সংবাদ

রাজবন্দী: একসময়ের সহযোদ্ধারা কি চেয়ে চেয়ে দেখবে?


আনোয়ারুল হক
আনোয়ারুল হক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ এএম

রাজবন্দী: একসময়ের সহযোদ্ধারা কি চেয়ে চেয়ে দেখবে?
বাংলাদেশে প্রায় সব সরকারের আমলেই কম আর বেশি রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক, গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অপসংস্কৃতি চলে আসছে

রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ বা সংযোগ না থাকায় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে স্বল্প সময়ের জন্য সামাজিক অনুষ্ঠানাদি ছাড়া খুব একটা দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় পর বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সাথে একান্তে গল্প করার সুযোগ হয়েছিল। সাইফুল হকের কলেজ জীবন খুলনায়, দৌলতপুর বি.এল. কলেজে। আমারও তাই। উপরন্তু তিনি আমার ছোট ভাইয়ের বন্ধু ও সহপাঠী ছিলেন। আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি প্রথমে ছাত্র ঐক্য ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পরে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র ঐক্য ফোরাম এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে ছিল। সাইফুল হক তখন ছাত্র আন্দোলন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিলেও সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেই কর্মযজ্ঞে তার অনানুষ্ঠানিক উপস্থিতি থাকতো। ছোট ভাইয়ের বন্ধু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তার সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিল।

যাহোক, সাইফুল হককে একান্তে পেয়ে নানা বিষয় আলোচনার মাঝে আমার মনে যে প্রশ্ন অনেকদিন যাবৎ ঘুরপাক খাচ্ছে, তাকে সে প্রশ্নটা করলাম। বললাম, আপনারা বামপন্থীরা, বিশেষত আপনাদের দল, কেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, যার সাথে দীর্ঘকাল একসাথে দল করেছেন, পথ হেঁটেছেন, সেই মেনন ভাইয়ের মুক্তি দাবি করছেন না? অন্তত জামিনের অধিকার তো তার রয়েছে? তিনি তো রাজনৈতিক বন্দী। সাইফুল হক আমার প্রশ্নে বিব্রত বোধ করলেন। তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বললেন, ‘আপনার প্রস্তাব আমাদের পার্টি ফোরামের পরবর্তী সভায় উত্থাপন করবো’। বিএনপি নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের সময়ে মেনন ভাইদের সাথে ছিলেন। ছাত্র মৈত্রীর নেতা ও আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। তার এবং আমার স্কুল ও কলেজ জীবন খুলনা সেন্ট যোসেফ’স স্কুল এবং বিএল কলেজ। তিনি বিএল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার সাথেও সাম্প্রতিক সময়ে স্বল্প সময়ের জন‍্য একদিন দেখা হয়েছিলো। তাকেও অনুরোধ করলাম মেনন ভাইয়ের জামিনের জন‍্য কিছু করেন। যদি তাও না পারেন এই বয়সের প্রবীণ ও অসুস্থ রাজনীতিককে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার সুযোগ নেওয়ার ব‍্যবস্থাটা করে দিন। দু’মাসেরও বেশী সময় পার হয়েছে। কিছুই তো হলো না।

ইউনূসের শিশু-কিশোর-তরুণ বাহিনী প্রবীণ রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেননের রাজনৈতিক জীবনের ইতিকথা নাও জানতে পারে। কিন্তু এদেশের রাজনৈতিক দলসমূহ, নাগরিক সমাজ, এমনকি শাসক দল বিএনপির নীতি নির্ধারকদের কারোরই তো অজানা থাকার কথা নয়। রাশেদ খান মেনন ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। তিনি ১৯৬৩-৬৪ বর্ষে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন এবং ৬৪-৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কুখ্যাত মোনেম খানের আগমনের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন ও পরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ঐ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলে জেল থেকে এম.এ. পরীক্ষা দেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সংগঠনেও তিনি জেল অভ‍্যন্তরে থেকে এবং মুক্তি লাভের পরেও ভূমিকা রাখেন। তিনি প্রথাগত চীনপন্থী রাজনীতি পরিত্যাগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে মেনন অসংখ্যবার কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৬২ সালে নিরাপত্তা আইনে প্রথম কারাবন্দি হওয়ার পর ’৬৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন মেয়াদে নিরাপত্তা আইন, দেশরক্ষা আইন ও বিভিন্ন মামলায় কারাবরণ করেন। ৭০ সালের এক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইয়াহিয়া খানের সামরিক সরকার আমলে তার অনুপস্থিতিতে তাকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও সম্পত্তির ষাট ভাগ বাজেয়াপ্তের দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছিল। স্বাধীন দেশে সামরিক শাসনবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং এ সময়েও কারারুদ্ধ হয়েছিলেন।

রাশেদ খান মেনন দেশের বাম আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ও তার দলের বিভক্তির ঝুঁকি নিয়ে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে শরিক হন। ভুল হোক, শুদ্ধ হোক, এটা তার ও দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তকে ভুল, সুবিধাবাদী, পদস্খলন নানা ভাষায় আক্রমণ করা যেতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই এটা ফৌজদারি অপরাধ নয়। আর ২০২৪ সালের মন্ত্রিসভায়ও তিনি ছিলেন না, সরকারের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল না। তবে সংসদীয় রাজনীতির মোহ তাকে পেয়ে বসেছিল। শেখ হাসিনা তাকে ২০২৪-এর নির্বাচনে জোট প্রার্থী করতে চাচ্ছিলেন না। তার সামনে সহজ সুযোগ এসেছিল, বিতর্কিত নির্বাচন থেকে দূরে থাকার। তার বয়স, শরীর, স্বাস্থ্যও কিন্তু একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অনুকূল ছিল না। জোট রাজনীতিতে অনেক সময় অপছন্দের বিষয়ও মেনে নিতে হয়। কিন্তু অপছন্দ থেকে দূরে থাকার নিশ্চিত সুযোগ তিনি হেলায় হারালেন। বরং অনেক অনুনয়-বিনয় করে নিজের ও দলের মর্যাদা খাটো করে নির্বাচনের টিকেট নিলেন। এসবই রাজনৈতিক বিচ্যুতি হতে পারে, ফৌজদারি অপরাধ নয়।

জুলাই আন্দোলনকে সমর্থন করা মানে যেমন বেহেশতের টিকেট নিশ্চিত করা নয়, তেমনি এ আন্দোলন নিয়ে বা আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে দ্বিমত বা রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত থাকলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। মেনন ভাই টকশোগুলোতে ছাত্রদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি, চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিরোধিতা করেছেন। এটাও তো কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামাত ও জঙ্গিবাদের কঠোর সমালোচনা করতেন — এটাও তো ফৌজদারি অপরাধ নয়। আর ইউনূস থেকে শুরু করে জামাত, এনসিপি এবং আমরা সাধারণ নাগরিক সবাই জানি ও বুঝি যে তার নামে যে খুনের মামলাগুলি দেয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হাস্যকরও বটে।

আওয়ামী শাসনামলে তাদের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটকে নিষ্ক্রিয় রেখে বিতর্কিত নির্বাচনের সময়গুলোতে এবং বিরোধী আন্দোলনের সময়ে সক্রিয় করা হতো। জুলাই আন্দোলনের সময়েও কিছুটা সক্রিয় করা হয়। তবে মিডিয়াতে বিরোধী দল ও জামায়াত-শিবিরকে সমালোচনা করা ছাড়া জোট নেতাদের বিশেষ করণীয় ছিল না। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই বিকেলে গণভবনে ১৪ দলের বৈঠক ডাকেন। প্রবীণ রাজনীতিক মেনন ভাই ততদিনে পরিণতি বুঝে গেছেন। আমার জানামতে তিনি ঐ সভায় যেতে আগ্রহী ছিলেন না। শরীর ভালো নেই, বাইরে রাস্তার অবস্থাও ভালো নয় — এ যুক্তি দিয়ে এড়িয়ে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আর যেতে মন না চাইলেও এত দীর্ঘ সময় শাসক দলের সঙ্গে থেকে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরে ঐ বিপদের সময়ে না যাওয়াটাও মানায় না।

সভার পরে টেলিভিশনের সংবাদে আমরা শুনলাম, ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াত ও শিবিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একপাশে মেনন ভাই ও অন্য পাশে ইনু ভাইকে রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ ঘোষণা দিলেন। সবার মনে প্রশ্ন জাগলো, ১৪ দল জামাত-শিবিরকে কিভাবে নিষিদ্ধ করে? তারা প্রস্তাব করতে পারে বা সরকারকে সুপারিশ করতে পারে। আর এত বছর পর এখন কেন এই সিদ্ধান্ত! যাহোক, দুই দিন ১৪ দলের নামে প্রচার করে ১ আগস্ট জামাত-শিবির নিষিদ্ধের সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়, যা কার্যত বুমেরাং হয়। কারণ ইতোমধ্যে পর্দার অন্তরালের খেলায় শেখ হাসিনা বা সরকার ব্যাকফুটে চলে যায়। ফলে নিষিদ্ধের ঘোষণায় জামাত-শিবির আরও শক্তিশালী ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

সরকার পতনের পরে ইউনূস আমলের শুরুতেই রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দুজনকেই একাধিক খুনের মামলার আসামি করা হয়। পরবর্তীতে জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলছে। ইনু ভাইকে তো ইতিমধ্যে সাজাও দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে তারা আজ বন্দী।

মেনন ভাই, ইনু ভাইয়ের কথা আলাদাভাবে লিখলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে, বিশেষত সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র কর্মী হিসেবে তাদের সাথে সখ্য গড়ে উঠেছিল বলে। অবশ্য মেনন ভাইয়ের সাথে আরও আগে থেকে। আমার স্কুল-কলেজ জীবনের কিছু বন্ধু বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী ছিলেন। খুলনায় তৎকালীন ‘মেনন গ্রুপের’ যোগাযোগ ও আড্ডার জায়গা ছিলো ‘তৃপ্তি নিলয়’। আর পাশেই ‘ইস্টার্ন প্রেস’ ছিলো ‘মতিয়া গ্রুপের’ যোগাযোগ কেন্দ্র। আমি প্রায়ই তৃপ্তি নিলয়ে যেতাম ‘দেশব্রতী’ পত্রিকার খোঁজে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আমার ছোট চাচা লিয়াকত হোসেন ভাসানী ন‍্যাপের খুলনার নেতা হওয়ায় তৃপ্তি নিলয়ের আড্ডার সবাই আমাকে বিশেষ স্নেহের সঙ্গে দেখতেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা আসার পর আমি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সাথে ওদের পার্টি অফিসে যেতাম। সেখানেই মেনন ভাইয়ের সাথে পরিচয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর হল ছাড়তে বাধ্য হলে আমি বেশকিছু দিন শহীদুল্লাহ হলে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃস্থানীয় ও গণসংগীত শিল্পী প্রয়াত ফকির আলমগীর এবং আমার বন্ধু আব্দুল্লাহ হিল বাকির রুমে থাকতাম। তখনও ওদের সাথে মেনন ভাইয়ের কাছে যেতাম। বিউটি ভাবী, মেনন ভাইয়ের আজিমপুরের আবাস স্থলেও আমি কয়েকবার গিয়েছি। মস্কোতেও বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি অনুষ্ঠানে এবং প‍্যাট্রিস লুবুম্বা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমাবেশে মেনন ভাইয়ের সাথে একই মঞ্চে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়েছে। এরপর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময়ে তো অসংখ্যবার মেনন ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে।

রাজনীতিক হাসানুল হক ইনু নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রলীগের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ১৯৬৯ এর গনঅভ‍্যুত্থানে অংশ নেন। রাজনীতির ঝড়ো হাওয়ায় নিজের খেলোয়াড়ি জীবন এবং পেশাদার প্রকৌশলী হওয়ার পারিবারিক আকাঙ্ক্ষা ত‍্যাগ করে রাজনীতিতেই বাঁধা পড়েন। আর ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের এই রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (গোলরক্ষক ) রাজনীতির মাঠে সবসময় আক্রমণভাগে খেলতে পছন্দ করতেন। ইনু ভাইয়ের সাথেও সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু সেরকম ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠেনি। ইনু ভাইরা আমাকে নরমপন্থী ছাত্র নেতা মনে করতেন। ওনাদের ছাত্র সংগঠনের সাথে আমাদের আন্দোলনের গতিপথ, কৌশল ও কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক লেগেই থাকতো এবং এক পর্যায়ে হলে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের সংঘাতও হয়েছিল। সে সংঘাতে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ-বহির্ভূত ২/১টি সংগঠনও তাদের পক্ষ নিয়ে মিলিতভাবে আমাদের শান্তিপূর্ণ এক মিছিলে আক্রমণ করলে, গুলি বর্ষণ করলে আমাদের এক কর্মী নিহত হয়। সে কারণে ইনু ভাইরা কোনো দিন দুঃখ প্রকাশও করেনি। এর প্রতিক্রিয়ায় আমাদের কিছু উত্তেজিত কর্মী শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ইনু ভাইকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় আমরা ও রাজনৈতিক নেতারা দ্রুত জাসদ অফিসে যেয়ে দুঃখ প্রকাশ করি। যা হোক, এরপরে তো আমি ছাত্র আন্দোলন থেকে বিদায় নেই।

তারও ছয় বছর পরে আমি চাকরিতে যোগদান করার ৫/৬ মাসের মধ্যেই ইনু ভাইয়ের সাথে দেখা আমার কর্মস্থলে। উনি ঐ একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওনাদের এক প্রাক্তন সহকর্মী ও প্রাক্তন সংসদ সদস্যের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। আমাকে দেখে হাসিমুখে বললেন, আপনি এখানে কী করেন? আমি বললাম, আমি তো এই প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দিয়েছি। ইনু ভাইয়ের মুখটা মলিন হয়ে গেলো এবং এক দৃষ্টিতে আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে হতাশার সুরে বললেন, ‘আপনারা এভাবে রাজনীতি থেকে সরে গেলে আমরা আর কিভাবে এগোবো! সমস্যা থাকলে তো আমাদের সাথেও আলাপ করতে পারতেন। আমরাও তো পর নই।’ এর পরে এ পর্যন্ত আর কখনো ইনু ভাইয়ের সাথে দেখা হয়নি। কিন্তু সেদিনের তার চাহনির মাঝে যে আকুতি — যাতে রাজনীতি ছেড়ে না যাই, আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রতি তার যে সম্মানবোধ —তা আজও ভুলি নি। আমি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসায় আমার এক সহোদর আর বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু ছাড়া আর কেউ এরকম প্রতিক্রিয়া অন্তত আমার সামনে প্রকাশ করেন নি। ইতিপূর্বে জিয়া আমলে হাসানুল হক ইনু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেলেও সাড়ে চার বছরের মধ্যেই মুক্তি পান। কারাবন্দী কিংবা আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হওয়া আরো অনেকের সাথেই তো রয়েছে রাজনৈতিক সংগ্রামের নানা স্মৃতি যা স্বল্প পরিসরের এ লেখায় উল্লেখ করা সম্ভব হলো না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে উল্লেখ করেছে, ‘হাসানুল হক ইনু নিজে কাউকে হত্যা করেছেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব বা অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করেননি।’ রায়ে বলা হয়েছে, ‘ইনুর উপস্থিতিতে কোনো ফৌজদারি অপরাধ (ক্রিমিনাল অফেন্স) ঘটেনি’। তাহলে আশি ছুঁইছুঁই বছরের মুক্তিযোদ্ধা ইনুকে কেনো সাজা? তিনি রাজনৈতিকভাবে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচির বিরোধী ছিলেন এবং কঠোরভাবে তার সমালোচনা করতেন। আর জামায়াত ইসলামকে নিষিদ্ধ করার দাবি তো দেশের সংবিধানই তাকে দিয়ে রেখেছে। কী আছে আমাদের সংবিধানে? এটাই আছে যে, মুক্তিযুদ্ধ হলো ‘একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের সহযোগী জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, রাজাকার, আলবদর এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ’। তাই মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনু হানাদার বাহিনীর সহযোগীদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি করতেই পারেন। তবে কোটা-বিরোধী ন্যায্য আন্দোলনের সময়ে এ দাবি উত্থাপন কতটা যুক্তিযুক্ত ছিলো, সে আলোচনা ভিন্ন। পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে এটাই মনে হয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই তাকে দণ্ড দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে তো দীর্ঘকাল যাবত ‘রাজবন্দী’ কথাটার কোনো অস্তিত্ব নেই। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের শাসনকালে রাজনৈতিক কারণে যাদের আটক করা হতো, তাদেরকে কারাগারে রাজবন্দী হিসেবে পৃথক কার্ড ও মর্যাদা দেয়া হত। কিন্তু বাংলাদেশে প্রায় সব সরকারের আমলেই কম আর বেশি রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক, গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অপসংস্কৃতি চলে আসছে। জুলাইয়ের গল্পে তো বলা হয়েছিলো এ ধারার অবসান হবে। কিন্তু হলো কই? একই ধারা চলছে ভিন্ন রূপে, ভিন্ন ঢঙে। কাউকে ‘দোসর’ আখ্যায়িত করার কোনো রকম সুযোগ থাকলেই, তার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে খুনের মামলা।

‘রাজবন্দীর চিঠি’ গল্পের এক জায়গায় কবি নজরুল বন্দী জীবনের পরিস্থিতি কবিতা আকারে ব্যাখ্যা করে লিখেছেন: ‘অপমান কেনা শুধু! প্রাণ দিলে পায়ে দলে যাবে তোর প্রাণ! / শুধু অনাদর শুধু অবহেলা শুধু অপমান! / ভালোবাসা? সে শুধু কথার কথা রে!’ আমার মনে প্রায়শই প্রশ্ন জাগে, শুধু সাইফুল হকের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নয়, সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন কেন রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু সহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবি করছে না। তারা কি মেনন ভাই ও ইনু ভাইকে খুনী মনে করেন? নিশ্চয়ই নয়। তাহলে কেনো ‘শুধু অনাদর শুধু অবহেলা শুধু অপমান!’। কেনো দীর্ঘ সময়ের রাজপথের সাথীদের কাছে ‘ ভালোবাসা? — সে শুধু কথার কথা রে!’

রাজনৈতিক ভুলের শাস্তি তো রাজনৈতিকভাবে হয়। ব্যক্তিগত বা দলগত নৈতিক দায়ের শাস্তিও নিশ্চয়ই পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা খুনের মামলার আসামি সাজিয়ে দেয়া যায় না। এক সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতাদের, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের বছরের পর বছর মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হবে আর শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকায় একসময়ের সহযোদ্ধারা চেয়ে চেয়ে দেখবে? অনেক সময় পার হয়েছে, বাম গণতান্ত্রিক শক্তি আওয়াজ তুলুক — রাজবন্দীদের মুক্তি চাই। মুক্তি চাই।

জানতে পারলাম, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের উপর প্রথমে যুবদল মব হামলা করেছে এবং পরে পুলিশ এসে হামলাকারীদের সাথে মিলিতভাবে একে একে প্রতিনিধিদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের অপরাধ তারা ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়েছেন। শাসকদলের প্ল্যানে তো জয়বাংলা শ্লোগান নিষিদ্ধের কথা শোনা যায়নি। নাকি ‘জয় বাংলা’ শুধুমাত্র ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের’ জন‍্য বরাদ্দ! আর কেউ উচ্চারণ করতে পারবে না। কি জানি কি প্ল্যান!

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাজবন্দী: একসময়ের সহযোদ্ধারা কি চেয়ে চেয়ে দেখবে?

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ বা সংযোগ না থাকায় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে স্বল্প সময়ের জন্য সামাজিক অনুষ্ঠানাদি ছাড়া খুব একটা দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় পর বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সাথে একান্তে গল্প করার সুযোগ হয়েছিল। সাইফুল হকের কলেজ জীবন খুলনায়, দৌলতপুর বি.এল. কলেজে। আমারও তাই। উপরন্তু তিনি আমার ছোট ভাইয়ের বন্ধু ও সহপাঠী ছিলেন। আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি প্রথমে ছাত্র ঐক্য ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পরে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র ঐক্য ফোরাম এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে ছিল। সাইফুল হক তখন ছাত্র আন্দোলন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিলেও সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেই কর্মযজ্ঞে তার অনানুষ্ঠানিক উপস্থিতি থাকতো। ছোট ভাইয়ের বন্ধু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তার সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিল।

যাহোক, সাইফুল হককে একান্তে পেয়ে নানা বিষয় আলোচনার মাঝে আমার মনে যে প্রশ্ন অনেকদিন যাবৎ ঘুরপাক খাচ্ছে, তাকে সে প্রশ্নটা করলাম। বললাম, আপনারা বামপন্থীরা, বিশেষত আপনাদের দল, কেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, যার সাথে দীর্ঘকাল একসাথে দল করেছেন, পথ হেঁটেছেন, সেই মেনন ভাইয়ের মুক্তি দাবি করছেন না? অন্তত জামিনের অধিকার তো তার রয়েছে? তিনি তো রাজনৈতিক বন্দী। সাইফুল হক আমার প্রশ্নে বিব্রত বোধ করলেন। তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বললেন, ‘আপনার প্রস্তাব আমাদের পার্টি ফোরামের পরবর্তী সভায় উত্থাপন করবো’। বিএনপি নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের সময়ে মেনন ভাইদের সাথে ছিলেন। ছাত্র মৈত্রীর নেতা ও আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। তার এবং আমার স্কুল ও কলেজ জীবন খুলনা সেন্ট যোসেফ’স স্কুল এবং বিএল কলেজ। তিনি বিএল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার সাথেও সাম্প্রতিক সময়ে স্বল্প সময়ের জন‍্য একদিন দেখা হয়েছিলো। তাকেও অনুরোধ করলাম মেনন ভাইয়ের জামিনের জন‍্য কিছু করেন। যদি তাও না পারেন এই বয়সের প্রবীণ ও অসুস্থ রাজনীতিককে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার সুযোগ নেওয়ার ব‍্যবস্থাটা করে দিন। দু’মাসেরও বেশী সময় পার হয়েছে। কিছুই তো হলো না।

ইউনূসের শিশু-কিশোর-তরুণ বাহিনী প্রবীণ রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেননের রাজনৈতিক জীবনের ইতিকথা নাও জানতে পারে। কিন্তু এদেশের রাজনৈতিক দলসমূহ, নাগরিক সমাজ, এমনকি শাসক দল বিএনপির নীতি নির্ধারকদের কারোরই তো অজানা থাকার কথা নয়। রাশেদ খান মেনন ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। তিনি ১৯৬৩-৬৪ বর্ষে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন এবং ৬৪-৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কুখ্যাত মোনেম খানের আগমনের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন ও পরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ঐ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলে জেল থেকে এম.এ. পরীক্ষা দেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সংগঠনেও তিনি জেল অভ‍্যন্তরে থেকে এবং মুক্তি লাভের পরেও ভূমিকা রাখেন। তিনি প্রথাগত চীনপন্থী রাজনীতি পরিত্যাগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে মেনন অসংখ্যবার কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৬২ সালে নিরাপত্তা আইনে প্রথম কারাবন্দি হওয়ার পর ’৬৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন মেয়াদে নিরাপত্তা আইন, দেশরক্ষা আইন ও বিভিন্ন মামলায় কারাবরণ করেন। ৭০ সালের এক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইয়াহিয়া খানের সামরিক সরকার আমলে তার অনুপস্থিতিতে তাকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও সম্পত্তির ষাট ভাগ বাজেয়াপ্তের দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছিল। স্বাধীন দেশে সামরিক শাসনবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং এ সময়েও কারারুদ্ধ হয়েছিলেন।

রাশেদ খান মেনন দেশের বাম আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ও তার দলের বিভক্তির ঝুঁকি নিয়ে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে শরিক হন। ভুল হোক, শুদ্ধ হোক, এটা তার ও দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তকে ভুল, সুবিধাবাদী, পদস্খলন নানা ভাষায় আক্রমণ করা যেতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই এটা ফৌজদারি অপরাধ নয়। আর ২০২৪ সালের মন্ত্রিসভায়ও তিনি ছিলেন না, সরকারের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল না। তবে সংসদীয় রাজনীতির মোহ তাকে পেয়ে বসেছিল। শেখ হাসিনা তাকে ২০২৪-এর নির্বাচনে জোট প্রার্থী করতে চাচ্ছিলেন না। তার সামনে সহজ সুযোগ এসেছিল, বিতর্কিত নির্বাচন থেকে দূরে থাকার। তার বয়স, শরীর, স্বাস্থ্যও কিন্তু একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অনুকূল ছিল না। জোট রাজনীতিতে অনেক সময় অপছন্দের বিষয়ও মেনে নিতে হয়। কিন্তু অপছন্দ থেকে দূরে থাকার নিশ্চিত সুযোগ তিনি হেলায় হারালেন। বরং অনেক অনুনয়-বিনয় করে নিজের ও দলের মর্যাদা খাটো করে নির্বাচনের টিকেট নিলেন। এসবই রাজনৈতিক বিচ্যুতি হতে পারে, ফৌজদারি অপরাধ নয়।

জুলাই আন্দোলনকে সমর্থন করা মানে যেমন বেহেশতের টিকেট নিশ্চিত করা নয়, তেমনি এ আন্দোলন নিয়ে বা আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে দ্বিমত বা রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত থাকলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। মেনন ভাই টকশোগুলোতে ছাত্রদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি, চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিরোধিতা করেছেন। এটাও তো কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামাত ও জঙ্গিবাদের কঠোর সমালোচনা করতেন — এটাও তো ফৌজদারি অপরাধ নয়। আর ইউনূস থেকে শুরু করে জামাত, এনসিপি এবং আমরা সাধারণ নাগরিক সবাই জানি ও বুঝি যে তার নামে যে খুনের মামলাগুলি দেয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হাস্যকরও বটে।

আওয়ামী শাসনামলে তাদের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটকে নিষ্ক্রিয় রেখে বিতর্কিত নির্বাচনের সময়গুলোতে এবং বিরোধী আন্দোলনের সময়ে সক্রিয় করা হতো। জুলাই আন্দোলনের সময়েও কিছুটা সক্রিয় করা হয়। তবে মিডিয়াতে বিরোধী দল ও জামায়াত-শিবিরকে সমালোচনা করা ছাড়া জোট নেতাদের বিশেষ করণীয় ছিল না। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই বিকেলে গণভবনে ১৪ দলের বৈঠক ডাকেন। প্রবীণ রাজনীতিক মেনন ভাই ততদিনে পরিণতি বুঝে গেছেন। আমার জানামতে তিনি ঐ সভায় যেতে আগ্রহী ছিলেন না। শরীর ভালো নেই, বাইরে রাস্তার অবস্থাও ভালো নয় — এ যুক্তি দিয়ে এড়িয়ে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আর যেতে মন না চাইলেও এত দীর্ঘ সময় শাসক দলের সঙ্গে থেকে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরে ঐ বিপদের সময়ে না যাওয়াটাও মানায় না।

সভার পরে টেলিভিশনের সংবাদে আমরা শুনলাম, ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াত ও শিবিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একপাশে মেনন ভাই ও অন্য পাশে ইনু ভাইকে রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ ঘোষণা দিলেন। সবার মনে প্রশ্ন জাগলো, ১৪ দল জামাত-শিবিরকে কিভাবে নিষিদ্ধ করে? তারা প্রস্তাব করতে পারে বা সরকারকে সুপারিশ করতে পারে। আর এত বছর পর এখন কেন এই সিদ্ধান্ত! যাহোক, দুই দিন ১৪ দলের নামে প্রচার করে ১ আগস্ট জামাত-শিবির নিষিদ্ধের সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়, যা কার্যত বুমেরাং হয়। কারণ ইতোমধ্যে পর্দার অন্তরালের খেলায় শেখ হাসিনা বা সরকার ব্যাকফুটে চলে যায়। ফলে নিষিদ্ধের ঘোষণায় জামাত-শিবির আরও শক্তিশালী ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

সরকার পতনের পরে ইউনূস আমলের শুরুতেই রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দুজনকেই একাধিক খুনের মামলার আসামি করা হয়। পরবর্তীতে জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলছে। ইনু ভাইকে তো ইতিমধ্যে সাজাও দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে তারা আজ বন্দী।

মেনন ভাই, ইনু ভাইয়ের কথা আলাদাভাবে লিখলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে, বিশেষত সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র কর্মী হিসেবে তাদের সাথে সখ্য গড়ে উঠেছিল বলে। অবশ্য মেনন ভাইয়ের সাথে আরও আগে থেকে। আমার স্কুল-কলেজ জীবনের কিছু বন্ধু বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী ছিলেন। খুলনায় তৎকালীন ‘মেনন গ্রুপের’ যোগাযোগ ও আড্ডার জায়গা ছিলো ‘তৃপ্তি নিলয়’। আর পাশেই ‘ইস্টার্ন প্রেস’ ছিলো ‘মতিয়া গ্রুপের’ যোগাযোগ কেন্দ্র। আমি প্রায়ই তৃপ্তি নিলয়ে যেতাম ‘দেশব্রতী’ পত্রিকার খোঁজে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আমার ছোট চাচা লিয়াকত হোসেন ভাসানী ন‍্যাপের খুলনার নেতা হওয়ায় তৃপ্তি নিলয়ের আড্ডার সবাই আমাকে বিশেষ স্নেহের সঙ্গে দেখতেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা আসার পর আমি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সাথে ওদের পার্টি অফিসে যেতাম। সেখানেই মেনন ভাইয়ের সাথে পরিচয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর হল ছাড়তে বাধ্য হলে আমি বেশকিছু দিন শহীদুল্লাহ হলে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃস্থানীয় ও গণসংগীত শিল্পী প্রয়াত ফকির আলমগীর এবং আমার বন্ধু আব্দুল্লাহ হিল বাকির রুমে থাকতাম। তখনও ওদের সাথে মেনন ভাইয়ের কাছে যেতাম। বিউটি ভাবী, মেনন ভাইয়ের আজিমপুরের আবাস স্থলেও আমি কয়েকবার গিয়েছি। মস্কোতেও বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি অনুষ্ঠানে এবং প‍্যাট্রিস লুবুম্বা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমাবেশে মেনন ভাইয়ের সাথে একই মঞ্চে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়েছে। এরপর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময়ে তো অসংখ্যবার মেনন ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে।

রাজনীতিক হাসানুল হক ইনু নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রলীগের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ১৯৬৯ এর গনঅভ‍্যুত্থানে অংশ নেন। রাজনীতির ঝড়ো হাওয়ায় নিজের খেলোয়াড়ি জীবন এবং পেশাদার প্রকৌশলী হওয়ার পারিবারিক আকাঙ্ক্ষা ত‍্যাগ করে রাজনীতিতেই বাঁধা পড়েন। আর ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের এই রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (গোলরক্ষক ) রাজনীতির মাঠে সবসময় আক্রমণভাগে খেলতে পছন্দ করতেন। ইনু ভাইয়ের সাথেও সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু সেরকম ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠেনি। ইনু ভাইরা আমাকে নরমপন্থী ছাত্র নেতা মনে করতেন। ওনাদের ছাত্র সংগঠনের সাথে আমাদের আন্দোলনের গতিপথ, কৌশল ও কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক লেগেই থাকতো এবং এক পর্যায়ে হলে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের সংঘাতও হয়েছিল। সে সংঘাতে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ-বহির্ভূত ২/১টি সংগঠনও তাদের পক্ষ নিয়ে মিলিতভাবে আমাদের শান্তিপূর্ণ এক মিছিলে আক্রমণ করলে, গুলি বর্ষণ করলে আমাদের এক কর্মী নিহত হয়। সে কারণে ইনু ভাইরা কোনো দিন দুঃখ প্রকাশও করেনি। এর প্রতিক্রিয়ায় আমাদের কিছু উত্তেজিত কর্মী শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ইনু ভাইকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় আমরা ও রাজনৈতিক নেতারা দ্রুত জাসদ অফিসে যেয়ে দুঃখ প্রকাশ করি। যা হোক, এরপরে তো আমি ছাত্র আন্দোলন থেকে বিদায় নেই।

তারও ছয় বছর পরে আমি চাকরিতে যোগদান করার ৫/৬ মাসের মধ্যেই ইনু ভাইয়ের সাথে দেখা আমার কর্মস্থলে। উনি ঐ একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওনাদের এক প্রাক্তন সহকর্মী ও প্রাক্তন সংসদ সদস্যের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। আমাকে দেখে হাসিমুখে বললেন, আপনি এখানে কী করেন? আমি বললাম, আমি তো এই প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দিয়েছি। ইনু ভাইয়ের মুখটা মলিন হয়ে গেলো এবং এক দৃষ্টিতে আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে হতাশার সুরে বললেন, ‘আপনারা এভাবে রাজনীতি থেকে সরে গেলে আমরা আর কিভাবে এগোবো! সমস্যা থাকলে তো আমাদের সাথেও আলাপ করতে পারতেন। আমরাও তো পর নই।’ এর পরে এ পর্যন্ত আর কখনো ইনু ভাইয়ের সাথে দেখা হয়নি। কিন্তু সেদিনের তার চাহনির মাঝে যে আকুতি — যাতে রাজনীতি ছেড়ে না যাই, আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রতি তার যে সম্মানবোধ —তা আজও ভুলি নি। আমি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসায় আমার এক সহোদর আর বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু ছাড়া আর কেউ এরকম প্রতিক্রিয়া অন্তত আমার সামনে প্রকাশ করেন নি। ইতিপূর্বে জিয়া আমলে হাসানুল হক ইনু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেলেও সাড়ে চার বছরের মধ্যেই মুক্তি পান। কারাবন্দী কিংবা আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হওয়া আরো অনেকের সাথেই তো রয়েছে রাজনৈতিক সংগ্রামের নানা স্মৃতি যা স্বল্প পরিসরের এ লেখায় উল্লেখ করা সম্ভব হলো না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে উল্লেখ করেছে, ‘হাসানুল হক ইনু নিজে কাউকে হত্যা করেছেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব বা অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করেননি।’ রায়ে বলা হয়েছে, ‘ইনুর উপস্থিতিতে কোনো ফৌজদারি অপরাধ (ক্রিমিনাল অফেন্স) ঘটেনি’। তাহলে আশি ছুঁইছুঁই বছরের মুক্তিযোদ্ধা ইনুকে কেনো সাজা? তিনি রাজনৈতিকভাবে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচির বিরোধী ছিলেন এবং কঠোরভাবে তার সমালোচনা করতেন। আর জামায়াত ইসলামকে নিষিদ্ধ করার দাবি তো দেশের সংবিধানই তাকে দিয়ে রেখেছে। কী আছে আমাদের সংবিধানে? এটাই আছে যে, মুক্তিযুদ্ধ হলো ‘একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের সহযোগী জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, রাজাকার, আলবদর এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ’। তাই মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনু হানাদার বাহিনীর সহযোগীদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি করতেই পারেন। তবে কোটা-বিরোধী ন্যায্য আন্দোলনের সময়ে এ দাবি উত্থাপন কতটা যুক্তিযুক্ত ছিলো, সে আলোচনা ভিন্ন। পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে এটাই মনে হয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই তাকে দণ্ড দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে তো দীর্ঘকাল যাবত ‘রাজবন্দী’ কথাটার কোনো অস্তিত্ব নেই। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের শাসনকালে রাজনৈতিক কারণে যাদের আটক করা হতো, তাদেরকে কারাগারে রাজবন্দী হিসেবে পৃথক কার্ড ও মর্যাদা দেয়া হত। কিন্তু বাংলাদেশে প্রায় সব সরকারের আমলেই কম আর বেশি রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক, গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অপসংস্কৃতি চলে আসছে। জুলাইয়ের গল্পে তো বলা হয়েছিলো এ ধারার অবসান হবে। কিন্তু হলো কই? একই ধারা চলছে ভিন্ন রূপে, ভিন্ন ঢঙে। কাউকে ‘দোসর’ আখ্যায়িত করার কোনো রকম সুযোগ থাকলেই, তার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে খুনের মামলা।

‘রাজবন্দীর চিঠি’ গল্পের এক জায়গায় কবি নজরুল বন্দী জীবনের পরিস্থিতি কবিতা আকারে ব্যাখ্যা করে লিখেছেন: ‘অপমান কেনা শুধু! প্রাণ দিলে পায়ে দলে যাবে তোর প্রাণ! / শুধু অনাদর শুধু অবহেলা শুধু অপমান! / ভালোবাসা? সে শুধু কথার কথা রে!’ আমার মনে প্রায়শই প্রশ্ন জাগে, শুধু সাইফুল হকের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নয়, সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন কেন রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু সহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবি করছে না। তারা কি মেনন ভাই ও ইনু ভাইকে খুনী মনে করেন? নিশ্চয়ই নয়। তাহলে কেনো ‘শুধু অনাদর শুধু অবহেলা শুধু অপমান!’। কেনো দীর্ঘ সময়ের রাজপথের সাথীদের কাছে ‘ ভালোবাসা? — সে শুধু কথার কথা রে!’

রাজনৈতিক ভুলের শাস্তি তো রাজনৈতিকভাবে হয়। ব্যক্তিগত বা দলগত নৈতিক দায়ের শাস্তিও নিশ্চয়ই পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা খুনের মামলার আসামি সাজিয়ে দেয়া যায় না। এক সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতাদের, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের বছরের পর বছর মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হবে আর শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকায় একসময়ের সহযোদ্ধারা চেয়ে চেয়ে দেখবে? অনেক সময় পার হয়েছে, বাম গণতান্ত্রিক শক্তি আওয়াজ তুলুক — রাজবন্দীদের মুক্তি চাই। মুক্তি চাই।

জানতে পারলাম, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের উপর প্রথমে যুবদল মব হামলা করেছে এবং পরে পুলিশ এসে হামলাকারীদের সাথে মিলিতভাবে একে একে প্রতিনিধিদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের অপরাধ তারা ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়েছেন। শাসকদলের প্ল্যানে তো জয়বাংলা শ্লোগান নিষিদ্ধের কথা শোনা যায়নি। নাকি ‘জয় বাংলা’ শুধুমাত্র ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের’ জন‍্য বরাদ্দ! আর কেউ উচ্চারণ করতে পারবে না। কি জানি কি প্ল্যান!

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত