আর পারমাণবিক সংঘাত শুরু হলে ক্ষতি শুধু বিস্ফোরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।নিউক্লিয়ার উইন্টার’-এর মতো পরিস্থিতিতে বায়ুমণ্ডলে ধোঁয়া ধুলা ছড়িয়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমে যেতে পারে, যার পরিণতিতে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শেষ পর্যন্ত বিপদ তৈরি করতে পারে মানুষই

টবি ওয়ালশের আলোচনার শেষ পরিস্থিতিটি সরাসরি কোনোবিদ্রোহী এআইকে কেন্দ্র করে নয়। বরং এআইয়ের ব্যাপক প্রভাব কীভাবে মানুষের সমাজকে দুর্বল করে তুলতে পারে, সেটিই এখানে মূল প্রশ্ন।

ধরা যাক, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান হারাল। একই সময়ে এআই-নির্মিত ভুয়া তথ্য তথ্যপরিবেশকে আরও দূষিত করল, রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ল এবং কৃত্রিম সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কও দুর্বল হয়ে গেল।

ধরনের পরিবর্তন একসঙ্গে ঘটতে থাকলে সামাজিক প্রতিষ্ঠান, পারস্পরিক আস্থা সহযোগিতার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তখন এআই সরাসরি মানুষকে ধ্বংস না করেও এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যেখানে মানুষ নিজেরাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা হারাতে শুরু করবে।

ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা মানেই ভবিষ্যদ্বাণী নয়

এই পাঁচটি পরিস্থিতিই মূলত সম্ভাব্য ঝুঁকির চিত্র, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বর্তমান এআই কতদূর যাবে, তার ওপর প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মানুষের সিদ্ধান্ত-সবকিছুর প্রভাব থাকবে।

তাই এআই নিয়ে আলোচনায় শুধু এর সম্ভাবনা নয়, ভুল ব্যবহার অনাকাঙ্ক্ষিত ফল ঠেকানোর ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হবে, সেটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ নিরাপদভাবে ব্যবহার করা হবে-সেই প্রশ্নও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এআই কী মানবজাতির জন্য বড় হুমকি ?

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে একটি কঠিন প্রশ্নএই প্রযুক্তি কি একসময় মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে? এআই গবেষকদের একাংশ এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বরং কেউ কেউ মনে করছেন, চলতি দশকের শেষের দিকেই উন্নত এআই থেকে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

২২ সেপ্টেম্বর গবেষক শিক্ষাবিদদের আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংবাদমাধ্যম দ্য কনভারসেশন- প্রকাশিত এক নিবন্ধে মানবজাতির সম্ভাব্য বিপদের পাঁচটি চিত্র তুলে ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের এআই অধ্যাপক টবি ওয়ালশ। তাঁর আলোচনায় এসেছে সুপারইন্টেলিজেন্স, ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ, জৈব অস্ত্র, পারমাণবিক সংঘাত এবং এআইকে কেন্দ্র করে মানুষের নিজেদের ধ্বংসের সম্ভাবনা।

সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইকে বোঝাই কঠিন হতে পারে

মানুষের চেয়ে বহু গুণ বেশি সক্ষম কোনো এআই তৈরি হলে সেটি ঠিক কী করতে পারবে, তা আগেভাগে অনুমান করা কঠিন। এমনকি সেই ক্ষমতা বোঝার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাও মানুষের নাও থাকতে পারে-এমন যুক্তি দেন এআইয়ের অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন গবেষকদের কেউ কেউ।

তবে ওয়ালশ মনে করেন, কথিত সুপারইন্টেলিজেন্স হয়তো এখনো অনেক দূরের বিষয়। বর্তমান এআই মডেল নির্দিষ্ট কিছু কাজে অসাধারণ পারদর্শিতা দেখালেও সব ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে তারা এখনো মানুষের চেয়ে এগিয়ে যায়নি।

তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে কঠিন গণিত সমস্যা সমাধানে এআইয়ের অগ্রগতি নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সবচেয়ে কঠিন হিসেবে বিবেচিত সাতটি গণিত সমস্যার একটি সমাধানে এআইয়ের সাফল্য এবং আরও কয়েকটিতে অগ্রগতির খবর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

ভুল লক্ষ্য পেলে বুদ্ধিমান এআইও বিপজ্জনক হতে পারে

এআইয়ের ঝুঁকি বোঝাতে বহুল আলোচিত একটি উদাহরণ হলোপেপারক্লিপ ম্যাক্সিমাইজার অক্সফোর্ডের দার্শনিক নিক বোস্ট্রমের কল্পিত এই পরিস্থিতিতে একটি সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইকে যত বেশি সম্ভব পেপারক্লিপ তৈরির লক্ষ্য দেওয়া হয়।

এআই যদি সেই লক্ষ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে মানুষের স্বার্থ তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে পেপারক্লিপ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হিসেবে মানুষ থেকে শুরু করে পৃথিবীর অন্যান্য সম্পদ ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে সেটি।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও আছে। অত্যন্ত বুদ্ধিমান হওয়া আর নিজের ইচ্ছামতো বাস্তব জগতের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পাওয়া এক বিষয় নয়। আইন, জনমত, আদালত, অর্থনীতি বাস্তব অবকাঠামোর মতো নানা বাধা রয়েছে। ফলেপেপারক্লিপপরিস্থিতি একটি তাত্ত্বিক উদাহরণ হলেও এর মাধ্যমে ভুল লক্ষ্য নির্ধারণের ঝুঁকিটি বোঝানো হয়।

জৈব অস্ত্র তৈরিতে এআইয়ের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ

আরেকটি আশঙ্কা হলো, উন্নত এআইকে ব্যবহার করে কেউ ভয়ংকর জৈব অস্ত্র তৈরির পথ সহজ করে ফেলতে পারে। এআই ফিউচার্স প্রজেক্টেরএআই ২০২৭পরিস্থিতিতেও এমন একটি সম্ভাব্য পরিণতির কথা উঠে এসেছে।

সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জেনেটিক ভাষা মডেল ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাসের জেনেটিক সিকোয়েন্স তৈরির সক্ষমতা প্রদর্শনের কথা জানিয়েছেন। গবেষকেরা নিজেরা ভাইরাস তৈরি করেননি; বরং ওই সিকোয়েন্স বাণিজ্যিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে সেগুলোর নমুনা তৈরি করে গবেষকদের দেওয়া হয়।

তবে নতুন কোনো ভাইরাস দিয়ে পুরো মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করা সহজ নয়। অত্যন্ত সংক্রামক একই সঙ্গে অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাস তৈরি করা জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারিগুলোর একটি ব্ল্যাক ডেথও চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের প্রাণ নিয়েছিল।

আধুনিক চিকিৎসা স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতির কারণে একই ধরনের রোগের প্রাণঘাতী প্রভাবও আজ তুলনামূলকভাবে কমানো সম্ভব।

পারমাণবিক ব্যবস্থায় এআই ঢুকে পড়লে

পারমাণবিক অস্ত্রের কমান্ড নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় এআইয়ের ভুল সিদ্ধান্ত বা অননুমোদিত প্রবেশ আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। গত কয়েক দশকে ভুল হিসাব, প্রযুক্তিগত ত্রুটি ভুল তথ্যের কারণে বিশ্ব একাধিকবার পারমাণবিক সংঘাতের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

পারমাণবিক ব্যবস্থাগুলো ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করা হলেও সাইবার হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ২০১০ সালে স্টাক্সনেট নামের কম্পিউটার ওয়ার্ম ইরানের পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজে আঘাত হেনেছিল। ধারণা করা হয়, ইউএসবি ডিভাইসের মাধ্যমে সেটি সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল।

এআই সরাসরি কোনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ না করলেও ভুল গোয়েন্দা তথ্য তৈরি বা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সামরিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। আর পারমাণবিক সংঘাত শুরু হলে ক্ষতি শুধু বিস্ফোরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।নিউক্লিয়ার উইন্টার’-এর মতো পরিস্থিতিতে বায়ুমণ্ডলে ধোঁয়া ধুলা ছড়িয়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমে যেতে পারে, যার পরিণতিতে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শেষ পর্যন্ত বিপদ তৈরি করতে পারে মানুষই

টবি ওয়ালশের আলোচনার শেষ পরিস্থিতিটি সরাসরি কোনোবিদ্রোহী এআইকে কেন্দ্র করে নয়। বরং এআইয়ের ব্যাপক প্রভাব কীভাবে মানুষের সমাজকে দুর্বল করে তুলতে পারে, সেটিই এখানে মূল প্রশ্ন।

ধরা যাক, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান হারাল। একই সময়ে এআই-নির্মিত ভুয়া তথ্য তথ্যপরিবেশকে আরও দূষিত করল, রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ল এবং কৃত্রিম সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কও দুর্বল হয়ে গেল।

ধরনের পরিবর্তন একসঙ্গে ঘটতে থাকলে সামাজিক প্রতিষ্ঠান, পারস্পরিক আস্থা সহযোগিতার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তখন এআই সরাসরি মানুষকে ধ্বংস না করেও এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যেখানে মানুষ নিজেরাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা হারাতে শুরু করবে।

ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা মানেই ভবিষ্যদ্বাণী নয়

এই পাঁচটি পরিস্থিতিই মূলত সম্ভাব্য ঝুঁকির চিত্র, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বর্তমান এআই কতদূর যাবে, তার ওপর প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মানুষের সিদ্ধান্ত-সবকিছুর প্রভাব থাকবে।

তাই এআই নিয়ে আলোচনায় শুধু এর সম্ভাবনা নয়, ভুল ব্যবহার অনাকাঙ্ক্ষিত ফল ঠেকানোর ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হবে, সেটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ নিরাপদভাবে ব্যবহার করা হবে-সেই প্রশ্নও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত