আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র বাংলাদেশ থেকে নারী-পুরুষদের ভিজিট ভিসা বা কনফারেন্সে যাওয়ার কথা বলে প্রথমে নেপালে নিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে চীন, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাচারের চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সতর্কতামূলক চিঠি পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায় ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে। সঠিক ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি সরকারের বিভিন্ন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
দূতাবাসের চিঠিতে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণী পর্যটক হিসেবে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা নিয়ে নেপালে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে কাঠমুন্ডু হয়ে তারা চীনে যাচ্ছেন। এসব যাত্রী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চীনা নাগরিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা বলে যাচ্ছেন। এই সফরকারীরা মানব পাচারের শিকার হতে পারেন এবং চীনে পৌঁছানোর পর তাদের বিক্রি হয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকার বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন অফিসারের যেকোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে তারা সরাসরি বাংলাদেশ থেকে চীনে না গিয়ে বাংলাদেশ-নেপাল-চীন রুট বেছে নিচ্ছেন। তাদের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত বিবাহ সনদও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিবাহ সনদের সত্যায়ন জাল বলেও প্রমাণিত হয়েছে।
সম্প্রতি দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এমন দুই বাংলাদেশি নারীর (মুইমায়নু ও পুইয়াং মারমা) সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা মানব পাচারের শিকার হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কাঠমুন্ডু থেকে চীন যাওয়ার সময় নেপাল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে দূতাবাসে পাঠায়। তাদের সঙ্গে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ কথা বলছে। চীনে যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করছে। তারা চীনা ভাষা জানেন না, স্বামী চীনের কোথায় থাকেন সেই জায়গার নামও বলতে পারছেন না। এমনকি বাংলাদেশ থেকে সরাসরি চীনে যাচ্ছেন না কেন, এই প্রশ্নের সঠিক জবাবও দিতে পারছেন না।
তাদের বৈবাহিক সনদের ই-অ্যাপোস্টিল জাল বলেও সনাক্ত হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে নানা গরমিল পাওয়া যায়। এরপরও তারা দাবি করছেন, স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে চীন যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষিতে নেপালের রাষ্ট্রদূত নিজেই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এরপর তাদের বাংলাদেশে ফিরে সরাসরি চীনে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নেপাল ইমিগ্রেশন বিভাগ এই ধরনের ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, ২০২৫ সালে ২৩৮ জন বাংলাদেশি নারী ঢাকা থেকে কাঠমুন্ডু হয়ে চীনে গেছেন। এই ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে দূতাবাসের মতামত জানতে চেয়েছে নেপাল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাই নেপাল ইমিগ্রেশন বিভাগকে পরামর্শ দেওয়ার আগে মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।বিষয়টি বিবেচনায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের তদারকি আরও জোরদার এবং বাংলাদেশ থেকে নেপালে ভ্রমণকারী পর্যটকদের ভ্রমণের কারণ ও যথার্থতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে এসব ঘটনায় দূতাবাসের করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নেপাল দক্ষিণ এশিয়ায় স্ক্যাম সেন্টারের বড় হাব। প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিক নেপাল, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন। এ নিয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কঠোর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ঢাকার চায়না দূতাবাস ১৮২ জন বাংলাদেশি মেয়ের ভুয়া বিবাহ সনদ থাকায় ভিসা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নেপালের জন্য রেজিস্ট্রেশন করে ইতালি ও কানাডায় যাওয়ায় বিমানের কয়েক হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। ঢাকা থেকে নেপাল হয়ে মিশর ও লিবিয়ায় যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি নেপাল পুলিশ ইতালির ভুয়া ভিসায় পাঁচজন বাংলাদেশিকে আটক করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর আরও ২২ জনকে লিবিয়া যাওয়ার সময় আটক করা হয়। কেউ কেউ ঢাকা থেকে নেপাল হয়ে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। নেপালগামী মানবপাচার প্রতিরোধে এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১ থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত মোট ৪৮ হাজার ৮৬ জন বাংলাদেশি ভিজিট ভিসায় নেপাল গমন করেছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৩৭ জন ভিসার মেয়াদ ৩০ দিন শেষ হওয়ার পরও দেশে ফিরে আসেননি।
এদিকে, সম্প্রতি তিনজন নারীকে নেপালে যেতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট তিন নারী নেপাল যেতে চাইলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কনফারেন্সে যাওয়ার উপযুক্ত ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে বললে তারা তা দেখাতে পারেননি। কোথায়, কখন, কোন বিষয়ে কনফারেন্স—তাও সঠিকভাবে বলতে পারেননি। তারা শিক্ষার্থী হিসেবে কোথায় লেখাপড়া ও কোথায় চাকরি করেন, তারও সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের একাধিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছেন, কনফারেন্সে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। তারা তাদের ভ্রমণের বিষয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। তাদের যাত্রা সন্দেহজনক হওয়ায় মানব পাচারের ঝুঁকি এড়াতে তাদের অফ-লোড না করে জিডি মূলে বাহির করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাদের পরবর্তীতে ডকুমেন্ট নিয়ে আবারও যেতে পারবেন বলে জানানো হয়। এরপর তাদের পাসপোর্ট বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের ভেতর থেকে অন্যান্য দেশে রুটের মানচিত্র
ইমিগ্রেশনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ইমিগ্রেশনে কোনো যাত্রীর ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা বিবাহ সম্পর্কিত বিষয়ে জোর দেওয়া হয় না। তবে যাত্রীর নিজস্ব আয় না থাকলে ভ্রমণ ব্যয় কে বহন করবে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রশ্ন করা হতে পারে। যাত্রীরা তাদের যেতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে এসবির অতিরিক্ত আইজিপি বরাবর অভিযোগ করেছেন। শাহজালাল বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে কর্মরত একজন অ্যাডিশনাল এসপি বিষয়টি অনুসন্ধান করছেন।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র বাংলাদেশ থেকে নারী-পুরুষদের ভিজিট ভিসা বা কনফারেন্সে যাওয়ার কথা বলে প্রথমে নেপালে নিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে চীন, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাচারের চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সতর্কতামূলক চিঠি পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায় ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে। সঠিক ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি সরকারের বিভিন্ন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
দূতাবাসের চিঠিতে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণী পর্যটক হিসেবে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা নিয়ে নেপালে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে কাঠমুন্ডু হয়ে তারা চীনে যাচ্ছেন। এসব যাত্রী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চীনা নাগরিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা বলে যাচ্ছেন। এই সফরকারীরা মানব পাচারের শিকার হতে পারেন এবং চীনে পৌঁছানোর পর তাদের বিক্রি হয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকার বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন অফিসারের যেকোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে তারা সরাসরি বাংলাদেশ থেকে চীনে না গিয়ে বাংলাদেশ-নেপাল-চীন রুট বেছে নিচ্ছেন। তাদের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত বিবাহ সনদও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিবাহ সনদের সত্যায়ন জাল বলেও প্রমাণিত হয়েছে।
সম্প্রতি দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এমন দুই বাংলাদেশি নারীর (মুইমায়নু ও পুইয়াং মারমা) সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা মানব পাচারের শিকার হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কাঠমুন্ডু থেকে চীন যাওয়ার সময় নেপাল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে দূতাবাসে পাঠায়। তাদের সঙ্গে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ কথা বলছে। চীনে যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করছে। তারা চীনা ভাষা জানেন না, স্বামী চীনের কোথায় থাকেন সেই জায়গার নামও বলতে পারছেন না। এমনকি বাংলাদেশ থেকে সরাসরি চীনে যাচ্ছেন না কেন, এই প্রশ্নের সঠিক জবাবও দিতে পারছেন না।
তাদের বৈবাহিক সনদের ই-অ্যাপোস্টিল জাল বলেও সনাক্ত হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে নানা গরমিল পাওয়া যায়। এরপরও তারা দাবি করছেন, স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে চীন যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষিতে নেপালের রাষ্ট্রদূত নিজেই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এরপর তাদের বাংলাদেশে ফিরে সরাসরি চীনে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নেপাল ইমিগ্রেশন বিভাগ এই ধরনের ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, ২০২৫ সালে ২৩৮ জন বাংলাদেশি নারী ঢাকা থেকে কাঠমুন্ডু হয়ে চীনে গেছেন। এই ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে দূতাবাসের মতামত জানতে চেয়েছে নেপাল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাই নেপাল ইমিগ্রেশন বিভাগকে পরামর্শ দেওয়ার আগে মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।বিষয়টি বিবেচনায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের তদারকি আরও জোরদার এবং বাংলাদেশ থেকে নেপালে ভ্রমণকারী পর্যটকদের ভ্রমণের কারণ ও যথার্থতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে এসব ঘটনায় দূতাবাসের করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নেপাল দক্ষিণ এশিয়ায় স্ক্যাম সেন্টারের বড় হাব। প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিক নেপাল, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন। এ নিয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কঠোর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ঢাকার চায়না দূতাবাস ১৮২ জন বাংলাদেশি মেয়ের ভুয়া বিবাহ সনদ থাকায় ভিসা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নেপালের জন্য রেজিস্ট্রেশন করে ইতালি ও কানাডায় যাওয়ায় বিমানের কয়েক হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। ঢাকা থেকে নেপাল হয়ে মিশর ও লিবিয়ায় যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি নেপাল পুলিশ ইতালির ভুয়া ভিসায় পাঁচজন বাংলাদেশিকে আটক করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর আরও ২২ জনকে লিবিয়া যাওয়ার সময় আটক করা হয়। কেউ কেউ ঢাকা থেকে নেপাল হয়ে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। নেপালগামী মানবপাচার প্রতিরোধে এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১ থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত মোট ৪৮ হাজার ৮৬ জন বাংলাদেশি ভিজিট ভিসায় নেপাল গমন করেছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৩৭ জন ভিসার মেয়াদ ৩০ দিন শেষ হওয়ার পরও দেশে ফিরে আসেননি।
এদিকে, সম্প্রতি তিনজন নারীকে নেপালে যেতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট তিন নারী নেপাল যেতে চাইলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কনফারেন্সে যাওয়ার উপযুক্ত ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে বললে তারা তা দেখাতে পারেননি। কোথায়, কখন, কোন বিষয়ে কনফারেন্স—তাও সঠিকভাবে বলতে পারেননি। তারা শিক্ষার্থী হিসেবে কোথায় লেখাপড়া ও কোথায় চাকরি করেন, তারও সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের একাধিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছেন, কনফারেন্সে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। তারা তাদের ভ্রমণের বিষয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। তাদের যাত্রা সন্দেহজনক হওয়ায় মানব পাচারের ঝুঁকি এড়াতে তাদের অফ-লোড না করে জিডি মূলে বাহির করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাদের পরবর্তীতে ডকুমেন্ট নিয়ে আবারও যেতে পারবেন বলে জানানো হয়। এরপর তাদের পাসপোর্ট বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের ভেতর থেকে অন্যান্য দেশে রুটের মানচিত্র
ইমিগ্রেশনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ইমিগ্রেশনে কোনো যাত্রীর ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা বিবাহ সম্পর্কিত বিষয়ে জোর দেওয়া হয় না। তবে যাত্রীর নিজস্ব আয় না থাকলে ভ্রমণ ব্যয় কে বহন করবে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রশ্ন করা হতে পারে। যাত্রীরা তাদের যেতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে এসবির অতিরিক্ত আইজিপি বরাবর অভিযোগ করেছেন। শাহজালাল বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে কর্মরত একজন অ্যাডিশনাল এসপি বিষয়টি অনুসন্ধান করছেন।

আপনার মতামত লিখুন