সংবাদ

একদিনের ব্যবধানেই ফের সূচকের পতন শেয়ারবাজারে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

একদিনের ব্যবধানেই ফের সূচকের পতন শেয়ারবাজারে
ছ‌বি: সংগৃ‌হিত

​টানা চার দিন দরপতনের পর বুধবার সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে আবারো পতনের মুখে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার।

১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক নিচের দিকে নেমে গেছে। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দরপতন ঘটলেও সার্বিক সূচকে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
​এদিন সকালে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরবৃদ্ধির মাধ্যমে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়েছিল। শুরুর এই ইতিবাচক ধারায় মূল্যসূচক বাড়লেও প্রথম ঘণ্টা পার হতেই বদলে যায় বাজারের গতিপথ। বিক্রেতার চাপ বাড়ায় একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে এবং দিনের শেষ পর্যন্ত এই প্রবণতাই বজায় থাকে। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ২৪২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের দর।
​বাজারের শ্রেণিভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো বা ‘এ’ ক্যাটাগরির ৩২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৪১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টি কোম্পানির দর।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ৪৯টি। অন্যদিকে ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত বা লভ্যাংশ না দেওয়া ৩৩টি কোম্পানির দর বাড়লেও কমেছে ৫২টির। এর পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড খাতের মাত্র ১টি ফান্ডের দর বেড়েছে, যার বিপরীতে ২৩টির দর কমেছে এবং ৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
​বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩১ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকেছে। একইভাবে বাছাই করা ৩০টি সেরা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০০ পয়েন্টে।
​সূচকের পতন হলেও ডিএসইতে আগের কার্যদিবসের তুলনায় কেনাবেচার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। আজ ডিএসইতে মোট ৭২৩ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৬৯৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ২৪ কোটি টাকা।
ডিএসইর লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল আইপিডিসি ফাইন্যান্সের, যার ৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে ৪৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা নিয়ে মালেক স্পিনিং এবং ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে তৃতীয় স্থানে ছিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। শীর্ষ ১০ লেনদেনকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সায়হাম টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সায়হাম কটন, ইভিন্স টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল ও আর্গন ডেনিমস।
​এদিকে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১টির দর বেড়েছে, ৮৪টির দর কমেছে এবং ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দর হারানোর তালিকা দীর্ঘ হলেও সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়েছে।
তবে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সিএসইতে আজ মোট ১৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা গত কার্যদিবসে ছিল ৪৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


একদিনের ব্যবধানেই ফের সূচকের পতন শেয়ারবাজারে

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

​টানা চার দিন দরপতনের পর বুধবার সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে আবারো পতনের মুখে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার।

১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক নিচের দিকে নেমে গেছে। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দরপতন ঘটলেও সার্বিক সূচকে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
​এদিন সকালে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরবৃদ্ধির মাধ্যমে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়েছিল। শুরুর এই ইতিবাচক ধারায় মূল্যসূচক বাড়লেও প্রথম ঘণ্টা পার হতেই বদলে যায় বাজারের গতিপথ। বিক্রেতার চাপ বাড়ায় একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে এবং দিনের শেষ পর্যন্ত এই প্রবণতাই বজায় থাকে। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ২৪২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের দর।
​বাজারের শ্রেণিভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো বা ‘এ’ ক্যাটাগরির ৩২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৪১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টি কোম্পানির দর।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ৪৯টি। অন্যদিকে ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত বা লভ্যাংশ না দেওয়া ৩৩টি কোম্পানির দর বাড়লেও কমেছে ৫২টির। এর পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড খাতের মাত্র ১টি ফান্ডের দর বেড়েছে, যার বিপরীতে ২৩টির দর কমেছে এবং ৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
​বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩১ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকেছে। একইভাবে বাছাই করা ৩০টি সেরা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০০ পয়েন্টে।
​সূচকের পতন হলেও ডিএসইতে আগের কার্যদিবসের তুলনায় কেনাবেচার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। আজ ডিএসইতে মোট ৭২৩ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৬৯৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ২৪ কোটি টাকা।
ডিএসইর লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল আইপিডিসি ফাইন্যান্সের, যার ৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে ৪৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা নিয়ে মালেক স্পিনিং এবং ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে তৃতীয় স্থানে ছিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। শীর্ষ ১০ লেনদেনকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সায়হাম টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সায়হাম কটন, ইভিন্স টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল ও আর্গন ডেনিমস।
​এদিকে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১টির দর বেড়েছে, ৮৪টির দর কমেছে এবং ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দর হারানোর তালিকা দীর্ঘ হলেও সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়েছে।
তবে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সিএসইতে আজ মোট ১৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা গত কার্যদিবসে ছিল ৪৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত