সংবাদ

দ্বিগুণ খরচে পূজার আনন্দ ফিকে মৃৎশিল্পীদের সংসারে


প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি
প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

 দ্বিগুণ খরচে পূজার আনন্দ ফিকে মৃৎশিল্পীদের সংসারে
উপকরণ ও রঙের দাম দ্বিগুণ বাড়লেও প্রতিমার সম্মানি না বাড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কারিগরেরা। ছবি : সংবাদ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে মৃৎশিল্পীদের দম ফেলার ফুসরত নেই। খড়, মাটি আর বাঁশের খাঁচা পেরিয়ে প্রতিমায় এখন পড়ছে তুলির শেষ আঁচড়। মণ্ডপে মণ্ডপে সময়মতো দেবী প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন কারিগরেরা। তবে নিত্যপণ্যের বাজারে প্রতিমা তৈরির আনুষঙ্গিক উপকরণের দাম দ্বিগুণ বাড়লেও তাদের মেলেনি কাঙ্ক্ষিত পারিশ্রমিক।

স্থানীয় মণ্ডপ ও কারখানাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মৃৎশিল্পীদের নিখুঁত হাতের স্পর্শে জীবন্ত হয়ে উঠছে দেবী দুর্গা ও তার সন্তানরা। তবে চোখজুড়ানো এই রূপ দেওয়ার নেপথ্যে লুকিয়ে আছে কারিগরদের জমানো ক্ষোভ ও হতাশা। মাটি, বাঁশ, দড়ি, সুতা, কাপড় ও রং থেকে শুরু করে সহযোগী কারিগরদের দৈনিক মজুরি–সবকিছুর দামই গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। অথচ পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর বাজেট বা সম্মানি বাড়েনি বললেই চলে। বাড়তি খরচ সামাল দিয়ে লাভ তো দূরের কথা, পারিশ্রমিক তোলা নিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন কারিগরেরা।

প্রতিমা তৈরির কারিগর বাবলু পাল বিষণ্ণ গলায় বলেন, ‘সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। বাঁশ, মাটি, রং কিনতে গিয়ে যে টাকা খরচ হচ্ছে, কাজ শেষে আমাদের হাতে তেমন কিছুই থাকছে না। আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলাতে না পেরে সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।’

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ‘ঘোটকে’ অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে, যা সামাজিক ও প্রাকৃতিক দিক থেকে অশুভ বলে গণ্য করা হয়। তবে দেবীর গমন হবে ‘নৌকায়’, যা বার্তা নিয়ে আসবে শুভ সূচনার।

পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খাগড়াছড়ি জেলায় ৬৮টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। এর মধ্যে ৫টি মণ্ডপে ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মণ্ডপগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি অশোক মজুমদার জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব যাতে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয়, সেজন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার থাকবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


দ্বিগুণ খরচে পূজার আনন্দ ফিকে মৃৎশিল্পীদের সংসারে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে মৃৎশিল্পীদের দম ফেলার ফুসরত নেই। খড়, মাটি আর বাঁশের খাঁচা পেরিয়ে প্রতিমায় এখন পড়ছে তুলির শেষ আঁচড়। মণ্ডপে মণ্ডপে সময়মতো দেবী প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন কারিগরেরা। তবে নিত্যপণ্যের বাজারে প্রতিমা তৈরির আনুষঙ্গিক উপকরণের দাম দ্বিগুণ বাড়লেও তাদের মেলেনি কাঙ্ক্ষিত পারিশ্রমিক।

স্থানীয় মণ্ডপ ও কারখানাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মৃৎশিল্পীদের নিখুঁত হাতের স্পর্শে জীবন্ত হয়ে উঠছে দেবী দুর্গা ও তার সন্তানরা। তবে চোখজুড়ানো এই রূপ দেওয়ার নেপথ্যে লুকিয়ে আছে কারিগরদের জমানো ক্ষোভ ও হতাশা। মাটি, বাঁশ, দড়ি, সুতা, কাপড় ও রং থেকে শুরু করে সহযোগী কারিগরদের দৈনিক মজুরি–সবকিছুর দামই গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। অথচ পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর বাজেট বা সম্মানি বাড়েনি বললেই চলে। বাড়তি খরচ সামাল দিয়ে লাভ তো দূরের কথা, পারিশ্রমিক তোলা নিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন কারিগরেরা।

প্রতিমা তৈরির কারিগর বাবলু পাল বিষণ্ণ গলায় বলেন, ‘সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। বাঁশ, মাটি, রং কিনতে গিয়ে যে টাকা খরচ হচ্ছে, কাজ শেষে আমাদের হাতে তেমন কিছুই থাকছে না। আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলাতে না পেরে সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।’

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ‘ঘোটকে’ অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে, যা সামাজিক ও প্রাকৃতিক দিক থেকে অশুভ বলে গণ্য করা হয়। তবে দেবীর গমন হবে ‘নৌকায়’, যা বার্তা নিয়ে আসবে শুভ সূচনার।

পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খাগড়াছড়ি জেলায় ৬৮টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। এর মধ্যে ৫টি মণ্ডপে ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মণ্ডপগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি অশোক মজুমদার জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব যাতে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয়, সেজন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার থাকবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত