সংবাদ

পুঁজিবাজারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

পুঁজিবাজারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
ছ‌বি: সংগৃ‌হিত

দেশের পুঁজিবাজারকে সাধারণ বা খুচরা বিনিয়োগকারীনির্ভরতা থেকে বের করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীভিত্তিক বাজারে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারের প্রশাসনিক ও লেনদেন সংক্রান্ত প্রতিটি ধাপে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বা অটোমেশন চালুর মাধ্যমে কাগজবিহীন লেনদেন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
​আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ প্রদান করেন।
​অনুষ্ঠানে আইসিবির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইসিবি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাজারভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলা। সাধারণ মানুষের সঞ্চয় আইসিবির মাধ্যমে মূলধন বাজারে এনে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।"
​পুঁজিবাজারের বর্তমান কাঠামোগত পরিবর্তন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত রিটেইল বা খুচরা বিনিয়োগকারীনির্ভর। অথচ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ক্যাপিটাল মার্কেট বা পুঁজিবাজার প্রধানত ইনস্টিটিউশনাল বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে রিটেইল-বেসড বা খুচরাভিত্তিক অবস্থা থেকে ইনস্টিটিউশনাল-বেসড বা প্রাতিষ্ঠানিকভিত্তিক বাজারে রূপান্তরে আইসিবিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।"
​প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়ন ও পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী আইসিবিকে প্রথাগত ধারা থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক, প্রতিযোগিতামূলক এবং পেশাদার একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা প্রদান করেন।
​অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)সহ আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হবে না।"
​ডিজিটাল রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "এসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজ এবং আইসিবিসহ পুঁজিবাজারের প্রতিটি স্তরে শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।"
'নো পেপার ট্রানজেকশন, নাথিং পেপার' নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, এখন থেকে লিস্টিং আবেদন, অনুমোদন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের যাবতীয় প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।
​আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক পুঁজি আকর্ষণের বিষয়ে সম্প্রতি নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে বিশ্বমানের ১৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতঃরাশ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেট ফান্ড, ক্লাইমেট ফান্ডিং ও ডেরিভেটিভস পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে বৈশ্বিক পুঁজি আনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।"
এই প্রেক্ষাপটে তিনি দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে এসে বৈশ্বিক মানের আর্থিক চর্চায় অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
​পরিশেষে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আইসিবি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি আধুনিক, বৈশ্বিক মানসম্পন্ন ও দক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে।
​আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


পুঁজিবাজারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের পুঁজিবাজারকে সাধারণ বা খুচরা বিনিয়োগকারীনির্ভরতা থেকে বের করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীভিত্তিক বাজারে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারের প্রশাসনিক ও লেনদেন সংক্রান্ত প্রতিটি ধাপে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বা অটোমেশন চালুর মাধ্যমে কাগজবিহীন লেনদেন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
​আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ প্রদান করেন।
​অনুষ্ঠানে আইসিবির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইসিবি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাজারভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলা। সাধারণ মানুষের সঞ্চয় আইসিবির মাধ্যমে মূলধন বাজারে এনে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।"
​পুঁজিবাজারের বর্তমান কাঠামোগত পরিবর্তন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত রিটেইল বা খুচরা বিনিয়োগকারীনির্ভর। অথচ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ক্যাপিটাল মার্কেট বা পুঁজিবাজার প্রধানত ইনস্টিটিউশনাল বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে রিটেইল-বেসড বা খুচরাভিত্তিক অবস্থা থেকে ইনস্টিটিউশনাল-বেসড বা প্রাতিষ্ঠানিকভিত্তিক বাজারে রূপান্তরে আইসিবিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।"
​প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়ন ও পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী আইসিবিকে প্রথাগত ধারা থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক, প্রতিযোগিতামূলক এবং পেশাদার একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা প্রদান করেন।
​অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)সহ আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হবে না।"
​ডিজিটাল রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "এসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজ এবং আইসিবিসহ পুঁজিবাজারের প্রতিটি স্তরে শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।"
'নো পেপার ট্রানজেকশন, নাথিং পেপার' নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, এখন থেকে লিস্টিং আবেদন, অনুমোদন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের যাবতীয় প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।
​আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক পুঁজি আকর্ষণের বিষয়ে সম্প্রতি নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে বিশ্বমানের ১৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতঃরাশ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেট ফান্ড, ক্লাইমেট ফান্ডিং ও ডেরিভেটিভস পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে বৈশ্বিক পুঁজি আনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।"
এই প্রেক্ষাপটে তিনি দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে এসে বৈশ্বিক মানের আর্থিক চর্চায় অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
​পরিশেষে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আইসিবি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি আধুনিক, বৈশ্বিক মানসম্পন্ন ও দক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে।
​আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত