সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি কেন্দ্রিক একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার, যেখানে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথভাবে কাজ করার বড় সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘দ্বিতীয় চায়না-বাংলাদেশ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় গোলটেবিল বৈঠক’-এ তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ, সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।
সম্মেলনে সমুদ্র অর্থনীতির ঐতিহাসিক পটভূমি স্মরণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "আমাদের দ্বিতীয় বড় সম্পদ হলো ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি। ১৯৮১ সালের ১৭ জানুয়ারি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেরা শিক্ষক, শিল্পী, অধ্যাপক ও ছাত্রদের নিয়ে বঙ্গোপসাগরে একটি সফর করেছিলেন। 'হিজবুল বহর' নামের একটি জাহাজে আয়োজিত সেই সফরে আমিও উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি আমাদের দেখিয়েছিলেন কীভাবে সমুদ্রের তলদেশের সম্পদ অনুসন্ধান ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায়। সেখানে আমরা দুই রাত তিন দিন অবস্থান করেছিলাম।"
বিশাল সামুদ্রিক সীমানার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশে ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন রয়েছে, যা এক লাখ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
এই বিশাল সমুদ্রে অশেষ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বর্তমানে চীনা গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণার জন্য সমুদ্র অর্থনীতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। বর্তমান সরকার সমুদ্র অর্থনীতি ও সার্কুলার ইকোনমি কেন্দ্রিক বিশেষায়িত গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে।"
দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক বহু বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। আবহাওয়া যাই হোক না কেন, আকাশ রোদঝলমলে থাকুক, মেঘলা থাকুক, ঝড় বা বৃষ্টি হোক, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সবসময় অটুট ও চলমান।"
জনসংখ্যাকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তরিত করার ওপর তাগিদ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "একসময় চীনও উচ্চ জনসংখ্যার দেশ ছিল। পরবর্তীতে তারা এই জনসংখ্যাকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করেছে এবং আজকের বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। আমাদের দেশেও বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে। আমরা প্রায়ই বলি, আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। কিন্তু চীনের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের জনসংখ্যাই প্রধান সম্পদে পরিণত হতে পারে। এখন সময় এসেছে আমাদের জনমিতিক সুবিধার সঠিক সদ্ব্যবহার করার।"
দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, "আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানবসম্পদ। আমাদের দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষই কর্মক্ষম যুবসমাজ। ১৮ কোটি মানুষের এই জনমিতিক সুবিধা আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে যখন জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের কাছে রয়েছে একটি তরুণ ও প্রাণবন্ত জনগোষ্ঠী।"
চীনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার অগ্রগতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ড. মিলন বলেন, "সম্প্রতি আমি চীন সফর করেছিলাম দেখার জন্য যে তারা কীভাবে প্রযুক্তির সহায়তায় জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করেছে। শিল্পখাত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারা যে সমন্বয় গড়ে তুলেছে তা প্রশংসনীয়।"
দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও টেকসই সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রযুক্তিগত শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি কেন্দ্রিক একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার, যেখানে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথভাবে কাজ করার বড় সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘দ্বিতীয় চায়না-বাংলাদেশ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় গোলটেবিল বৈঠক’-এ তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ, সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।
সম্মেলনে সমুদ্র অর্থনীতির ঐতিহাসিক পটভূমি স্মরণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "আমাদের দ্বিতীয় বড় সম্পদ হলো ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি। ১৯৮১ সালের ১৭ জানুয়ারি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেরা শিক্ষক, শিল্পী, অধ্যাপক ও ছাত্রদের নিয়ে বঙ্গোপসাগরে একটি সফর করেছিলেন। 'হিজবুল বহর' নামের একটি জাহাজে আয়োজিত সেই সফরে আমিও উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি আমাদের দেখিয়েছিলেন কীভাবে সমুদ্রের তলদেশের সম্পদ অনুসন্ধান ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায়। সেখানে আমরা দুই রাত তিন দিন অবস্থান করেছিলাম।"
বিশাল সামুদ্রিক সীমানার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশে ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন রয়েছে, যা এক লাখ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
এই বিশাল সমুদ্রে অশেষ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বর্তমানে চীনা গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণার জন্য সমুদ্র অর্থনীতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। বর্তমান সরকার সমুদ্র অর্থনীতি ও সার্কুলার ইকোনমি কেন্দ্রিক বিশেষায়িত গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে।"
দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক বহু বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। আবহাওয়া যাই হোক না কেন, আকাশ রোদঝলমলে থাকুক, মেঘলা থাকুক, ঝড় বা বৃষ্টি হোক, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সবসময় অটুট ও চলমান।"
জনসংখ্যাকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তরিত করার ওপর তাগিদ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "একসময় চীনও উচ্চ জনসংখ্যার দেশ ছিল। পরবর্তীতে তারা এই জনসংখ্যাকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করেছে এবং আজকের বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। আমাদের দেশেও বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে। আমরা প্রায়ই বলি, আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। কিন্তু চীনের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের জনসংখ্যাই প্রধান সম্পদে পরিণত হতে পারে। এখন সময় এসেছে আমাদের জনমিতিক সুবিধার সঠিক সদ্ব্যবহার করার।"
দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, "আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানবসম্পদ। আমাদের দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষই কর্মক্ষম যুবসমাজ। ১৮ কোটি মানুষের এই জনমিতিক সুবিধা আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে যখন জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের কাছে রয়েছে একটি তরুণ ও প্রাণবন্ত জনগোষ্ঠী।"
চীনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার অগ্রগতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ড. মিলন বলেন, "সম্প্রতি আমি চীন সফর করেছিলাম দেখার জন্য যে তারা কীভাবে প্রযুক্তির সহায়তায় জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করেছে। শিল্পখাত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারা যে সমন্বয় গড়ে তুলেছে তা প্রশংসনীয়।"
দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও টেকসই সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রযুক্তিগত শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন