জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, পানি-গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জোটের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, "জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে পরিবহন ব্যয় ও পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। অন্যদিকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক নাগরিক সেবার সংকট মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জনগণ নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।"
সরকারের নীতি ও খরচের খাত নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন আরও বলেন, "সরকার আদানিসহ বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্যে বিদ্যুৎ কিনে সেই বাড়তি মূল্য জনগণের কাঁধে চাপাচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থানসহ অগ্রাধিকারমূলক খাতে অর্থবিনিয়োগ করতে না পারলেও সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয় করে ২৫টি বোয়িং বিমান কিনছে।"
তিনি অভিযোগ করে বলেন, "জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারের কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। উপরন্তু ক্রমাগত বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে একটি গোষ্ঠীকে লাভবান করে যাচ্ছে।"
বাসদ (মাহবুব)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মইনউদ্দিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় এ সমাবেশে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।
বক্তব্যে তারা বলেন, "অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবন আজ গভীর সংকটের মুখে। দেশের বেহাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ বাড়ছে। হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, হত্যা, ধর্ষণ, শিশুনির্যাতন, সন্ত্রাস ও নানা ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার ভূমিকা না রাখায় চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।"
সরকারের কাজের সমালোচনা করে বক্তারা আরও যোগ করেন, "একদিকে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, যা সরকারের গুরুতর ব্যর্থতা। জনগণের মৌলিক প্রয়োজন, নাগরিক অধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মানুষের উপর একের পর এক সংকটের বোঝা চাপানো বন্ধ করতে হবে।"
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদ (মার্কসবাদী)-র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক রজত হুদা, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, মজুতদারি ও বাজার কারসাজি বন্ধ, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির স্থায়ী সমাধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে কার্যকর পরিবেশ তৈরির দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, পানি-গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জোটের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, "জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে পরিবহন ব্যয় ও পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। অন্যদিকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক নাগরিক সেবার সংকট মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জনগণ নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।"
সরকারের নীতি ও খরচের খাত নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন আরও বলেন, "সরকার আদানিসহ বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্যে বিদ্যুৎ কিনে সেই বাড়তি মূল্য জনগণের কাঁধে চাপাচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থানসহ অগ্রাধিকারমূলক খাতে অর্থবিনিয়োগ করতে না পারলেও সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয় করে ২৫টি বোয়িং বিমান কিনছে।"
তিনি অভিযোগ করে বলেন, "জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারের কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। উপরন্তু ক্রমাগত বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে একটি গোষ্ঠীকে লাভবান করে যাচ্ছে।"
বাসদ (মাহবুব)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মইনউদ্দিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় এ সমাবেশে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।
বক্তব্যে তারা বলেন, "অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবন আজ গভীর সংকটের মুখে। দেশের বেহাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ বাড়ছে। হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, হত্যা, ধর্ষণ, শিশুনির্যাতন, সন্ত্রাস ও নানা ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার ভূমিকা না রাখায় চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।"
সরকারের কাজের সমালোচনা করে বক্তারা আরও যোগ করেন, "একদিকে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, যা সরকারের গুরুতর ব্যর্থতা। জনগণের মৌলিক প্রয়োজন, নাগরিক অধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মানুষের উপর একের পর এক সংকটের বোঝা চাপানো বন্ধ করতে হবে।"
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদ (মার্কসবাদী)-র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক রজত হুদা, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, মজুতদারি ও বাজার কারসাজি বন্ধ, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির স্থায়ী সমাধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে কার্যকর পরিবেশ তৈরির দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

আপনার মতামত লিখুন